ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লবণ মাঠে দূর্বৃত্তের তাণ্ডব,২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

মহাসড়কের চকরিয়া অংশে অক্টোবর মাসেই ২২ দুর্ঘটনা: ২৭ জনের মৃত্যু

১৫৫ কিলোমিটারের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রয়েছে ৮০ টির মতো বিপজ্জনক বাঁক। ফলে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, হচ্ছে প্রাণহানি।
এছাড়াও মহাসড়কের পাশে হাটবাজার ও সওজের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে দিনদিন প্রস্থ সংকুচিত হচ্ছে এই মহাসড়কের। সড়কে পরিবহনের সংখ্যা বেড়েছে বহুগুন, সংকুচিত সড়কে এতো বেশী পরিবহন আর গণপরিবহনগুলোর দ্রুত ও বেপরোয়া গতির কারণেও এই মহাসড়কে লাশের মিছিল হচ্ছে দীর্ঘ। সম্প্রতি চকরিয়ায় একই পরিবারের ৫ জন প্রাণ হারায় সড়ক দূর্ঘটনায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দূর্ঘটনায় আহত আরো একজনের মৃত্যু হয়।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, অক্টোবর মাসেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ৪৪ কিলোমিটার অংশে ঘটেছে অন্তত ২২টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২৭ জন ও আহত হয়েছে শতাধিক।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে জায়গা ভেদে ৬০ থেকে ১০৪ ফুট পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করা থাকলেও দুই লেনের মূল সড়কটি ২৪ ফুটের। বাকী জায়গা দখল হয়ে গেছে।

আজিজনগর থেকে ডুলাহাজারা পর্যন্ত মহাসড়কে ৫৯৩টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ৩৫০ দখলদারকে সরে যেতে চিঠি দিয়েছে সওজ। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমননা থাকায় দখলদাররা আছে বহাল তবিয়তে।

এই মহাসড়কের আরেক ‘মৃত্যুফাঁদ’ হলো বাঁকগুলো।যা এতই বাঁকানো যে, একদিক থেকে গাড়ি চলাচল করলে অন্যদিকে দেখা যায় না। আর কাছাকাছি আসলে গতিদ্রুত থাকায় গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাঁকগুলো সরানো জরুরি বলে মনে করছেন গাড়ী চালকরা।

দাবী উঠেছে এই মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার। এ নিয়ে গঠিত চকরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট লুৎফুল কবির বলেন, মহাসড়কের চকরিয়া অংশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যসঙ্গী। মহাসড়কের চকরিয়া অংশে ৪৪ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে অকালে জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে অনেক মানুষের। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা এখানকার মানুষের প্রাণের দাবি।

স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কটি ছয় লেন না হওয়া পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। কারণ সারাদেশ থেকে পর্যটন জেলা কক্সবাজারের উদ্দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন যাতায়াত করে। কিন্তু দুই লেন হওয়ায় যেমন তীব্র যানজট হয়, তেমনি সংকুচিত সড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে চলছে।

একাধিক গাড়িচালক দাবি করেন, এ মহাসড়কে প্রতিদিন লবণভর্তি ট্রাক চলাচল করে। লবণে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, গত এক মাসে মালুমঘাট হাইওয়ের আওতাধীন (চকরিয়া দক্ষিণাঞ্চল ফাসিয়াখালী থেকে খুটাখালী নতুন অফিস পর্যন্ত) এলাকায় ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অনেক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুল আমিন বলেন, গত অক্টোবরে চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার আওতাধীন (চকরিয়ার উত্তরাঞ্চল পৌর শহর থেকে উত্তর হারবাং আজিজনগর পর্যন্ত) এলাকায় মোট ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া অসংখ্য যাত্রী আহত হয়েছেন। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালানোর বিষয়ে চালকদের নির্দেশনা দেওয়া দরকার যানবাহন মালিকদের।

কক্সবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন বলেন, এই মহাসড়কের জমির অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে এবং ৬ লেনে উন্নীতকরণের দাবী উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হবে।

দখল উচ্ছেদ করে মহাসড়ক প্রশস্তকরা, ৬ লেনে উন্নীত করা, সড়কের বাঁক গুলো সরানো, লবণবাহী গাড়ীর পানি সড়কে পড়া বন্ধ করা আর বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে যানবাহনের গতি সীমিত করা গেলে এ মহাসড়কে থামবে মৃত্যু মিছিল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কের চকরিয়া অংশে অক্টোবর মাসেই ২২ দুর্ঘটনা: ২৭ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৪:২৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

১৫৫ কিলোমিটারের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রয়েছে ৮০ টির মতো বিপজ্জনক বাঁক। ফলে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, হচ্ছে প্রাণহানি।
এছাড়াও মহাসড়কের পাশে হাটবাজার ও সওজের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে দিনদিন প্রস্থ সংকুচিত হচ্ছে এই মহাসড়কের। সড়কে পরিবহনের সংখ্যা বেড়েছে বহুগুন, সংকুচিত সড়কে এতো বেশী পরিবহন আর গণপরিবহনগুলোর দ্রুত ও বেপরোয়া গতির কারণেও এই মহাসড়কে লাশের মিছিল হচ্ছে দীর্ঘ। সম্প্রতি চকরিয়ায় একই পরিবারের ৫ জন প্রাণ হারায় সড়ক দূর্ঘটনায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দূর্ঘটনায় আহত আরো একজনের মৃত্যু হয়।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, অক্টোবর মাসেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ৪৪ কিলোমিটার অংশে ঘটেছে অন্তত ২২টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২৭ জন ও আহত হয়েছে শতাধিক।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে জায়গা ভেদে ৬০ থেকে ১০৪ ফুট পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করা থাকলেও দুই লেনের মূল সড়কটি ২৪ ফুটের। বাকী জায়গা দখল হয়ে গেছে।

আজিজনগর থেকে ডুলাহাজারা পর্যন্ত মহাসড়কে ৫৯৩টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ৩৫০ দখলদারকে সরে যেতে চিঠি দিয়েছে সওজ। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমননা থাকায় দখলদাররা আছে বহাল তবিয়তে।

এই মহাসড়কের আরেক ‘মৃত্যুফাঁদ’ হলো বাঁকগুলো।যা এতই বাঁকানো যে, একদিক থেকে গাড়ি চলাচল করলে অন্যদিকে দেখা যায় না। আর কাছাকাছি আসলে গতিদ্রুত থাকায় গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাঁকগুলো সরানো জরুরি বলে মনে করছেন গাড়ী চালকরা।

দাবী উঠেছে এই মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার। এ নিয়ে গঠিত চকরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট লুৎফুল কবির বলেন, মহাসড়কের চকরিয়া অংশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যসঙ্গী। মহাসড়কের চকরিয়া অংশে ৪৪ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে অকালে জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে অনেক মানুষের। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা এখানকার মানুষের প্রাণের দাবি।

স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কটি ছয় লেন না হওয়া পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। কারণ সারাদেশ থেকে পর্যটন জেলা কক্সবাজারের উদ্দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন যাতায়াত করে। কিন্তু দুই লেন হওয়ায় যেমন তীব্র যানজট হয়, তেমনি সংকুচিত সড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে চলছে।

একাধিক গাড়িচালক দাবি করেন, এ মহাসড়কে প্রতিদিন লবণভর্তি ট্রাক চলাচল করে। লবণে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, গত এক মাসে মালুমঘাট হাইওয়ের আওতাধীন (চকরিয়া দক্ষিণাঞ্চল ফাসিয়াখালী থেকে খুটাখালী নতুন অফিস পর্যন্ত) এলাকায় ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অনেক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুল আমিন বলেন, গত অক্টোবরে চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার আওতাধীন (চকরিয়ার উত্তরাঞ্চল পৌর শহর থেকে উত্তর হারবাং আজিজনগর পর্যন্ত) এলাকায় মোট ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া অসংখ্য যাত্রী আহত হয়েছেন। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালানোর বিষয়ে চালকদের নির্দেশনা দেওয়া দরকার যানবাহন মালিকদের।

কক্সবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন বলেন, এই মহাসড়কের জমির অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে এবং ৬ লেনে উন্নীতকরণের দাবী উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হবে।

দখল উচ্ছেদ করে মহাসড়ক প্রশস্তকরা, ৬ লেনে উন্নীত করা, সড়কের বাঁক গুলো সরানো, লবণবাহী গাড়ীর পানি সড়কে পড়া বন্ধ করা আর বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে যানবাহনের গতি সীমিত করা গেলে এ মহাসড়কে থামবে মৃত্যু মিছিল।