ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা রোনালদো বললেন, মেসিই সর্বকালের সেরা হজের খরচ কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী মানবিক সহায়তা জোরদার ও নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের সমঝোতার পরই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ইরানের ১১ জাহাজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী শিশু ওয়াহিদ হ-ত্যা: বিক্ষোভে ফুঁসছে চকরিয়া, আসামিদের পক্ষে দাঁড়াবে না আইনজীবীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মিয়ানমার-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ঈদগাঁওয়ের যুবকের মৃত্যু, আহত ১ কুতুবদিয়ায় জামায়াত আমীর আনোয়ারী – ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে” চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় : ১ মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর চায় পরিবার আপত্তিকর ভিডিও প্রচারের অভিযোগে কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী বহিষ্কার জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল

স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি না দেওয়ায় প্রাণ গেল স্ত্রীর

দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি না দেওয়ায় ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন স্বামী। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী সেকেন্দার আলী।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এর আগে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে ঘিওর উপজেলার রাথুরা এলাকার সেকেন্দার আলীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায় , গত ২০২২ সাল থেকে নিহত লায়লা আরজু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন। তার স্বামী সেকেন্দার আলী চর্মরোগে আক্রান্ত ছিলেন। ফলে স্বামী-স্ত্রী আদালা রুমে থাকতেন। তাদের মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক না থাকায় সেকেন্দার আলী দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সম্মতি চাইলে স্ত্রী লায়লা আরজু তাতে সম্মতি না দিয়ে বাধা দেন।

এ নিয়ে গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্রে করে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সেকেন্দার আলী তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের মেঝেতে ফেলে দেন এবং রান্না ঘর থেকে ছুরি এনে স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন। এরপর আঘাতে কারণে রক্ত বের হলে ওড়না দিয়ে তার স্ত্রীর গলা বেঁধে ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে বাজারে যান।

পরে বাজার থেকে ফিরে স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে আশপাশের লোকজন জড় করেন । এরপর স্থানীয় ডাক্তার ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) নিহতের ভাই মাইনুল ইসরাম মুকুল বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরে অভিযুক্ত নিহতে স্বামী সেকেন্দার আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার পর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার ও সোর্সের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা

স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি না দেওয়ায় প্রাণ গেল স্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি না দেওয়ায় ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন স্বামী। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী সেকেন্দার আলী।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এর আগে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে ঘিওর উপজেলার রাথুরা এলাকার সেকেন্দার আলীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায় , গত ২০২২ সাল থেকে নিহত লায়লা আরজু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন। তার স্বামী সেকেন্দার আলী চর্মরোগে আক্রান্ত ছিলেন। ফলে স্বামী-স্ত্রী আদালা রুমে থাকতেন। তাদের মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক না থাকায় সেকেন্দার আলী দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সম্মতি চাইলে স্ত্রী লায়লা আরজু তাতে সম্মতি না দিয়ে বাধা দেন।

এ নিয়ে গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্রে করে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সেকেন্দার আলী তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের মেঝেতে ফেলে দেন এবং রান্না ঘর থেকে ছুরি এনে স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন। এরপর আঘাতে কারণে রক্ত বের হলে ওড়না দিয়ে তার স্ত্রীর গলা বেঁধে ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে বাজারে যান।

পরে বাজার থেকে ফিরে স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে আশপাশের লোকজন জড় করেন । এরপর স্থানীয় ডাক্তার ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) নিহতের ভাই মাইনুল ইসরাম মুকুল বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরে অভিযুক্ত নিহতে স্বামী সেকেন্দার আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার পর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার ও সোর্সের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।