ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩০ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজারের হোটেলগুলো অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে কুতুবদিয়া বিএনপির উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন স্বাধীনতা দিবসে কক্সবাজারে খেলাঘরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জনগণের স্বাধীনতা আজ ক্ষমতাসীনদের হাতে বন্দী- হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু রামুতে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো স্বাধীনতা দিবস স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনায় এমপি শাহজাহান চৌধুরী -মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কুচকাওয়াজ: কক্সবাজারে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন কবিতা চত্বর থেকে নবজাতকের মর’দেহ উদ্ধার স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজারের শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক অর্পণ বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক অর্পণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ “বিজয় বয়ে এনেছিলে স্বাধীনতা তুমি”

‘আর নয় অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ’ – সাত দফা দাবী দিলো স্থানীয়রা

অনুপ্রবেশ বন্ধ, দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সহ ৭ দফা দাবী নিয়ে সোচ্চার হয়েছে স্থানীয়রা।

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী স্টেশনে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি পালংখালী’র উদ্যোগে হাজারো স্থানীয়দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও সমাবেশ।

‘আর নয় অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে সাবেক উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “উখিয়া-টেকনাফের মানুষ মানবতা দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে, বিশ্ব স্বীকৃত এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রেক্ষাপট এখন সময়ের পরিক্রমায় পাল্টে গেছে।”

সংকট সমাধান না হওয়ায় নানা সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছে স্থানীয়রা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ” স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত সহ সংকট সমাধানে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে এবং আগামী ১ বছরের রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাত দফা দাবী উপস্থাপন করেন অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোসাইন। এসময় উত্থাপিত দাবী সমূহ হলো – দ্রুত মায়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করতে হবে, অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে নিরাপত্তা বলয় জোরদার,  অবৈধভাবে সম্প্রতি অনুপ্রবেশ করা লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদেরকে এফডিএমএন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে (বায়োমেট্রিক) তাদেরকে পুশব্যাকের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, চাকরিসহ ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের প্রাধান্য (নূন্যতম ৫০%) নিশ্চিত করতে হবে,  কাঁটাতারের বাহিরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে এবং ক্যাম্পের বাহিরে রোহিঙ্গাদের বাসাভাড়া বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ক্যাম্পের চাকরির নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরআরআরসি প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার আজাদের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যদের মধ্যে – কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম.মোক্তার আহমদে, সিনিয়র আইনজীবী ও এডিশনাল পিপি এড.রেজাউল করিম রেজা, আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফাত ফারদিন রামিম চৌধুরী, পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন মেম্বার, পালংখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জনাব আবুল আলা রোমান, অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহজাহান, পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নুল আবেদীন জয়, উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিদুয়ানুর রহমান সহ আরো অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হয়ে সংকট সমাধানে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে ক্যাম্প সংখ্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্র‍য় দেওয়া ইউনিয়ন পালংখালীর সংগঠন অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি।

ট্যাগ :

৩০ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজারের হোটেলগুলো অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে

‘আর নয় অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ’ – সাত দফা দাবী দিলো স্থানীয়রা

আপডেট সময় : ১২:২৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫

অনুপ্রবেশ বন্ধ, দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সহ ৭ দফা দাবী নিয়ে সোচ্চার হয়েছে স্থানীয়রা।

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী স্টেশনে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি পালংখালী’র উদ্যোগে হাজারো স্থানীয়দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও সমাবেশ।

‘আর নয় অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে সাবেক উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “উখিয়া-টেকনাফের মানুষ মানবতা দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে, বিশ্ব স্বীকৃত এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রেক্ষাপট এখন সময়ের পরিক্রমায় পাল্টে গেছে।”

সংকট সমাধান না হওয়ায় নানা সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছে স্থানীয়রা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ” স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত সহ সংকট সমাধানে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে এবং আগামী ১ বছরের রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাত দফা দাবী উপস্থাপন করেন অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোসাইন। এসময় উত্থাপিত দাবী সমূহ হলো – দ্রুত মায়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করতে হবে, অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে নিরাপত্তা বলয় জোরদার,  অবৈধভাবে সম্প্রতি অনুপ্রবেশ করা লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদেরকে এফডিএমএন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে (বায়োমেট্রিক) তাদেরকে পুশব্যাকের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, চাকরিসহ ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের প্রাধান্য (নূন্যতম ৫০%) নিশ্চিত করতে হবে,  কাঁটাতারের বাহিরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে এবং ক্যাম্পের বাহিরে রোহিঙ্গাদের বাসাভাড়া বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ক্যাম্পের চাকরির নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরআরআরসি প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার আজাদের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যদের মধ্যে – কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম.মোক্তার আহমদে, সিনিয়র আইনজীবী ও এডিশনাল পিপি এড.রেজাউল করিম রেজা, আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফাত ফারদিন রামিম চৌধুরী, পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন মেম্বার, পালংখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জনাব আবুল আলা রোমান, অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহজাহান, পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নুল আবেদীন জয়, উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিদুয়ানুর রহমান সহ আরো অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হয়ে সংকট সমাধানে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে ক্যাম্প সংখ্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্র‍য় দেওয়া ইউনিয়ন পালংখালীর সংগঠন অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি।