ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাতের ডাক দেওয়ার ঘোষণা: গণতন্ত্রের সঙ্গে কতটা সাংঘর্ষিক? বাংলা নববর্ষ উদযাপনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় তনু হত্যা: ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ বাংলাদেশ সীমান্তের নদীতে কুমির ও সাপ ছাড়তে চায় ভারত কক্সবাজারে ক্রাইম ও অপারেশন দায়িত্বে নবাগত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: অহিদুর রহমান (পিপিএম) সচল হলো টেকনাফ স্থলবন্দর,সীমান্ত বাণিজ্য হবে মিয়ানমার সরকারের সাথে-নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ঈদুল আজহার পর ইউপি-পৌর ভোট সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে, তফসিল ৮ এপ্রিল ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২ জামিন পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার ট্রাম্পের হুমকির পর ফের বাড়ল তেলের দাম দাম বাড়ছেই, হরমুজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আসবে বড় বিপদ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর ‘আগের অবস্থায়’ ফিরবে না: ইরান সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প

উখিয়ার দুই কলেজে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়

মানবারতার রাজধানী খ্যাত উখিয়ার দুই কলেজে এবারও এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এইচএসসির ফলাফলে দেখা যায় উখিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে পরিক্ষার্থী ছিলো মোট ৫৪৯ জন, এরমধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন মাত্র ১১২ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৩৭ জন, শতাংশ হিসেবে পাশের ২০.৪০%।

অন্যদিকে উখিয়া সরকারী মহিলা কলেজ (বঙ্গমাতা কলেজ) থেকে এবার এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছিলো ৭৮০ জন, এর মধ্যে মাত্র ১৭৬ জন কৃতকার্য হয়েছেন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৬০৪ জন।পাশের হার দাঁড়ায় ২২.৭৪%।

এদিকে এর আগেও উখিয়া কলেজের এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয় তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়, তখন কলেজ থেকেই নানা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যাতে  শিক্ষার্থীরা ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকে।

তাছাড়া মডেল টেস্ট পরিক্ষায় অকৃতকার্যদেরকে ফরম পূরণও করতে দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ, তারপরেও এমন ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলকালাম চলছে।

গতবছরেও উখিয়া কলেজের এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়েছিলো, কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর আরো বেশি বিপর্যয় ঘটলো ফলাফলে।

উখিয়া কলেজে ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিলো ৩৬.০৮ শতাংশ।

বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৭৭৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র ২৮০ জন। এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৯৪ জন শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পায়নি।

এর আগের বছর ২০২৩ সালে ৫৭০ জন পরিক্ষার্থীদের মাঝে অকৃতকার্য হয়েছিলো ৩৯৮ জন এবং সেসময় পাশ করেছিলো মাত্র ১৭২ জন। পাশের হার ৩০ দশমিক ১৮ শতাংশ।২০২৩ সালে উখিয়া কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে পাশ করেছে ১শ ৪০ জন, ফেল করেছে ৩শ ৩৬জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাশ করেছে ৩২জন, ফেল-৭০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৬ জন অংশ নিয়ে কেউ পাশ করেনি।

এছরও ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।উখিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন আকাশ মনে করেন, ” অনেক সময় ছাত্ররা ক্যাম্পে চাকরী বলে প্রতিবছরই ফলাফল বিপর্যয় ঘটে-এমন একটি যুক্তি কলেজ কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করে থাকেন, আসলে এটি সঠিক নয়, কারণ এসসসি পাশ করে কেউ চাকরীর সুযোগ পায়না, খুব অল্প কয়েকজন তাও প্রত্যন্ত অঞ্চলের তাঁরা গার্ড বা ক্লিনিয়ার পদে চাকরি করেন, তাদের সংখ্যাও খুব বেশি না।তাই এ যুক্তিটাও আসলে সঠিক নয়”।

অন্যদিকে তিনি আরও বলেন, বছরের পর ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষও ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নতুনকরে ভাবতে হবে, নয়তো এভাবেই পিঁছিয়ে যেতে পারে পুরো একটি প্রজন্ম।

এদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাতের ডাক দেওয়ার ঘোষণা: গণতন্ত্রের সঙ্গে কতটা সাংঘর্ষিক?

উখিয়ার দুই কলেজে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

মানবারতার রাজধানী খ্যাত উখিয়ার দুই কলেজে এবারও এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এইচএসসির ফলাফলে দেখা যায় উখিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে পরিক্ষার্থী ছিলো মোট ৫৪৯ জন, এরমধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন মাত্র ১১২ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৩৭ জন, শতাংশ হিসেবে পাশের ২০.৪০%।

অন্যদিকে উখিয়া সরকারী মহিলা কলেজ (বঙ্গমাতা কলেজ) থেকে এবার এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছিলো ৭৮০ জন, এর মধ্যে মাত্র ১৭৬ জন কৃতকার্য হয়েছেন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৬০৪ জন।পাশের হার দাঁড়ায় ২২.৭৪%।

এদিকে এর আগেও উখিয়া কলেজের এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয় তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়, তখন কলেজ থেকেই নানা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যাতে  শিক্ষার্থীরা ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকে।

তাছাড়া মডেল টেস্ট পরিক্ষায় অকৃতকার্যদেরকে ফরম পূরণও করতে দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ, তারপরেও এমন ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলকালাম চলছে।

গতবছরেও উখিয়া কলেজের এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়েছিলো, কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর আরো বেশি বিপর্যয় ঘটলো ফলাফলে।

উখিয়া কলেজে ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিলো ৩৬.০৮ শতাংশ।

বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৭৭৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র ২৮০ জন। এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৯৪ জন শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পায়নি।

এর আগের বছর ২০২৩ সালে ৫৭০ জন পরিক্ষার্থীদের মাঝে অকৃতকার্য হয়েছিলো ৩৯৮ জন এবং সেসময় পাশ করেছিলো মাত্র ১৭২ জন। পাশের হার ৩০ দশমিক ১৮ শতাংশ।২০২৩ সালে উখিয়া কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে পাশ করেছে ১শ ৪০ জন, ফেল করেছে ৩শ ৩৬জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাশ করেছে ৩২জন, ফেল-৭০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৬ জন অংশ নিয়ে কেউ পাশ করেনি।

এছরও ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।উখিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন আকাশ মনে করেন, ” অনেক সময় ছাত্ররা ক্যাম্পে চাকরী বলে প্রতিবছরই ফলাফল বিপর্যয় ঘটে-এমন একটি যুক্তি কলেজ কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করে থাকেন, আসলে এটি সঠিক নয়, কারণ এসসসি পাশ করে কেউ চাকরীর সুযোগ পায়না, খুব অল্প কয়েকজন তাও প্রত্যন্ত অঞ্চলের তাঁরা গার্ড বা ক্লিনিয়ার পদে চাকরি করেন, তাদের সংখ্যাও খুব বেশি না।তাই এ যুক্তিটাও আসলে সঠিক নয়”।

অন্যদিকে তিনি আরও বলেন, বছরের পর ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষও ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নতুনকরে ভাবতে হবে, নয়তো এভাবেই পিঁছিয়ে যেতে পারে পুরো একটি প্রজন্ম।

এদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।