কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শরণার্থী আব্দু রহমান, নিজে রোহিঙ্গা হলেও সন্তানের জন্যে বানিয়েছেন বাংলাদেশী জন্মনিবন্ধন।
এবার রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন রেখে ভুয়া তথ্য বানানো জন্মনিবন্ধন দিয়ে নিজের সন্তানের জাতীয় পরিচয় পত্র তথা বাংলাদেশী এনআইডি কার্ড বানাতে মরিয়া রোহিঙ্গা আব্দু রহমান।
সূত্র বলছে, উখিয়ার কুতুপালং রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পের আশ্রিত শরণার্থী আব্দু রহমান নিজের ছেলে রিদুয়ানের নাম পরিবর্তন করে ‘আব্বাস’ নামে একটি ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করেছেন। সেখানে পিতা-মাতার পরিচয়ও বদলে দেয়া হয়েছে। নতুন জন্মনিবন্ধনে পিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে শামশুল আলম এবং মাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নুর জাহান নামের একজন নারীকে।
জন্মস্থান হিসেবে দেখানো হয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া এলাকা।
অনুসন্ধনে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। নিবন্ধনে ‘মা’ হিসেবে দেখানো নুর জাহান আসলে ঘুমধুম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তুমব্রু এলাকার বাসিন্দা। নামের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের কোন মিল পাওয়া যায়নি। ছবিতে থাকা মহিলার নাম গুলতাজ বেগম।
স্থানীয়দের দাবি, তার ‘আব্বাস’ নামের কোনো সন্তান নেই। ফলে জন্মনিবন্ধনে দেয়া তথ্য সম্পূর্ণ জাল বলে মনে করছেন তারা।
শুধু ছেলেই নয়—অভিযোগ রয়েছে, আব্দু রহমান নিজের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের পরিচয় পরিবর্তন করে ভুয়া নিবন্ধন করেছেন।
ইতোমধ্যে এসব অভিযোগ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের হাতে আছে বলে জানা গেছে।
কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের একাধিক রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,
আব্দু রহমান ও তার পরিবার বর্তমানে নিবন্ধিত ক্যাম্পের ই-ব্লকের ৪ নম্বর সেডের ৪ নম্বর রুমে বসবাস করছেন। তাদের এমআরসি নম্বর ৬১৯৭৫।
রোহিঙ্গা হওয়া সত্বেও “রিদুয়ানকে ‘আব্বাস’ বানিয়ে অন্য পিতামাতার নাম দেয়া সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “যারা পরিচয় জালিয়াতি করে জন্মনিবন্ধন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে”।
এ বিষয়ে আব্দু রহমানের মন্তব্য জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 
























