ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬: বিজয়–পরাজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র প্রতিমন্ত্রী নাকি চিফ হুইপ? শহীদ জিয়ার সঙ্গী শাহজাহান চৌধুরীকে যা দিতে পারে বিএনপি ২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি কক্সবাজারে গণভোটের ফলাফল : “হ্যাঁ” ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩১,”না” ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬২৩ জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন : কক্সবাজার-৪ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবী নুর আহমদ আনোয়ারীর জেলায় পোস্টাল ভোটের ফলাফল: বিএনপি ৫ হাজার ২৯৪, জামায়াত ১৪ হাজার ২৩৪ ২৯৯ আসনের ফলাফল: বিএনপি ২১১, জামায়াত ৬৮ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পেতে যাচ্ছে কক্সবাজার গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমদ-“আওয়ামীলীগের বিচার শুরু হবে বলে আশা করছি” কবে গঠিত হবে নতুন সরকার? চট্টগ্রামে ১৬টির মধ্যে ১৪ আসন বিএনপির, কে কত ভোট পেলেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতেছে, কী কী বদল আসবে গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার আসনে জয় পেয়েছে বিএনপির জিলানী কক্সবাজারের চার আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল; কে কতো ভোটে জিতলেন কত ভোট পেলেন তাসনিম জারা

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল :উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। সাগর উপকূলের মানুষের কাছে এটি এক দুঃসহ বেদনার দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। রাতের অন্ধকারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলের জনপদ, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো পরিবার। ।

ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার, সঙ্গে ছিল প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এতে ডুবে যায় ফসলের মাঠ, ভেসে যায় লাখ লাখ গবাদিপশু। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকাও তছনছ হয়ে যায়। বন্দর থেকে ছিটকে যায় নোঙর করা জাহাজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায়। ভেসে যায় নৌ ও বিমানবাহিনীর অবকাঠামো, ক্ষতিগ্রস্ত হয় উড়োজাহাজ।

সেদিন রাত ১০টার পর হঠাৎই ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার সাগরের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এক রাতেই অসংখ্য মানুষ হারায় পরিবারের সদস্যদের। কেউ সন্তান, কেউ স্ত্রী, কেউ বা ভাই-বোন হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসে।

৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের বিভীষিকা ভুলতে পারেন না উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম শুনলেই আজও আতঙ্কে কেঁপে ওঠে বুক। সেই রাতে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, কেউ কেউ তথ্যও পাননি। সেসময় আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলেও সচেতনতার অভাবে অনেকে রয়ে যান নিজ ঘরে। ফলে মৃত্যু উপত্যকায় পরিনত হয় উপকূলীয় এলাকা।
দিনটি স্মরণে উপকূলীয় এলাকায় নানান আয়োজন করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬: বিজয়–পরাজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র

This will close in 6 seconds

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল :উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন

আপডেট সময় : ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। সাগর উপকূলের মানুষের কাছে এটি এক দুঃসহ বেদনার দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। রাতের অন্ধকারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলের জনপদ, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো পরিবার। ।

ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার, সঙ্গে ছিল প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এতে ডুবে যায় ফসলের মাঠ, ভেসে যায় লাখ লাখ গবাদিপশু। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকাও তছনছ হয়ে যায়। বন্দর থেকে ছিটকে যায় নোঙর করা জাহাজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায়। ভেসে যায় নৌ ও বিমানবাহিনীর অবকাঠামো, ক্ষতিগ্রস্ত হয় উড়োজাহাজ।

সেদিন রাত ১০টার পর হঠাৎই ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার সাগরের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এক রাতেই অসংখ্য মানুষ হারায় পরিবারের সদস্যদের। কেউ সন্তান, কেউ স্ত্রী, কেউ বা ভাই-বোন হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসে।

৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের বিভীষিকা ভুলতে পারেন না উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম শুনলেই আজও আতঙ্কে কেঁপে ওঠে বুক। সেই রাতে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, কেউ কেউ তথ্যও পাননি। সেসময় আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলেও সচেতনতার অভাবে অনেকে রয়ে যান নিজ ঘরে। ফলে মৃত্যু উপত্যকায় পরিনত হয় উপকূলীয় এলাকা।
দিনটি স্মরণে উপকূলীয় এলাকায় নানান আয়োজন করা হয়।