ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে টিসিবি দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল

হেডফোন ব্যবহারে মন ও মস্তিষ্কে যেসব মারাত্মক প্রভাব পড়ে

হেডফোন বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। গান শোনা, পড়াশোনা কিংবা জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়া- সবকিছুতেই হেডফোন ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারে মন ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করছেন না তো?

২০২২ সালে ইউনাইটেড স্টেটস স্ট্যাটিস্টা জরিপ অনুসারে, ১৯-২৯ বছর বয়সীরা প্রতি সপ্তাহে হেডফোন ব্যবহারে ৭.৮ ঘন্টা ব্যয় করে। এ ছাড়াও ৩০-৪০ বছর বয়সী লোকেরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫.৫ ঘণ্টা ব্যয় করে এবং ৫০-৭৯ বছর বয়সীরা সপ্তাহে ৫.২ ঘণ্টা হেডফোন ব্যবহার করে। সমস্যা হচ্ছে এটি একটি অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস যা আপনার শরীরের পাশাপাশি আপনার মনের জন্যও ক্ষতিকর।

হেডফোন ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ইয়ারফোনে যে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয় তা আমাদের কানে পৌঁছায়, যার ফলে কানের পর্দা কম্পিত হয়। এই কম্পন ছোট হাড়ের মধ্য দিয়ে কক্লিয়ার (সেল আকৃতি হাড়) দিকে যায়। হেডফোন ব্যবহারের সময় কানের ভেতরে থাকা ছোট ছোট লোম শব্দ ও কম্পনের ফলে কাঁপতে শুরু করে। ধীরে ধীরে কানের কোষগুলো সংবেদনশীলতা হারাতে শুরু করে।

শ্রবণ ক্লান্তি বা শ্রবণশক্তি হ্রাস: দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্ক উত্তপ্ত হয় এবং স্নায়ু ক্লান্তিবোধ করে। ফলে শ্রবণশক্তিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। কক্লিয়ার অঞ্চলের রক্তনালী সঙ্কুচিত ও শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।

কানে ব্যথা: হেডফোন ব্যবহারের ফলে কানে ব্যথা অনুভব করার পাশাপাশি ভার্টিগো বা মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়তে পারে। দীর্ঘক্ষণ শব্দের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কারণে, কানে রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মনোযোগের অভাব: হেডফোন যে শব্দ উৎপন্ন করে, তা কানের পর্দায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্নায়ুতন্ত্র কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ প্রেরণ করার ফলে প্রভাবিত হয়। যার ফলে মনোযোগের অভাব হয়। হেডফোনের অত্যধিক ব্যবহার মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে।

মস্তিষ্কে সমস্যা: দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারের ফলে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করতে পারে। মস্তিষ্ক স্নায়ু তন্তুগুলোর মাধ্যমে কান থেকে সংকেত গ্রহণ করে। যা মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমস্যা মোকাবিলায় হেডফোন ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনুন। একান্তই যদি হেডফোন ব্যবহারের প্রয়োজন হয় তাহলে ৩০ মিনিট পরে অবশ্যই পাঁচ মিনিটের বিরতি নিন। ৬০ মিনিটে দশ মিনিটের বিরতি নিতে হবে। ক্ষতির মাত্রা কমাতে হেডফোন ব্যবহারের পরিবর্তে একটি স্পিকারফোন ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্র: ইমিট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী

হেডফোন ব্যবহারে মন ও মস্তিষ্কে যেসব মারাত্মক প্রভাব পড়ে

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

হেডফোন বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। গান শোনা, পড়াশোনা কিংবা জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়া- সবকিছুতেই হেডফোন ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারে মন ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করছেন না তো?

২০২২ সালে ইউনাইটেড স্টেটস স্ট্যাটিস্টা জরিপ অনুসারে, ১৯-২৯ বছর বয়সীরা প্রতি সপ্তাহে হেডফোন ব্যবহারে ৭.৮ ঘন্টা ব্যয় করে। এ ছাড়াও ৩০-৪০ বছর বয়সী লোকেরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫.৫ ঘণ্টা ব্যয় করে এবং ৫০-৭৯ বছর বয়সীরা সপ্তাহে ৫.২ ঘণ্টা হেডফোন ব্যবহার করে। সমস্যা হচ্ছে এটি একটি অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস যা আপনার শরীরের পাশাপাশি আপনার মনের জন্যও ক্ষতিকর।

হেডফোন ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ইয়ারফোনে যে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয় তা আমাদের কানে পৌঁছায়, যার ফলে কানের পর্দা কম্পিত হয়। এই কম্পন ছোট হাড়ের মধ্য দিয়ে কক্লিয়ার (সেল আকৃতি হাড়) দিকে যায়। হেডফোন ব্যবহারের সময় কানের ভেতরে থাকা ছোট ছোট লোম শব্দ ও কম্পনের ফলে কাঁপতে শুরু করে। ধীরে ধীরে কানের কোষগুলো সংবেদনশীলতা হারাতে শুরু করে।

শ্রবণ ক্লান্তি বা শ্রবণশক্তি হ্রাস: দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্ক উত্তপ্ত হয় এবং স্নায়ু ক্লান্তিবোধ করে। ফলে শ্রবণশক্তিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। কক্লিয়ার অঞ্চলের রক্তনালী সঙ্কুচিত ও শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।

কানে ব্যথা: হেডফোন ব্যবহারের ফলে কানে ব্যথা অনুভব করার পাশাপাশি ভার্টিগো বা মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়তে পারে। দীর্ঘক্ষণ শব্দের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কারণে, কানে রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মনোযোগের অভাব: হেডফোন যে শব্দ উৎপন্ন করে, তা কানের পর্দায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্নায়ুতন্ত্র কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ প্রেরণ করার ফলে প্রভাবিত হয়। যার ফলে মনোযোগের অভাব হয়। হেডফোনের অত্যধিক ব্যবহার মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে।

মস্তিষ্কে সমস্যা: দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারের ফলে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করতে পারে। মস্তিষ্ক স্নায়ু তন্তুগুলোর মাধ্যমে কান থেকে সংকেত গ্রহণ করে। যা মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমস্যা মোকাবিলায় হেডফোন ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনুন। একান্তই যদি হেডফোন ব্যবহারের প্রয়োজন হয় তাহলে ৩০ মিনিট পরে অবশ্যই পাঁচ মিনিটের বিরতি নিন। ৬০ মিনিটে দশ মিনিটের বিরতি নিতে হবে। ক্ষতির মাত্রা কমাতে হেডফোন ব্যবহারের পরিবর্তে একটি স্পিকারফোন ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্র: ইমিট