ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পেতে শুরু করেছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওশানের ফুটবল টুর্নামেন্টে পরিচালক মিশু-ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক আয়োজন পর্যটন সেবায় কর্মীদের মনোবল বাড়ায় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেফতার কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ধূমপায়ীদের রক্তে মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি থেকে ২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কানায় কানায় পূর্ণ বাঁশখালীর সাগরপাড়ের সমাবেশস্থল পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চলমান মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীর মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী  প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে মন্ত্রী-এমপিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাতারবাড়ি আসছেন : প্রস্তুতি সম্পন্ন, জনসাধারণের যা দাবি
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বাংলাদেশের মানুষ একই সাথে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এখন দেশ গঠনের সময় এসেছে। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে, পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

নিজের ঘোষিত পরিকল্পনার প্রতি জনসমর্থন প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনসমর্থন থাকলে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, প্রত্যেকটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই আমরা, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে যে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে, এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে তারপরে আমরা ১০০ গরিব পরিবারকে আজকে ঘরের চাবি হাতে উঠিয়ে দিতে পেরেছি। এছাড়াও আপনাদের সামনেই আপনারা দেখলেন, আরও অনেক মানুষকে সহযোগিতার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আর্থিক সহায়তা করেছি। কিছু মহিলাকে আমরা চাল দিয়েও সহযোগিতা করেছি।

তিনি বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষকে দেখে রাখা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মা-বোনদের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষ যারা অসুস্থ হবে তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের তরুণ সমাজ, যুবসমাজ—নারী হোক, পুরুষ হোক— তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল— এই দেশের মায়েদের সহযোগিতা করার জন্য। এই দেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে জন্য আমরা বলেছিলাম আমরা ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাবো। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম এবং ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। এবং ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশে এই ২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবো।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের এই এলাকায়, এই উপজেলার মধ্যে ইনশাআল্লাহ ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এই আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে, আরও অনেক মা-বোন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। কেন আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছিলাম— আমাদের লক্ষ্য ছিল যাতে ভাইদের পাশাপাশি বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে, একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া দেখতে পারে, সন্তানদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। সেই জন্য মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি।

লবণচাষিদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শুধু যারা ধান-পাট বা অন্যান্য শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষবাস করে তারাই যে শুধু কৃষক কার্ড পাবে তা নয়। এমনকি লবণচাষি ভাই যারা আছেন, ইনশাআল্লাহ তাদেরও আমরা ফ্যামিলি কার্ড তাদের হাতে পৌঁছে দেব। লবণের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার আলোচনা করে আমরা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি, যে মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইয়েরা  অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হবেন। আস্তে আস্তে ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব, যার ফলে লবণচাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম, মাতারবাড়ি পুরো দেখে এলাম। শুধু মাতারবাড়ি নয়, চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চলকে আজকে আমি দেখেছি হেলিকপ্টারে। কেন দেখেছি— কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে এই বাংলাদেশের সম্পদ, এই দেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক হচ্ছে এই বাংলাদেশের জনগণ এবং সেজন্যই এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবনব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কীভাবে আমরা এখান থেকে শুরু করে মিরসরাই পর্যন্ত, মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তার জন্য আজকে আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম।

চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন চট্টগ্রামের আমীর খসরু সাহেব এবং সালাহউদ্দিন সাহেব দুজনে গিয়েছিলেন চীনে। আমরা একটি বিরাট বড় জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে এবং এই মিল-কারখানাগুলোতে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে আমাদের যেমন একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একই সঙ্গে আমরা ইনশাআল্লাহ বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব, এই দেশের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবো, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে গড়ে তুলবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩০ বেড করে গিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করেছেন বাকি ২০ বেড যোগ করেছিলেন। আজকে এই সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যাতে প্রত্যেক উপজেলার মানুষ ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে আমরা ১০১ শয্যায় উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কাজগুলো যদি করতে হয়, এই দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে হয়, তাহলে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।

তিনি বলেন, দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগ করবেন, তারা তো চাইবেন যাতে তাদের মিল-কারখানার উৎপাদিত পণ্য ঠিকভাবে বন্দর দিয়ে যেতে পারে বা কাঁচামাল সঠিকভাবে আসতে পারে, রাস্তাঘাটে যাতে শান্তি থাকে। যদি মিল-কারখানা সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সম্ভব? সম্ভব না। সেই জন্য আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে।

সূত্র:  ঢাকা পোস্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পেতে শুরু করেছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বাংলাদেশের মানুষ একই সাথে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এখন দেশ গঠনের সময় এসেছে। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে, পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

নিজের ঘোষিত পরিকল্পনার প্রতি জনসমর্থন প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনসমর্থন থাকলে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, প্রত্যেকটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই আমরা, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে যে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে, এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে তারপরে আমরা ১০০ গরিব পরিবারকে আজকে ঘরের চাবি হাতে উঠিয়ে দিতে পেরেছি। এছাড়াও আপনাদের সামনেই আপনারা দেখলেন, আরও অনেক মানুষকে সহযোগিতার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আর্থিক সহায়তা করেছি। কিছু মহিলাকে আমরা চাল দিয়েও সহযোগিতা করেছি।

তিনি বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষকে দেখে রাখা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মা-বোনদের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষ যারা অসুস্থ হবে তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের তরুণ সমাজ, যুবসমাজ—নারী হোক, পুরুষ হোক— তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল— এই দেশের মায়েদের সহযোগিতা করার জন্য। এই দেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে জন্য আমরা বলেছিলাম আমরা ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাবো। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম এবং ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। এবং ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশে এই ২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবো।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের এই এলাকায়, এই উপজেলার মধ্যে ইনশাআল্লাহ ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এই আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে, আরও অনেক মা-বোন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। কেন আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছিলাম— আমাদের লক্ষ্য ছিল যাতে ভাইদের পাশাপাশি বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে, একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া দেখতে পারে, সন্তানদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। সেই জন্য মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি।

লবণচাষিদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শুধু যারা ধান-পাট বা অন্যান্য শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষবাস করে তারাই যে শুধু কৃষক কার্ড পাবে তা নয়। এমনকি লবণচাষি ভাই যারা আছেন, ইনশাআল্লাহ তাদেরও আমরা ফ্যামিলি কার্ড তাদের হাতে পৌঁছে দেব। লবণের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার আলোচনা করে আমরা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি, যে মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইয়েরা  অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হবেন। আস্তে আস্তে ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব, যার ফলে লবণচাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম, মাতারবাড়ি পুরো দেখে এলাম। শুধু মাতারবাড়ি নয়, চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চলকে আজকে আমি দেখেছি হেলিকপ্টারে। কেন দেখেছি— কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে এই বাংলাদেশের সম্পদ, এই দেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক হচ্ছে এই বাংলাদেশের জনগণ এবং সেজন্যই এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবনব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কীভাবে আমরা এখান থেকে শুরু করে মিরসরাই পর্যন্ত, মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তার জন্য আজকে আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম।

চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন চট্টগ্রামের আমীর খসরু সাহেব এবং সালাহউদ্দিন সাহেব দুজনে গিয়েছিলেন চীনে। আমরা একটি বিরাট বড় জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে এবং এই মিল-কারখানাগুলোতে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে আমাদের যেমন একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একই সঙ্গে আমরা ইনশাআল্লাহ বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব, এই দেশের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবো, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে গড়ে তুলবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩০ বেড করে গিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করেছেন বাকি ২০ বেড যোগ করেছিলেন। আজকে এই সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যাতে প্রত্যেক উপজেলার মানুষ ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে আমরা ১০১ শয্যায় উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কাজগুলো যদি করতে হয়, এই দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে হয়, তাহলে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।

তিনি বলেন, দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগ করবেন, তারা তো চাইবেন যাতে তাদের মিল-কারখানার উৎপাদিত পণ্য ঠিকভাবে বন্দর দিয়ে যেতে পারে বা কাঁচামাল সঠিকভাবে আসতে পারে, রাস্তাঘাটে যাতে শান্তি থাকে। যদি মিল-কারখানা সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সম্ভব? সম্ভব না। সেই জন্য আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে।

সূত্র:  ঢাকা পোস্ট