ঢাকা ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

“ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ৭শ কোটি টাকার ব্যবসা”

ঈদুল আজহার ছুটিতে কক্সবাজারে ৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ঈদের ছুটিতে সারা দেশ থেকে পর্যটকদের ঢল নামায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতজুড়ে জমজমাট ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা এই উপকূলীয় শহরে বর্ষা মৌসুমের আগেই পর্যটন নির্ভর অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে।

কক্সবাজারে ৫০০টিরও বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও গেস্ট হাউস রয়েছে, যেগুলোর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১,৮৭,০০০ জন বলে তথ্য দিয়ে হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতি।

হোটেল মালিকরা জানান, ১২ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজারের বেশি পর্যটক আসবেন। এসবসব মিলিয়ে এবারের ঈদে মোট পর্যটকের সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, “ঈদুল ফিতরে প্রায় ১২ লাখ পর্যটক এসেছিল এবং ১৩টি খাতে ১,০০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। এবারে ৮ থেকে ৯ লাখ পর্যটক আশা করছি এবং সবমিলিয়ে অন্তত ৭০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে বিশ্বাস করি।”

“কেবল হোটেল নয়, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, বিচ অ্যাকটিভিটিজ, লোকাল ট্রান্সপোর্ট এবং অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতেও জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে” -বলেন মি. চৌধুরী।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ঈদের পরদিন ৮ জুন থেকে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে।

মুকিম বলেন, “এটি বছরের অন্যতম পিক টাইম। ৯ ও ১০ জুন প্রতিদিন ১ থেকে ১.৫ লাখ পর্যটক এসেছেন। বিলাসবহুল হোটেল-মোটেল-রিসোর্টগুলোর ৯৫ শতাংশ রুম অগ্রিম বুক করা ছিলো”।

এই ব্যবসায়ী আরও জানান, কোনও বড় অফার না থাকলেও চাহিদা এত বেশি যে রুম ভাড়ার দরদাম করার সুযোগ নেই।

“অফসিজনে যেসব হোটেল ৫০–৭০ শতাংশ ছাড় দেয়, তারা এখন সর্বোচ্চ ১০–২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে” -বলেন মুকিম।

কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সৈকতের পাশের দোকানগুলোর বিক্রি ঈদের সময় তিনগুণ বেড়েছে।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক আরাফাত রহমান বলেন, “আবহাওয়া ভালো, ভিড়ও প্রচুর। খাবার, ঘোড়ার পিঠে চড়া বা বাইক ভাড়ার দাম বেড়েছে, তবে পরিবেশ জমজমাট, আর ব্যবসার দিক থেকে স্পষ্টতই লাভজনক।”

সৈকতের বাইরেও ঈদ ভ্রমণকারীরা ভিড় করছেন মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনা, ইনানি ও পটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধ মঠ, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, রেডিয়ান্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড এবং দুলাহাজরা সাফারি পার্কে।

এদিকে, সমুদ্র উত্তাল থাকায় এবং সৈকতের কিছু অংশে গভীর গর্ত ও বিপরীত স্রোতের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের সতর্ক করতে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তবুও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নামছেন।

সোমবার সদরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পর্যটক, একজন স্থানীয় ও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রয়েছেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, মোবাইল ইউনিট ও লাইফগার্ডরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে যাতে পর্যটকরা হয়রানির শিকার না হন এবং নিয়ম মানা হয়।

সি-সেফ লাইফগার্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ সিফাতুল্লাহ সিফাত বলেন, “আমাদের দল টাওয়ার থেকে নজরদারি করছে, সৈকতে টহল দিচ্ছে এবং নৌকা নিয়ে পানিতে পাহারা দিচ্ছে। তবে পর্যটকদেরও নিজ দায়িত্বে সতর্ক থাকতে হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

“ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ৭শ কোটি টাকার ব্যবসা”

আপডেট সময় : ০৫:২০:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

ঈদুল আজহার ছুটিতে কক্সবাজারে ৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ঈদের ছুটিতে সারা দেশ থেকে পর্যটকদের ঢল নামায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতজুড়ে জমজমাট ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা এই উপকূলীয় শহরে বর্ষা মৌসুমের আগেই পর্যটন নির্ভর অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে।

কক্সবাজারে ৫০০টিরও বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও গেস্ট হাউস রয়েছে, যেগুলোর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১,৮৭,০০০ জন বলে তথ্য দিয়ে হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতি।

হোটেল মালিকরা জানান, ১২ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজারের বেশি পর্যটক আসবেন। এসবসব মিলিয়ে এবারের ঈদে মোট পর্যটকের সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, “ঈদুল ফিতরে প্রায় ১২ লাখ পর্যটক এসেছিল এবং ১৩টি খাতে ১,০০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। এবারে ৮ থেকে ৯ লাখ পর্যটক আশা করছি এবং সবমিলিয়ে অন্তত ৭০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে বিশ্বাস করি।”

“কেবল হোটেল নয়, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, বিচ অ্যাকটিভিটিজ, লোকাল ট্রান্সপোর্ট এবং অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতেও জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে” -বলেন মি. চৌধুরী।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ঈদের পরদিন ৮ জুন থেকে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে।

মুকিম বলেন, “এটি বছরের অন্যতম পিক টাইম। ৯ ও ১০ জুন প্রতিদিন ১ থেকে ১.৫ লাখ পর্যটক এসেছেন। বিলাসবহুল হোটেল-মোটেল-রিসোর্টগুলোর ৯৫ শতাংশ রুম অগ্রিম বুক করা ছিলো”।

এই ব্যবসায়ী আরও জানান, কোনও বড় অফার না থাকলেও চাহিদা এত বেশি যে রুম ভাড়ার দরদাম করার সুযোগ নেই।

“অফসিজনে যেসব হোটেল ৫০–৭০ শতাংশ ছাড় দেয়, তারা এখন সর্বোচ্চ ১০–২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে” -বলেন মুকিম।

কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সৈকতের পাশের দোকানগুলোর বিক্রি ঈদের সময় তিনগুণ বেড়েছে।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক আরাফাত রহমান বলেন, “আবহাওয়া ভালো, ভিড়ও প্রচুর। খাবার, ঘোড়ার পিঠে চড়া বা বাইক ভাড়ার দাম বেড়েছে, তবে পরিবেশ জমজমাট, আর ব্যবসার দিক থেকে স্পষ্টতই লাভজনক।”

সৈকতের বাইরেও ঈদ ভ্রমণকারীরা ভিড় করছেন মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনা, ইনানি ও পটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধ মঠ, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, রেডিয়ান্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড এবং দুলাহাজরা সাফারি পার্কে।

এদিকে, সমুদ্র উত্তাল থাকায় এবং সৈকতের কিছু অংশে গভীর গর্ত ও বিপরীত স্রোতের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের সতর্ক করতে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তবুও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নামছেন।

সোমবার সদরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পর্যটক, একজন স্থানীয় ও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রয়েছেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, মোবাইল ইউনিট ও লাইফগার্ডরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে যাতে পর্যটকরা হয়রানির শিকার না হন এবং নিয়ম মানা হয়।

সি-সেফ লাইফগার্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ সিফাতুল্লাহ সিফাত বলেন, “আমাদের দল টাওয়ার থেকে নজরদারি করছে, সৈকতে টহল দিচ্ছে এবং নৌকা নিয়ে পানিতে পাহারা দিচ্ছে। তবে পর্যটকদেরও নিজ দায়িত্বে সতর্ক থাকতে হবে।”