‘মাছের খনি’ খ্যাত প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন উপকূলে এখন চলছে মাছের খরা।
গেলো ১ ডিসেম্বর থেকে দ্বীপের আড়াই’শ জেলের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছের বদলে ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে জেলিফিশের মতো দেখতে এক অদ্ভুত প্রাণী।
বিজ্ঞানীদের ভাষায় এর নাম ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’, আর স্থানীয় জেলেরা একে ডাকেন ‘নুইন্যা’ নামে। সাগরে মাছের বদলে এই ক্ষতিকর প্রাণীর আধিক্য দেশের মৎস্য ভান্ডারের জন্য এক বড় অশনিসংকেত।
কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন? সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল গবেষক দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে জরিপ চালিয়ে এই প্রাণীর বিশাল ঝাঁকের সন্ধান পেয়েছেন। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। এছাড়া প্রকৃতিতে জেলিফিশ ভক্ষণকারী সামুদ্রিক কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়াতেও এদের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
এর ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ। এই ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’ সাগরের মাছের ডিম ও পোনা খেয়ে ফেলে, যার ফলে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার ও বিচরণ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গবেষকরা বলছেন, এটি সাগরের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা ও গবেষণা না হলে ভবিষ্যতে আমাদের সামুদ্রিক মাছের সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
নোমান অরুপ 

















