ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কমলো শীতের দাপট: বাড়বে কবে? এসএসসি ৯৯ ব্যাচের পারিবারিক মিলন মেলা ১৬ জানুয়ারি এমপি প্রার্থী ‘ভাইরাল আবছার’কে ‘হত্যার হুমকি’ দাবি সত্য নয় ভারতে বন্দী জেলে পরিবারকে কোস্ট ফাউন্ডেশনের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান ‎‘জুলাই বার্তাবীর’ সম্মাননা পেলেন পেকুয়ার কৃতিসন্তান ঢাবি শিক্ষার্থী মাহির কাইয়ুম বাইশারীতে অগ্নিকাণ্ডে চার পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই ডজন মামলার আসামী কুতুবদিয়ার মুকুল আটক ভোটের আগেই এমপি হাসনাত! মঞ্জুরুল করতে পারবেন না নির্বাচন কেন কক্সবাজারকে শুধু জেলা হিসেবে দেখলে চলবে না হোয়াইক্যংয়ের কম্বনিয়া পাহাড়ে যুবকের লাশ টেকনাফে এক লাখ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি পেলো ২৩১ প্রতিষ্ঠান চালের গুড়া ছাড়াও তৈরি করা যায় পাটিসাপটা, জেনে নিন রেসিপি জেলায় ১২৩ পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ১৫ হাজার ৫৪ জন: সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার আগের মতো এবার পাতানো নির্বাচন হবে না: সিইসি

“নুইন্যা”র উপস্থিতি দিচ্ছে অশনি সংকেত: মাছ শূন্য হতে পারে সমুদ্র!

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • 1135

‘মাছের খনি’ খ্যাত প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন উপকূলে এখন চলছে মাছের খরা।

গেলো ১ ডিসেম্বর থেকে দ্বীপের আড়াই’শ জেলের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছের বদলে ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে জেলিফিশের মতো দেখতে এক অদ্ভুত প্রাণী।

বিজ্ঞানীদের ভাষায় এর নাম ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’, আর স্থানীয় জেলেরা একে ডাকেন ‘নুইন্যা’ নামে। সাগরে মাছের বদলে এই ক্ষতিকর প্রাণীর আধিক্য দেশের মৎস্য ভান্ডারের জন্য এক বড় অশনিসংকেত।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন? সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল গবেষক দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে জরিপ চালিয়ে এই প্রাণীর বিশাল ঝাঁকের সন্ধান পেয়েছেন। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। এছাড়া প্রকৃতিতে জেলিফিশ ভক্ষণকারী সামুদ্রিক কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়াতেও এদের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

এর ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ। এই ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’ সাগরের মাছের ডিম ও পোনা খেয়ে ফেলে, যার ফলে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার ও বিচরণ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গবেষকরা বলছেন, এটি সাগরের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা ও গবেষণা না হলে ভবিষ্যতে আমাদের সামুদ্রিক মাছের সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

“নুইন্যা”র উপস্থিতি দিচ্ছে অশনি সংকেত: মাছ শূন্য হতে পারে সমুদ্র!

আপডেট সময় : ০৮:০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

‘মাছের খনি’ খ্যাত প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন উপকূলে এখন চলছে মাছের খরা।

গেলো ১ ডিসেম্বর থেকে দ্বীপের আড়াই’শ জেলের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছের বদলে ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে জেলিফিশের মতো দেখতে এক অদ্ভুত প্রাণী।

বিজ্ঞানীদের ভাষায় এর নাম ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’, আর স্থানীয় জেলেরা একে ডাকেন ‘নুইন্যা’ নামে। সাগরে মাছের বদলে এই ক্ষতিকর প্রাণীর আধিক্য দেশের মৎস্য ভান্ডারের জন্য এক বড় অশনিসংকেত।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন? সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল গবেষক দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে জরিপ চালিয়ে এই প্রাণীর বিশাল ঝাঁকের সন্ধান পেয়েছেন। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। এছাড়া প্রকৃতিতে জেলিফিশ ভক্ষণকারী সামুদ্রিক কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়াতেও এদের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

এর ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ। এই ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’ সাগরের মাছের ডিম ও পোনা খেয়ে ফেলে, যার ফলে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার ও বিচরণ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গবেষকরা বলছেন, এটি সাগরের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা ও গবেষণা না হলে ভবিষ্যতে আমাদের সামুদ্রিক মাছের সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।