ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’ কক্সবাজারে এ বছরের সর্বনিম্ন ফিতরা ৯৫ টাকা, সর্বোচ্চ ২৪৭৫ টাকা এনসিপির আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আবু তাহেরের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকার সহায়তা দিলেন এমপি কাজল অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিরুকে হয়রানির প্রচেষ্টা ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তার: ক্র্যাকের নিন্দা কলাতলীর আব্দুর রহিমের মরদেহ কক্সবাজারের পথে:বুধবার বাদ জোহর ২ দফা জানাজা ​ঢাবিতে ‘ডুসাট’-এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সাহরির সময় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা ‘ডিজিটাল ডিভাইসে’ নকল প্রতিরোধে আইন হবে: শিক্ষামন্ত্রী ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের মুগ্ধতার লড়াই টেকনাফে অর্ধ লক্ষ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার অভিনন্দন সংবলিত বিলবোর্ড-ব্যানার সরিয়ে ফেলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পুলিশ পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টিটিএনে প্রচারিত ভিডিও প্রসঙ্গে আজম সরকারের বিবৃতি

কক্সবাজার সৈকতে ‘লোক সমুদ্র’

দুর্গোৎসব ও টানা ছুটিকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) টানা চারদিনের ছুটির শেষ দিনেও সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকেরা।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আলাউল রণি বলেন, “সৈকতের ঢেউ মনে প্রশান্তি আনে। সুযোগ পেলেই চলে আসি কক্সবাজারে। এবারের আনন্দটা আলাদা, ফিরতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু জীবিকার টানে ফিরতেই হবে।”

স্থানীয়রাও কম যান না। রামুর বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের গর্ব এই কক্সবাজার সৈকত। যখন ইচ্ছে চলে আসি। এখানে জন্মেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।”

পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কলাতলী সৈকতসংলগ্ন এলাকায় আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ নানা পণ্যের দোকান চালান স্থানীয় ইসমাইল। তিনি বলেন, “গত কয়দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দিন পর এমন ক্রেতা পেয়েছি।”

তবে অনেক পর্যটকের অভিযোগ, মৌসুমে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ঢাকার পর্যটক আলিম চৌধুরী বলেন, “একটি ঝিনুকের মালা ৩ হাজার টাকা চাইল! গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর এমন আচরণে পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকড।
“কোথাও এখন রুম খালি নেই। আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি—অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের চাপ কয়েকদিন থাকবে,” বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা ও পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় দিন-রাত টহল দিচ্ছে পুলিশ।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের আকাশে ‘ব্লাড মুন’

কক্সবাজার সৈকতে ‘লোক সমুদ্র’

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

দুর্গোৎসব ও টানা ছুটিকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) টানা চারদিনের ছুটির শেষ দিনেও সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকেরা।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আলাউল রণি বলেন, “সৈকতের ঢেউ মনে প্রশান্তি আনে। সুযোগ পেলেই চলে আসি কক্সবাজারে। এবারের আনন্দটা আলাদা, ফিরতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু জীবিকার টানে ফিরতেই হবে।”

স্থানীয়রাও কম যান না। রামুর বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের গর্ব এই কক্সবাজার সৈকত। যখন ইচ্ছে চলে আসি। এখানে জন্মেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।”

পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কলাতলী সৈকতসংলগ্ন এলাকায় আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ নানা পণ্যের দোকান চালান স্থানীয় ইসমাইল। তিনি বলেন, “গত কয়দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দিন পর এমন ক্রেতা পেয়েছি।”

তবে অনেক পর্যটকের অভিযোগ, মৌসুমে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ঢাকার পর্যটক আলিম চৌধুরী বলেন, “একটি ঝিনুকের মালা ৩ হাজার টাকা চাইল! গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর এমন আচরণে পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকড।
“কোথাও এখন রুম খালি নেই। আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি—অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের চাপ কয়েকদিন থাকবে,” বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা ও পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় দিন-রাত টহল দিচ্ছে পুলিশ।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।