ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধুর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণী সানুচিং তঞ্চঙ্গ্যার ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসেনি এক ঘন্টায়ও! মারাত্মক এক অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেল বার্মিজ মার্কেট! দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ মাছ ধরার ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ কক্সবাজার সরকারি কলেজ অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের কমিটি : সভাপতি মুন্না, সম্পাদক রেজাউল সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার আরিফ-সোহেল কে কারাগারে প্রেরণ উখিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে চকরিয়া রাতে ইয়াবাসহ আটক, পরদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আটক হওয়া ব্যক্তি হারলেও উখিয়া দলের যে দৃশ্য হৃদয় ছুঁয়েছে সবার কক্সবাজারে জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিষয়ে দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু রামুতে ভোক্তা অধিকার অভিযান : ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

ছায়া সংসদ কী, কীভাবে কাজ করে

ত্রয়োদশজাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে “ছায়া সংসদ” বা “ছায়া মন্ত্রিসভা” গঠনের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ায় বিষয়টি জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

ছায়া সংসদ কী?

ছায়া সংসদ মূলত বিরোধী দলের একটি বিকল্প কাঠামো, যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকেন। আন্তর্জাতিকভাবে এটি “Shadow Cabinet” নামে পরিচিত। এটি কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে বিরোধী দলের স্বেচ্ছায় গঠিত একটি কাঠামো।

কীভাবে কাজ করে?

ছায়া সংসদের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, বাজেট, প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করেন। তারা—সরকারের নীতির সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করেন, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেন,দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন,গণমাধ্যম ও জনসম্মুখে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
এভাবে এটি কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের একটি সংগঠিত পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে।

রাজনীতিতে এর প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ছায়া সংসদ গঠিত হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও নীতিনির্ভর হতে পারে। এতে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাল্টা বিশ্লেষণ সামনে আসবে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিরোধী দলকে সংগঠিত ও প্রস্তুত রাখে—ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে কোন খাতে কী ধরনের নীতি নেওয়া হবে, তারও একটি কাঠামো তৈরি হয়।তবে সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংগঠনিক সক্ষমতা না থাকলে এটি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

কারা বলছেন ছায়া সংসদ গঠনের কথা?

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ও প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমে বলেন, গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, এটি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও জানিয়েছেন, সরকারকে “ওয়াচডগ” হিসেবে নজরদারি করতে তাদের দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল ছায়া সংসদ গঠন করে, তবে তা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধুর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণী সানুচিং তঞ্চঙ্গ্যার

ছায়া সংসদ কী, কীভাবে কাজ করে

আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশজাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে “ছায়া সংসদ” বা “ছায়া মন্ত্রিসভা” গঠনের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ায় বিষয়টি জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

ছায়া সংসদ কী?

ছায়া সংসদ মূলত বিরোধী দলের একটি বিকল্প কাঠামো, যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকেন। আন্তর্জাতিকভাবে এটি “Shadow Cabinet” নামে পরিচিত। এটি কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে বিরোধী দলের স্বেচ্ছায় গঠিত একটি কাঠামো।

কীভাবে কাজ করে?

ছায়া সংসদের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, বাজেট, প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করেন। তারা—সরকারের নীতির সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করেন, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেন,দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন,গণমাধ্যম ও জনসম্মুখে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
এভাবে এটি কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের একটি সংগঠিত পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে।

রাজনীতিতে এর প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ছায়া সংসদ গঠিত হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও নীতিনির্ভর হতে পারে। এতে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাল্টা বিশ্লেষণ সামনে আসবে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিরোধী দলকে সংগঠিত ও প্রস্তুত রাখে—ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে কোন খাতে কী ধরনের নীতি নেওয়া হবে, তারও একটি কাঠামো তৈরি হয়।তবে সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংগঠনিক সক্ষমতা না থাকলে এটি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

কারা বলছেন ছায়া সংসদ গঠনের কথা?

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ও প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমে বলেন, গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, এটি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও জানিয়েছেন, সরকারকে “ওয়াচডগ” হিসেবে নজরদারি করতে তাদের দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল ছায়া সংসদ গঠন করে, তবে তা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর।