কক্সবাজারের গণমাধ্যমকর্মী আরাফাত সানিকে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে শহরে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে আরফাত সানির অবিলম্বে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তি চাওয়ার পাশাপাশি এঘটনায় স্বাধীন তদন্ত দাবি করা হয় অনথায় কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন কক্সবাজার (ক্র্যাক) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘ দৈনিক যায়যায়দিনের টেকনাফ প্রতিনিধি আরফাত সানিকে অস্ত্র-মাদক দিয়ে নাটক সাজিয়ে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে মুক্তি দিতে হবে সে নিরপরাধ। ‘
ক্র্যাক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরফাত সানির নাম ছিলো না। একই ঘটনায় পরবর্তীতে সানিকে পরিকল্পিতভাবে আটক দেখিয়ে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়। ‘
কোস্টগার্ডের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল ২৪ এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আজিম নিহাদ বলেন, ‘ আমাদের সহকর্মী আরফাত সানিকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার মুক্তি না পর্যন্ত আমরা থামছি না প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। ‘
ক্র্যাকের সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফান উল হাসান, কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদের সভাপতি আব্দুল আজিজ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক বলরাম দাশ অনুপম, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ বেলাল, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি জসিম উদ্দিন আজাদ সহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও কর্মসূচিতে বক্তব্যকালে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন পুরো ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্তের জন্য সরকারের উচ্চমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এসময় সংহতি জানিয়ে জেলা বিএনপি নেতা আশরাফুল হক হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, এনসিপির জেলা যুগ্ম আহবায়ক ও জুলাইযোদ্ধা খালিদ বিন সাঈদ, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ইউসুফ বিন নুরী সহ বক্তব্য রাখেন অনেক।
আরাফাত সানির স্ত্রী মানববন্ধনে বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন সীমান্ত জনপদ টেকনাফে ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকতা করে আসছে। ইতোপূর্বে তার অবস্থান ও বেশকিছু নিউজ বিভিন্ন বাহিনীর বিতর্কিত অভিযানের বিরুদ্ধে ছিলো। সেকারণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাকে আটকের পর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে আরফাত সানিকে কক্সবাজার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যানে তোলার আগ-মুহুর্তে ধারণকৃত আরফাত সানির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায় – আমি একজন গণমাধ্যমকর্মী দেশের পক্ষে থাকায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে, আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’
সাংবাদ বিজ্ঞপ্তি: 


















