ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে ডাকাত মালেকের হামলায় ৪ সাংবাদিক আহত উখিয়ার থাইংখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়, ড্রাম ট্রাক আটক মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা- ইয়াবা ও দুই সঙ্গীসহ পুলিশের জালে যুবদল নেতা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের হাইকোর্টে জামিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কক্সবাজারে আসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ

জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাস থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে। এটি হবে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার। এই লক্ষ্য পূরণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস সুবিধাসহ সবধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পথে।

আজ সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মনজুর কবির ভূঁইয়া। সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস বিভাগ ও এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভা শেষে বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়ে যাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য মেগা প্রকল্পটি ২০২১ সালে হাতে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ ও একটি অত্যাধুনিক নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করবে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের ওপর সম্প্রসারিত ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ের নির্মাণকাজ আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে বা ৩.২৬ কিলোমিটারে, যা দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বে।

প্রাথমিকভাবে বর্তমান টার্মিনাল ভবনটি থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পরে নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি চালু হলে সেটি সর্বাধুনিক সব সুবিধাসম্পন্ন হবে এবং যেকোনো আকারের বড় বিমান অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আমরা প্রতিনিয়ত রানওয়ে, লাইটিং সিস্টেম, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করছি।’

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো কক্সবাজারকে ইন্দোনেশিয়ার বালির মতো একটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করা। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এটি আঞ্চলিক পর্যটনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং দেশের পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ট্যাগ :

জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাস থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে। এটি হবে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার। এই লক্ষ্য পূরণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস সুবিধাসহ সবধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পথে।

আজ সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মনজুর কবির ভূঁইয়া। সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস বিভাগ ও এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভা শেষে বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়ে যাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য মেগা প্রকল্পটি ২০২১ সালে হাতে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ ও একটি অত্যাধুনিক নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করবে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের ওপর সম্প্রসারিত ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ের নির্মাণকাজ আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে বা ৩.২৬ কিলোমিটারে, যা দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বে।

প্রাথমিকভাবে বর্তমান টার্মিনাল ভবনটি থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পরে নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি চালু হলে সেটি সর্বাধুনিক সব সুবিধাসম্পন্ন হবে এবং যেকোনো আকারের বড় বিমান অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আমরা প্রতিনিয়ত রানওয়ে, লাইটিং সিস্টেম, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করছি।’

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো কক্সবাজারকে ইন্দোনেশিয়ার বালির মতো একটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করা। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এটি আঞ্চলিক পর্যটনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং দেশের পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।