খোঁজ নিতে পা বাড়ালাম ঢাকার বায়তুল মোকাররম মার্কেটে। মসজিদ মার্কেট ও মসজিদের দক্ষিণ গেটের দোকানে মিলছে টুপি, আতর, জায়নামাজ ও তসবিহ। দোকানের সংখ্যা প্রায় এক শ।
পবিত্র রমজান মাস বলে মুসল্লিদের সমাগমও বেশি। ঈদের অন্য সব কেনাকাটা শেষে এই মার্কেটটাও ঘুরে যেতে ভুল করেন না অনেকে। উত্তরা থেকে আসা তেমনই একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাহিল আহমেদ। ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে ফেরার পথে মায়ের জন্য জায়নামাজ আর তসবিহ কিনতে এসেছেন বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ‘ঊর্মি এমপোরিয়াম’ নামের দোকানে।
জায়নামাজ ও তসবিহ দেখছিলেন সাহিল, পাশাপাশি ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছিলেন মাকে। ওপাশ থেকে মা পছন্দ করতেই সেরে ফেললেন কেনাকাটা। সাহিল আহমেদ বললেন, ‘নামাজ পড়ার সময় মায়ের যাতে হাঁটুতে কষ্ট না হয়, সে জন্য বেছে নিয়েছি পশমি কাপড়ে বোনা পুরু জায়নামাজ। সঙ্গে নিয়েছি সোনালি রঙের তসবিহ।’
জায়নামাজ
বাহারি রং ও নকশার বিভিন্ন ধরনের জায়নামাজ পাবেন বাজারে। এর মধ্যে আমাদের দেশি জায়নামাজ ছাড়াও ভারত থেকে শুরু করে তুরস্ক, চীন, পাকিস্তান ও বেলজিয়ামে তৈরি জায়নামাজ পাবেন। জায়নামাজের বুনন, কোমলতা ও নকশার ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ভর করে।
দেশি জায়নামাজের দাম শুরু ১৫০ টাকা থেকে। আমদানি করা বিদেশি জায়নামাজ পাবেন সাড়ে তিন শ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে তিন হাজার টাকার মধ্যে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বসা ‘পাট ও বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ২০২৬’–এ পাবেন হাতে বোনা পরিবেশবান্ধব পাটে তৈরি জায়নামাজ। দাম পড়বে ২ হাজার ৮০০ টাকা। মেলা চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত।
আতর
বাজারে দেশি ছাড়াও ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা আতর পাবেন। জনপ্রিয় আতরের পসরায় মিলবে জান্নাতুল নাঈম, জান্নাতুল ফেরদাউস, শাইখা, হাজরে আসওয়াদ, অ্যাম্বার, কস্তুরী, সুলতান, উদ, কিং হোয়াইট, আল-ফারেজ, কুল ওয়াটার ইত্যাদি নামের আতর। একসময় আতর তোলা হিসেবে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হয় মিলিলিটার হিসেবে।
দেশি আতর প্রতি ৬ মিলিলিটারের দাম ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। বিদেশি আতরের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ মিলিলিটারের দাম শুরু ২০০ টাকা থেকে।
ঊর্মি এমপোরিয়ামের বিক্রয় ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ ফয়েজ আহমদ জানান, অ্যাম্বার, উদ, কস্তুরীর মতো উঁচু ব্র্যান্ডের প্রতি ৩ মিলিলিটারের বিদেশি আতরের দাম ওঠে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।
তসবিহ
বিভিন্ন রঙের পাথরের তসবিহ যেমন আছে, তেমনই আছে চন্দন কাঠ, জয়তুন কাঠ, প্লাস্টিক, ক্রিস্টাল দানা, হরিণের শিং, হাতির হাড়, হাতির দাঁত এমনকি উটের দাঁত দিয়ে বানানো তসবিহও।
বাজারে আছে ৩৩, ১০০, ৫০০ ও ১ হাজার ঘুঁটির তসবিহ। প্রকারভেদে দাম পড়বে ১০০ থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এখন জনপ্রিয় হচ্ছে ডিজিটাল তসবিহ। পাওয়া যাচ্ছে ৬০ টাকা থেকে সাড়ে তিন শ টাকার মধ্যে। গোনা যাবে ৯ হাজার ৯৯৯ পর্যন্ত। ঘড়ির ব্যাটারিতে চলা সাড়ে তিন শ টাকার ডিজিটাল তসবিহতে পাবেন দিক নির্ণয়ের সুবিধাও।
টুপি
বাড্ডা থেকে আসা দুই বন্ধু ইয়ামিন ও সুজনকে পাওয়া গেল টুপির দোকানে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষে ফেরার পথে টুপি কিনছিলেন। বাজারে আমাদের দেশে বানানো টুপি ছাড়াও আছে ভারত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের টুপি।
এসবের দাম পড়বে ২০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। সবার মাথায় সহজে এঁটে যায়, এমন সুতি কাপড়ের বোনা টুপি মিলবে ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যেই।
কিনতে যাবেন যেখানে
ঢাকার পল্টনের বায়তুল মোকাররম মার্কেট ও পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স তো এসব পাবেনই, পাশাপাশি কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, মতিঝিল, শান্তিনগর, মালিবাগ, চকবাজার, লালবাগ, রামপুরা, উত্তরা, বনানী, মিরপুর ইত্যাদি এলাকায় পেয়ে পাবেন এসব পণ্য।
আবার শহরের প্রায় প্রতিটি মসজিদ প্রাঙ্গণেও ভাসমান দোকানের দেখা পাবেন। জরুরি প্রয়োজনে নিতে পারেন সেখান থেকেও। আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ, তালতলা, ফার্মগেটে ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত ঈদ মেলায়ও পেয়ে যাবেন টুপি, তসবিহ, আতর ও জায়নামাজ।
সূত্র:প্রথম আলো
টিটিএন ডেস্ক: 
























