ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক

কক্সবাজার সৈকতে ‘লোক সমুদ্র’

দুর্গোৎসব ও টানা ছুটিকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) টানা চারদিনের ছুটির শেষ দিনেও সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকেরা।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আলাউল রণি বলেন, “সৈকতের ঢেউ মনে প্রশান্তি আনে। সুযোগ পেলেই চলে আসি কক্সবাজারে। এবারের আনন্দটা আলাদা, ফিরতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু জীবিকার টানে ফিরতেই হবে।”

স্থানীয়রাও কম যান না। রামুর বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের গর্ব এই কক্সবাজার সৈকত। যখন ইচ্ছে চলে আসি। এখানে জন্মেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।”

পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কলাতলী সৈকতসংলগ্ন এলাকায় আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ নানা পণ্যের দোকান চালান স্থানীয় ইসমাইল। তিনি বলেন, “গত কয়দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দিন পর এমন ক্রেতা পেয়েছি।”

তবে অনেক পর্যটকের অভিযোগ, মৌসুমে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ঢাকার পর্যটক আলিম চৌধুরী বলেন, “একটি ঝিনুকের মালা ৩ হাজার টাকা চাইল! গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর এমন আচরণে পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকড।
“কোথাও এখন রুম খালি নেই। আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি—অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের চাপ কয়েকদিন থাকবে,” বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা ও পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় দিন-রাত টহল দিচ্ছে পুলিশ।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার

কক্সবাজার সৈকতে ‘লোক সমুদ্র’

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

দুর্গোৎসব ও টানা ছুটিকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) টানা চারদিনের ছুটির শেষ দিনেও সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকেরা।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আলাউল রণি বলেন, “সৈকতের ঢেউ মনে প্রশান্তি আনে। সুযোগ পেলেই চলে আসি কক্সবাজারে। এবারের আনন্দটা আলাদা, ফিরতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু জীবিকার টানে ফিরতেই হবে।”

স্থানীয়রাও কম যান না। রামুর বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের গর্ব এই কক্সবাজার সৈকত। যখন ইচ্ছে চলে আসি। এখানে জন্মেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।”

পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কলাতলী সৈকতসংলগ্ন এলাকায় আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ নানা পণ্যের দোকান চালান স্থানীয় ইসমাইল। তিনি বলেন, “গত কয়দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দিন পর এমন ক্রেতা পেয়েছি।”

তবে অনেক পর্যটকের অভিযোগ, মৌসুমে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ঢাকার পর্যটক আলিম চৌধুরী বলেন, “একটি ঝিনুকের মালা ৩ হাজার টাকা চাইল! গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর এমন আচরণে পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকড।
“কোথাও এখন রুম খালি নেই। আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি—অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের চাপ কয়েকদিন থাকবে,” বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা ও পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় দিন-রাত টহল দিচ্ছে পুলিশ।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।