ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন যাঁরা লেবুর দামে আগুন রাষ্ট্রের ক্ষমতাকেন্দ্রে জিয়া পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি দুটো শপথই নিলেন এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ৭৬ শতাংশই নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিলেন না রুমিন শেষ পর্যন্ত শপথ নিলেন জামায়াতের সদস্যরা সেই জার্সি পরেই সংসদে শপথ নিতে এলেন হাসনাত সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন তারেক রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না বিএনপি নতুন সরকারের শপথ আজ পোকখালীতে চিংড়ি ঘেরের কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে মালিক নিহত : আটক-২ ক্যামজা-র ১৪তম বার্ষিক মিলনমেলা ও আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন, যা জানা গেল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হবে

মাতারবাড়ি বন্দরের মালামাল পাচার: মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাক আটক

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর এলাকা থেকে কোটি টাকার সরকারি মালামাল পাচারের সময় একটি ট্রাক আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ট্রাকটি মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনাল এলাকা থেকে মূল্যবান এলএনজি পাইপ, স্ক্র্যাপ ও সিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। চালক ও শ্রমিকরা মালামালের বৈধ চালান বা প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ট্রাকটি মালামালসহ পটিয়া হাইওয়ে থানায় আটক রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও কালারমার ছড়া আফজালিয়া পাড়ার কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে মূল্যবান মালামাল চুরি ও পাচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি প্রকল্পের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় বন্দর এলাকার মালামাল বাইরে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে- মীর আক্তার কোম্পানির পাথর ভেন্ডার মারুফের ট্রাক থেকে এসব মাল উদ্ধার করা হয়। কোম্পানির হিসাবরক্ষক মিরাজ প্রথমে দাবি করেন, তারা টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ ও পাইপ কিনেছেন, তবে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভেন্ডার মারুফ ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, মীর আক্তার কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু সাদাত সায়েম বলেন, “আমরা শুধু পাথর বিক্রি করেছি, এলএনজি পাইপ বা স্ক্র্যাপ বিক্রির কোনো অনুমতি দেইনি।”

মহেশখালী থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি জেনেছি- ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চোরাই মাল কীভাবে বন্দর এলাকা থেকে বের হলো, তা অনুসন্ধান করা হবে।

মাতারবাড়ি বন্দরের ক্যাপ্টেন আতাউল বলেন- এসব সামগ্রী ‘সাবিট’ নামের আরেক সংস্থা তত্ত্বাবধান করে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি মূল্যবান সম্পদ চুরি ও পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

মাতারবাড়ি বন্দরের মালামাল পাচার: মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাক আটক

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর এলাকা থেকে কোটি টাকার সরকারি মালামাল পাচারের সময় একটি ট্রাক আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ট্রাকটি মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনাল এলাকা থেকে মূল্যবান এলএনজি পাইপ, স্ক্র্যাপ ও সিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। চালক ও শ্রমিকরা মালামালের বৈধ চালান বা প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ট্রাকটি মালামালসহ পটিয়া হাইওয়ে থানায় আটক রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও কালারমার ছড়া আফজালিয়া পাড়ার কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে মূল্যবান মালামাল চুরি ও পাচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি প্রকল্পের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় বন্দর এলাকার মালামাল বাইরে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে- মীর আক্তার কোম্পানির পাথর ভেন্ডার মারুফের ট্রাক থেকে এসব মাল উদ্ধার করা হয়। কোম্পানির হিসাবরক্ষক মিরাজ প্রথমে দাবি করেন, তারা টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ ও পাইপ কিনেছেন, তবে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভেন্ডার মারুফ ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, মীর আক্তার কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু সাদাত সায়েম বলেন, “আমরা শুধু পাথর বিক্রি করেছি, এলএনজি পাইপ বা স্ক্র্যাপ বিক্রির কোনো অনুমতি দেইনি।”

মহেশখালী থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি জেনেছি- ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চোরাই মাল কীভাবে বন্দর এলাকা থেকে বের হলো, তা অনুসন্ধান করা হবে।

মাতারবাড়ি বন্দরের ক্যাপ্টেন আতাউল বলেন- এসব সামগ্রী ‘সাবিট’ নামের আরেক সংস্থা তত্ত্বাবধান করে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি মূল্যবান সম্পদ চুরি ও পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।