ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়া উপজেলা: সংকট ও আগামীর সম্ভাবনা হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন ছাত্রনেতা শাইনুর হোছাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম আটক টেকনাফে শুরু হচ্ছে এফ এফ জি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৬, খেলোয়াড়দের রেজিস্ট্রেশনের আহ্বান টেকনাফে পাচারকারীদের আস্তানা থেকে ৪ অপহৃত উদ্ধার ভুয়া প্রেস রিলিজ নিয়ে সতর্কবার্তা: কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল কমিটি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিবৃতি ডাকাত দলের অভয়ারণ্য ঈদগাঁও-ঈদগড় পাহাড়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান টেকনাফে জেলের জালে ধরা পড়ল ১৬ কেজির কোরাল উখিয়া সীমান্তের শূণ্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা কিশোরের পা বিচ্ছিন্ন প্রিপেইড মিটারে মাসিক চার্জ থাকছে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী সাবেক দুই লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে পুলিশ সুপারের আকষ্মিক পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টার চিরুনি অভিযান: ১৫ ছিনতাইকারী-ডাকাত গ্রেফতার বাণিজ্যের আড়ালে ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
শ্রীলঙ্কার সাহায্য নাকি নিজেদের যোগ্যতা!

টাইগারদের সুপার ফোরে ওঠার লড়াইয়ের ময়নাতদন্ত

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুপার ফোরে উঠেছে—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই দাবি করছেন, শ্রীলঙ্কার জয়ে ভর করেই বাংলাদেশ টিকে গেছে। কিন্তু আসল চিত্রটা ভিন্ন। আফগানিস্তানের ব্যর্থতাই তাদের বিদায়ের কারণ হয়েছে, আর তুলনামূলকভাবে ভালো খেলার ফলেই বাংলাদেশ পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, তারা কোথায় পিছিয়ে গেছে। হংকংয়ের বিপক্ষে বড় জয় ছাড়া তাদের আর কোনো স্মরণীয় সাফল্য নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১৭০ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে ১৮ ওভারের মধ্যেই হেরে বসেছে।

পুরো গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের ব্যাটিং ভর করেছে গুটিকয়েক ইনিংসে। নবীর ৬২, হংকংয়ের বিপক্ষে সাদিক অটলের ৭৩ আর ওমরজাইয়ের ফিফটি ছাড়া আর কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। বেশিরভাগ সময় ব্যাটাররা ২০–৩০ রান তুলতেই হিমশিম খেয়েছেন। বোলিংয়েও প্রত্যাশিত ধার ছিল না। সেরা দশ বোলারের তালিকায় আফগানিস্তানের মাত্র একজন জায়গা পেয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের আছেন তিনজন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দেখিয়েছে তুলনামূলক স্থিতিশীল দলীয় পারফরম্যান্স। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ম্যাচেও জাকের আলি আর শামীম হোসেনের ৪০+ ইনিংস ছিল। হংকংয়ের বিপক্ষে লিটনের ৫৯, আফগানিস্তানের বিপক্ষে তামিমের ৫২ দলের লড়াইকে এগিয়ে নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডু-অর-ডাই ম্যাচে বাংলাদেশ ১৫৫ রান ডিফেন্ড করে জয় পেয়েছে। চাপের ম্যাচে জয়লাভই বলে দেয়, কে মানসিকভাবে বেশি প্রস্তুত ছিল।

এশিয়া কাপ ইতিহাসে বাংলাদেশ একাধিকবার “সবাই হারবে” বলা পরিস্থিতি থেকেও ফাইনালে উঠেছে। এবারও তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সুপার ফোরে গেছে শ্রীলঙ্কার সহায়তায় নয়, বরং নিজেদের কনসিসটেন্ট দলীয় পারফরম্যান্সের কারণেই। আর আফগানিস্তানের অতিরিক্ত শর্ট বল, এক্সট্রা, আর দিশাহীন ব্যাটিংই তাদের বিদায়ের মূল কারণ।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেট মানে খালি কয়েকটা ফ্লেয়ারফুল শট নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখানে মুখ্য। সেই জায়গাতেই বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থেকেছে, আর যোগ্যতর দল হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছে সুপার ফোরে।

ট্যাগ :

উখিয়া উপজেলা: সংকট ও আগামীর সম্ভাবনা

শ্রীলঙ্কার সাহায্য নাকি নিজেদের যোগ্যতা!

টাইগারদের সুপার ফোরে ওঠার লড়াইয়ের ময়নাতদন্ত

আপডেট সময় : ০৮:১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুপার ফোরে উঠেছে—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই দাবি করছেন, শ্রীলঙ্কার জয়ে ভর করেই বাংলাদেশ টিকে গেছে। কিন্তু আসল চিত্রটা ভিন্ন। আফগানিস্তানের ব্যর্থতাই তাদের বিদায়ের কারণ হয়েছে, আর তুলনামূলকভাবে ভালো খেলার ফলেই বাংলাদেশ পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, তারা কোথায় পিছিয়ে গেছে। হংকংয়ের বিপক্ষে বড় জয় ছাড়া তাদের আর কোনো স্মরণীয় সাফল্য নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১৭০ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে ১৮ ওভারের মধ্যেই হেরে বসেছে।

পুরো গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের ব্যাটিং ভর করেছে গুটিকয়েক ইনিংসে। নবীর ৬২, হংকংয়ের বিপক্ষে সাদিক অটলের ৭৩ আর ওমরজাইয়ের ফিফটি ছাড়া আর কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। বেশিরভাগ সময় ব্যাটাররা ২০–৩০ রান তুলতেই হিমশিম খেয়েছেন। বোলিংয়েও প্রত্যাশিত ধার ছিল না। সেরা দশ বোলারের তালিকায় আফগানিস্তানের মাত্র একজন জায়গা পেয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের আছেন তিনজন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দেখিয়েছে তুলনামূলক স্থিতিশীল দলীয় পারফরম্যান্স। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ম্যাচেও জাকের আলি আর শামীম হোসেনের ৪০+ ইনিংস ছিল। হংকংয়ের বিপক্ষে লিটনের ৫৯, আফগানিস্তানের বিপক্ষে তামিমের ৫২ দলের লড়াইকে এগিয়ে নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডু-অর-ডাই ম্যাচে বাংলাদেশ ১৫৫ রান ডিফেন্ড করে জয় পেয়েছে। চাপের ম্যাচে জয়লাভই বলে দেয়, কে মানসিকভাবে বেশি প্রস্তুত ছিল।

এশিয়া কাপ ইতিহাসে বাংলাদেশ একাধিকবার “সবাই হারবে” বলা পরিস্থিতি থেকেও ফাইনালে উঠেছে। এবারও তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সুপার ফোরে গেছে শ্রীলঙ্কার সহায়তায় নয়, বরং নিজেদের কনসিসটেন্ট দলীয় পারফরম্যান্সের কারণেই। আর আফগানিস্তানের অতিরিক্ত শর্ট বল, এক্সট্রা, আর দিশাহীন ব্যাটিংই তাদের বিদায়ের মূল কারণ।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেট মানে খালি কয়েকটা ফ্লেয়ারফুল শট নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখানে মুখ্য। সেই জায়গাতেই বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থেকেছে, আর যোগ্যতর দল হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছে সুপার ফোরে।