ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাগরে নিহত কুতুবিয়ার দুই জেলে পরিবার পেলো সহায়তার ৫০ হাজার টাকা উখিয়ায় সেহেরির সময় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি : সালাহউদ্দিন আহমদ গর্জনিয়ায় তাঁতীদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আরেক মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে ‘বাধা নেই’ পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে বিপিসি ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের বড় ধরনের হামলা কক্সবাজারে বাস-মিনিবাস শৃঙ্খলা পরিচালনা কমিটি গঠন ​সালাহউদ্দিন আহমদের ১২ তম গুম দিবস উপলক্ষে ছাত্রদল নেতা ফাহিমুর রহমানের দিনব্যাপী কর্মসূচি খুরুশকুল ও রামুতে ইফতার সামগ্রি বিতরণে এমপি কাজল সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী কক্সবাজার জেলা সংসদের কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত “মানবতার মুক্তির বারতা দিতে মাহে রামাদান প্রতিবছর আমাদের মাঝে আসে” -জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারী সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজারের আলোচনা সভা ও  ইফতার অনুষ্ঠিত “মানবতার মুক্তির বারতা দিতে মাহে রামাদান প্রতিবছর আমাদের মাঝে আসে ” -জেলা আমীর আনোয়ারী কক্সবাজারে শিশুদের পাঁচ দিনের নাট্য কর্মশালা ‘অধিধ্বনি’র

বাহারছড়ার অপহৃত ৪ কিশোরকে ছেড়ে দেয়ার নেপথ্যে মুক্তিপণ নাকি অন্যকিছু!

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নে অপহরণের ছয় দিন পর চার কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে দক্ষিন শীলখালীর পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অপহরণকারীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে তারা পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে ৪ কিশোরকে উদ্ধার করে এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন আছে।

অপহরণকারীরা মুক্তিপণ ছাড়াই তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ওই চার কিশোরকে জিম্মি করেছিল একটি চক্র।

কিম্তু স্থানীয় একটি সূত্র বলছে ভিন্নকথা।সূত্রটি দাবী করছে, মূলত এর পেছনে রয়েছে একজন প্রবাসীর স্ত্রীর পরকিয়া। স্ত্রীর পরকিয়ার বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী স্বামী তার বড় ভাইয়ের পরামর্শে স্ত্রী কে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সেই ক্ষোভ থেকেই সেই প্রবাসীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়।এসময় তার সাথে থাকা বাকী ৩ কিশোরকেও একসঙ্গে ধরে নিয়ে যায়। ৬ দিন পরে কেনো বিনামুক্তিপণে তাদের ছেড়ে দেয়া হলো সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি সূত্রটি। তবে তার ধারণা আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আর পরকিয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে অপহরণকারিদের পরিচয় জেনে যাওয়ায় মালয়েশিয়া পাচার বা হত্যা না করে তাদের ফেরত দিয়ে যায়। এটি কেবল ধারণা এবং এলাকায় এমন গুঞ্জন আছে বলে সূত্রটি জানায়।

৪ কিশোর উদ্ধারের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সাড়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দিয়ে তাদের ফেরত আনা হয়েছে দাবী করে পোস্ট দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অপহৃত মামুন জিয়াদের মা বলেন, নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে টাকা দিবো কিভাবে। নিজেরা চলতে পারিনা সেখানে মুক্তিপণ দেয়ার সামর্থ্য নেই।

অপহৃত আনোয়ারের বড় ভাই মোহাম্মদ আয়াছ বলেন, অপহরণকারীরা ফোন দিয়ে তাদের নিয়ে আসতে বলে। আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। কেউ কোনো টাকা চায়নি।

মুক্তি পাওয়া গিয়াস উদ্দিনের মা জুবাইদা খাতুন বলেন, আমার ছেলে ফিরে এসেছে। মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের ধরে নিয়ে যায়। তবে বয়সে ছোটো হওয়ায় তাদের মারধর করে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

এদিকে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দূর্জয় বিশ্বাস জানান, মুক্তিপণ ছাড়াই অপহৃত ৪ কিশোর কে ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। অপহরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না বা কারা জড়িত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গেলো ৩০ নভেম্বর বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিন শীলখালী এলাকার খেলার মাঠ থেকে ৪ কিশোর ও ২ যুবককে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারী,সেদিনই অপহৃত ২ যুবক তাদের কবল থেকে কৌশলে পালিয়ে আসে। বাকী ৪ কিশোর কে ছয়দিন পর শুক্রবার সকালে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

ট্যাগ :

সাগরে নিহত কুতুবিয়ার দুই জেলে পরিবার পেলো সহায়তার ৫০ হাজার টাকা

বাহারছড়ার অপহৃত ৪ কিশোরকে ছেড়ে দেয়ার নেপথ্যে মুক্তিপণ নাকি অন্যকিছু!

আপডেট সময় : ১১:৩৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নে অপহরণের ছয় দিন পর চার কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে দক্ষিন শীলখালীর পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অপহরণকারীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে তারা পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে ৪ কিশোরকে উদ্ধার করে এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন আছে।

অপহরণকারীরা মুক্তিপণ ছাড়াই তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ওই চার কিশোরকে জিম্মি করেছিল একটি চক্র।

কিম্তু স্থানীয় একটি সূত্র বলছে ভিন্নকথা।সূত্রটি দাবী করছে, মূলত এর পেছনে রয়েছে একজন প্রবাসীর স্ত্রীর পরকিয়া। স্ত্রীর পরকিয়ার বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী স্বামী তার বড় ভাইয়ের পরামর্শে স্ত্রী কে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সেই ক্ষোভ থেকেই সেই প্রবাসীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়।এসময় তার সাথে থাকা বাকী ৩ কিশোরকেও একসঙ্গে ধরে নিয়ে যায়। ৬ দিন পরে কেনো বিনামুক্তিপণে তাদের ছেড়ে দেয়া হলো সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি সূত্রটি। তবে তার ধারণা আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আর পরকিয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে অপহরণকারিদের পরিচয় জেনে যাওয়ায় মালয়েশিয়া পাচার বা হত্যা না করে তাদের ফেরত দিয়ে যায়। এটি কেবল ধারণা এবং এলাকায় এমন গুঞ্জন আছে বলে সূত্রটি জানায়।

৪ কিশোর উদ্ধারের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সাড়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দিয়ে তাদের ফেরত আনা হয়েছে দাবী করে পোস্ট দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অপহৃত মামুন জিয়াদের মা বলেন, নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে টাকা দিবো কিভাবে। নিজেরা চলতে পারিনা সেখানে মুক্তিপণ দেয়ার সামর্থ্য নেই।

অপহৃত আনোয়ারের বড় ভাই মোহাম্মদ আয়াছ বলেন, অপহরণকারীরা ফোন দিয়ে তাদের নিয়ে আসতে বলে। আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। কেউ কোনো টাকা চায়নি।

মুক্তি পাওয়া গিয়াস উদ্দিনের মা জুবাইদা খাতুন বলেন, আমার ছেলে ফিরে এসেছে। মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের ধরে নিয়ে যায়। তবে বয়সে ছোটো হওয়ায় তাদের মারধর করে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

এদিকে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দূর্জয় বিশ্বাস জানান, মুক্তিপণ ছাড়াই অপহৃত ৪ কিশোর কে ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। অপহরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না বা কারা জড়িত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গেলো ৩০ নভেম্বর বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিন শীলখালী এলাকার খেলার মাঠ থেকে ৪ কিশোর ও ২ যুবককে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারী,সেদিনই অপহৃত ২ যুবক তাদের কবল থেকে কৌশলে পালিয়ে আসে। বাকী ৪ কিশোর কে ছয়দিন পর শুক্রবার সকালে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।