চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার যুবক মো. হানিফ (২২)।
নাফনদী জলসীমায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে তার একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপর পাটিও আদৌ রক্ষা করা যাবে কি না—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
চমেক হাসপাতালের ৫ম তলার ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন হানিফের সঙ্গে থাকা তার ভাগ্নে ইমাম হোসেন এসব তথ্য জানান।
ইমাম হোসেন বলেন, গত রোববার রাতে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ হয়। সারারাত গোলাগুলি ও ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যায়। পরদিন সোমবার সকালে নিজেদের মাছের ঘেরে রাখা নৌকা ঠিক আছে কি না তা দেখতে সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যান হানিফ।
এ সময় নিজেদের তৈরি করা একটি বেড়িবাঁধ দিয়ে হাঁটার সময় সেখানে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আহত অবস্থায় প্রথমে হানিফকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করে একটি পা কেটে ফেলতে হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপর পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সেটিও কেটে ফেলতে হতে পারে।
এদিকে, হানিফের চিকিৎসা নিয়েও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা।
ইমাম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার অপর পায়ে ড্রেসিংয়ের সময় রক্তের প্রয়োজন হলে তারা নিজেরাই রক্ত সংগ্রহ করে দেন। কিন্তু এরপর নার্স ও সংশ্লিষ্টরা জ্বরের অজুহাত দেখিয়ে ওয়ার্ড ছেড়ে চলে যান। “তারপর থেকে আর কেউ খোঁজ নেয়নি,” অভিযোগ করেন তিনি।
এক পুত্র সন্তানের জনক মো. হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বা বিল এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এখন দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে পুরো পরিবার।
ভাগ্নে ইমাম হোসেন বলেন, “সে বেঁচে থাকলেও সারাজীবন পঙ্গু হয়ে থাকতে হবে—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।”
সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণের এঘটনা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ আতংক তৈরি করেছে।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 
























