ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতামুহুরীতে প্রথমবারের মতো মাদক ও জুয়া বিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত দুবাইতে চুরি করা টাকার ভাগ নিয়ে জেলে গেলেন রশিদ নগরের চেয়ারম্যান শাহ আলম চকরিয়া ডুলাহাজারা ক্রিড়া সংসদ নির্বাচনে ফজলুর কাদের সভাপতি নির্বাচিত পটিয়ার লুণ্ঠিত চিনি উদ্ধার হলো চকরিয়ার রাসেলের দোকান থেকে – রাসেল ছাত্রদল নাকি শিবির এ নিয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পেকুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু জামায়াতের দায়িত্বশীল বৈঠকে জেলা আমীর আনোয়ারী- জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩ পরিবারকে এমপি আলমগীর ফরিদের নগদ অর্থ সহায়তা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের সহযোগিতা চান জাবের আহমদ গং কক্সবাজারে স্বস্তি খুঁজে পায় মিমের মন অচিরেই ইসিএ ও নো ডেভেলপমেন্ট জোনের আইন তুলে নেয়া হবে : এমপি কাজল গেলো ২৪ ঘন্টায় সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৫ কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেলে থাকতে দিলে ব্যবস্থা- সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না পেকুয়ায় লবণাক্ত পানিতে ক্ষতির শঙ্কায় হাজারো কৃষকের ফসল এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল

ছায়া সংসদ কী, কীভাবে কাজ করে

ত্রয়োদশজাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে “ছায়া সংসদ” বা “ছায়া মন্ত্রিসভা” গঠনের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ায় বিষয়টি জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

ছায়া সংসদ কী?

ছায়া সংসদ মূলত বিরোধী দলের একটি বিকল্প কাঠামো, যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকেন। আন্তর্জাতিকভাবে এটি “Shadow Cabinet” নামে পরিচিত। এটি কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে বিরোধী দলের স্বেচ্ছায় গঠিত একটি কাঠামো।

কীভাবে কাজ করে?

ছায়া সংসদের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, বাজেট, প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করেন। তারা—সরকারের নীতির সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করেন, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেন,দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন,গণমাধ্যম ও জনসম্মুখে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
এভাবে এটি কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের একটি সংগঠিত পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে।

রাজনীতিতে এর প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ছায়া সংসদ গঠিত হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও নীতিনির্ভর হতে পারে। এতে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাল্টা বিশ্লেষণ সামনে আসবে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিরোধী দলকে সংগঠিত ও প্রস্তুত রাখে—ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে কোন খাতে কী ধরনের নীতি নেওয়া হবে, তারও একটি কাঠামো তৈরি হয়।তবে সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংগঠনিক সক্ষমতা না থাকলে এটি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

কারা বলছেন ছায়া সংসদ গঠনের কথা?

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ও প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমে বলেন, গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, এটি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও জানিয়েছেন, সরকারকে “ওয়াচডগ” হিসেবে নজরদারি করতে তাদের দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল ছায়া সংসদ গঠন করে, তবে তা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতামুহুরীতে প্রথমবারের মতো মাদক ও জুয়া বিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

ছায়া সংসদ কী, কীভাবে কাজ করে

আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশজাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে “ছায়া সংসদ” বা “ছায়া মন্ত্রিসভা” গঠনের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ায় বিষয়টি জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

ছায়া সংসদ কী?

ছায়া সংসদ মূলত বিরোধী দলের একটি বিকল্প কাঠামো, যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকেন। আন্তর্জাতিকভাবে এটি “Shadow Cabinet” নামে পরিচিত। এটি কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে বিরোধী দলের স্বেচ্ছায় গঠিত একটি কাঠামো।

কীভাবে কাজ করে?

ছায়া সংসদের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, বাজেট, প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করেন। তারা—সরকারের নীতির সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করেন, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেন,দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন,গণমাধ্যম ও জনসম্মুখে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
এভাবে এটি কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের একটি সংগঠিত পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে।

রাজনীতিতে এর প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ছায়া সংসদ গঠিত হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও নীতিনির্ভর হতে পারে। এতে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাল্টা বিশ্লেষণ সামনে আসবে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিরোধী দলকে সংগঠিত ও প্রস্তুত রাখে—ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে কোন খাতে কী ধরনের নীতি নেওয়া হবে, তারও একটি কাঠামো তৈরি হয়।তবে সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংগঠনিক সক্ষমতা না থাকলে এটি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

কারা বলছেন ছায়া সংসদ গঠনের কথা?

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ও প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমে বলেন, গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, এটি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও জানিয়েছেন, সরকারকে “ওয়াচডগ” হিসেবে নজরদারি করতে তাদের দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল ছায়া সংসদ গঠন করে, তবে তা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর।