ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ছাত্র সমন্বয়ক খুন, নারী সমন্বয়ক পুলিশ হেফাজতে উত্তরা সৃজনশীল সংসদের ঈদ পুনর্মিলনী : সম্প্রীতি আর ভাতৃত্বের বন্ধন চবির চকোরীর “ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান-২০২৬’ সম্পন্ন টেকপাড়ায় মসজিদে ঢুকে মুসল্লীকে ছুরিকাঘাত, যুবক আটক বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন গর্জনিয়া ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি : জানাজা বুধবার সকালে রামু ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটির আহ্বায়ক কমিটি গঠন আদালতের নির্দেশ: টেকনাফের বনভূমিতে পাকাবাড়ি উচ্ছেদ কক্সবাজারে ইয়াসির আরাফাতের একক চিত্র প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের সাড়া, মেয়াদ বাড়ল সংসদের চলতি অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার চকরিয়ায় বকসু পরিবারের ঈদ পুনর্মিলনী সম্পন্ন চকরিয়ায় মসজিদের পুকুরে মিলল যুবতীর মরদেহ সাবেক ছাত্রনেতা আতাউর রহমান কায়সার মারা গেছেন : জানাজা বাদ এশা বায়তুশ শরফে জামিন পেলেন ইনু, মেনন ও বিচারপতি মানিক প্রাইভেটকারের ড্যাশবোর্ডে ২৮ হাজার ইয়াবা, চালক গ্রেপ্তার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি সরকার গ্রহণ করবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
টিআইবি প্রতিবেদন

দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুসের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুস দিয়েছে।

সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুসের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবা পেতে খানা বা পরিবারপ্রতি ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। গড় ঘুসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা ও ব্যাংকখাতে। সেবা পেতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতি ও ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুসের শিকার হয়েছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না–একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।

ফলাফলে আরও বলা হয়, জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘুস বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।

৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ খানা অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার খানাসমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুস দিতে বাধ্য হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিচারিক সেবা পেতে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘুস ১১ হাজার ৭৭৬ টাকা দিতে হয়েছে ভূমি সেবা খাতে। সবচেয়ে বেশি ঘুস ও দুর্নীতি বরিশাল বিভাগে।

৫০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা জানিয়েছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম, মোহাম্মদ বদিউজ্জামান প্রমুখ।

৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুসের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দুর্নীতিবাজদের আগের মতো মানুষ ঘৃণা করে না। দুর্নীতিবাজদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সভাপতি করা হয়।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ছাত্র সমন্বয়ক খুন, নারী সমন্বয়ক পুলিশ হেফাজতে

টিআইবি প্রতিবেদন

দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুসের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুস দিয়েছে।

সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুসের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবা পেতে খানা বা পরিবারপ্রতি ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। গড় ঘুসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা ও ব্যাংকখাতে। সেবা পেতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতি ও ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুসের শিকার হয়েছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না–একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।

ফলাফলে আরও বলা হয়, জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘুস বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।

৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ খানা অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার খানাসমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুস দিতে বাধ্য হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিচারিক সেবা পেতে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘুস ১১ হাজার ৭৭৬ টাকা দিতে হয়েছে ভূমি সেবা খাতে। সবচেয়ে বেশি ঘুস ও দুর্নীতি বরিশাল বিভাগে।

৫০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা জানিয়েছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম, মোহাম্মদ বদিউজ্জামান প্রমুখ।

৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুসের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দুর্নীতিবাজদের আগের মতো মানুষ ঘৃণা করে না। দুর্নীতিবাজদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সভাপতি করা হয়।