ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার রেজুখালে রাতভর প্রার্থনার পর সকালে মিলল কিশোরের মরদেহ আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে ডাকাত মালেকের হামলায় ৪ সাংবাদিক আহত উখিয়ার থাইংখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়, ড্রাম ট্রাক আটক মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা- ইয়াবা ও দুই সঙ্গীসহ পুলিশের জালে যুবদল নেতা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের হাইকোর্টে জামিন

বাঁকখালী নদীর তীরে উচ্ছেদ-নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করল হাইকোর্ট

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর ‘জায়গা উদ্ধারে’ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও উচ্ছেদকৃত মালামাল নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের (বিশেষ মূল এখতিয়ার) যৌথ ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ নির্দেশ দেন।

উচ্ছেদ কার্যক্রমের ‘ভুক্তভোগী’ দাবীদার কক্সবাজারের আইনজীবী এডভোকেট আবদুল খালেক এ বিষয়ে রিট আবেদন (নং-১৫২৬৬/২০২৫) করলে আদালত আদেশ দেন। আদালত নির্দেশনায় বলেছে, সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বাঁকখালী নদী উদ্ধারের নামে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালিত উচ্ছেদ, নিলামসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গত ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাঁকখালী নদী পুনরুদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে কস্তুরাঘাট ও আশপাশ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় বহু ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয় এবং মালামাল জব্দ করে নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযান শুরুর পর থেকেই সেখানে বসবাসকারী স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পেশকারপাড়া ও নুনিয়ার ছড়া এলাকায় স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিআইডব্লিউটিএ। শেষ পর্যন্ত ৫ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে সংস্থাটির বন্দর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

হাইকোর্টে আশ্রয়

উচ্ছেদ অভিযানে ‘ক্ষতিগ্রস্তরা’ দাবি করেন, সঠিক সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই বিআইডব্লিউটিএ তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত দখলদার ও নদীভরাটকারীদের বাদ দিয়ে বছরের পর বছর ধরে বসবাসকারী মানুষজনই উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে ‘ক্ষতিগ্রস্তদের’ পক্ষ থেকে এডভোকেট আবদুল খালেক হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত শুনানির পর রোববার উচ্ছেদ-নিলামসহ সব কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

আদালতের আদেশে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উচ্ছেদে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারগুলো। তারা বলছেন, সরকারের নদী উদ্ধার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও দীর্ঘদিনের বসতি গুঁড়িয়ে দেওয়াটা মানবিক নয়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর কক্সবাজার বন্দর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :

বাঁকখালী নদীর তীরে উচ্ছেদ-নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করল হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ১০:২৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর ‘জায়গা উদ্ধারে’ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও উচ্ছেদকৃত মালামাল নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের (বিশেষ মূল এখতিয়ার) যৌথ ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ নির্দেশ দেন।

উচ্ছেদ কার্যক্রমের ‘ভুক্তভোগী’ দাবীদার কক্সবাজারের আইনজীবী এডভোকেট আবদুল খালেক এ বিষয়ে রিট আবেদন (নং-১৫২৬৬/২০২৫) করলে আদালত আদেশ দেন। আদালত নির্দেশনায় বলেছে, সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বাঁকখালী নদী উদ্ধারের নামে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালিত উচ্ছেদ, নিলামসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গত ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাঁকখালী নদী পুনরুদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে কস্তুরাঘাট ও আশপাশ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় বহু ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয় এবং মালামাল জব্দ করে নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযান শুরুর পর থেকেই সেখানে বসবাসকারী স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পেশকারপাড়া ও নুনিয়ার ছড়া এলাকায় স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিআইডব্লিউটিএ। শেষ পর্যন্ত ৫ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে সংস্থাটির বন্দর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

হাইকোর্টে আশ্রয়

উচ্ছেদ অভিযানে ‘ক্ষতিগ্রস্তরা’ দাবি করেন, সঠিক সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই বিআইডব্লিউটিএ তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত দখলদার ও নদীভরাটকারীদের বাদ দিয়ে বছরের পর বছর ধরে বসবাসকারী মানুষজনই উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে ‘ক্ষতিগ্রস্তদের’ পক্ষ থেকে এডভোকেট আবদুল খালেক হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত শুনানির পর রোববার উচ্ছেদ-নিলামসহ সব কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

আদালতের আদেশে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উচ্ছেদে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারগুলো। তারা বলছেন, সরকারের নদী উদ্ধার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও দীর্ঘদিনের বসতি গুঁড়িয়ে দেওয়াটা মানবিক নয়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর কক্সবাজার বন্দর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।