ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে বলেছেন তারেক রহমান।
রোববার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান এ নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “যেদিন ভোট, সেদিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে যে যার ভোট কেন্দ্রের সামনে যাবেন। ওখানে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের নামাজ পড়বেন। ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে একদম ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন।
“যেহেতু আপনারা ধানের শেষে ভোট দিচ্ছেন, কেউ যেন কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। একদম ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন, বাক্স পাহারা দিতে হবে; ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যেন কেউ এদিক-ওদিক করতে না পারে, ভোট ষড়যন্ত্র করতে না পারে। বোঝা গেছে ভাই কথা।”
চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠে এই নির্বাচনি সমাবেশে বিকাল থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সেখানে আসতে থাকেন। তবে দলের নেতার আসতে আসতে রাত হয়ে যায়।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন কামরুল হুদা। আর জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সমাবেশে তারেক রহমান তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমরা সরকার গঠন করলে আমাদের দলের পরিকল্পনাগুলো সফল করতে চাই। কোনো কোনো ব্যক্তি দুই-তিন দিন ধরে বলছেন, আমরা বলে দেশের মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি।
‘‘এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপনারা কামরুলকে(কামরুল হুদা) চেনেন না? আমাকে তো চেনেন। আচ্ছা মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের লাভটা কী? কোনো লাভ আছে? আমাদেরকে তো আপনাদের কাছে আসতেই হবে।”
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি সমাবেশে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি সমাবেশে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “বিএনপি তো আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে। করেছে না? একটা অভিজ্ঞতা আছে না? অভিজ্ঞতা যদি থাকে, তাহলে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেটাকে কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, সেটা জানে।
“বর্তমান প্রেক্ষাপটে একমাত্র বিএনপি সেই রাজনৈতিক দল, যাদের অভিজ্ঞতা আছে, যারা দেশ পরিচালনা করেছে এবং কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করলে সেটাকে কীভাবে পর্যায় ক্রমে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে হয়, একমাত্র এটা বিএনপি জানে।”
‘ওরা শুধু বিএনপির বদনাম করছে’
তারেক রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন কয়েকবার তাকে কাশি দিতে দেখা যায়। রাতের সমাবেশগুলোতে তাকে লাল টুপি পরে থাকতে দেখা যায়। বলেন, ‘‘ঠান্ডা লাগছে, জ্বর আসছেতো। আমি জোরে কথা বলতে পারছি না। একটু শান্ত হয়ে মন দিয়ে শুনেন আমার কথাগুলো।”
কোনো দলের নাম উচ্চারণ না করে তারেক বলেন, “তারা শুধু বিএনপির বদনাম করে যাচ্ছে।করুক, আমার কোনো আপত্তি নাই, আমাদের কোনো আপত্তি নাই।
“আমরা ভাই আপনাদের জন্য, দেশের জন্য কী করতে পারব, কী করব, আমরা সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা মানুষের ভোট পেলে, আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা ওয়ান- টু- থ্রি করে আমাদের কাজগুলো করতে থাকব। কে কী বলল, আমাদের যায় আসে না।”
চৌদ্দগ্রামের পর কুমিল্লার সুয়াগাজীতে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
সেখানে তিনি বলেন, “সমালোচনা বা গিবত করে পেট ভরবে না। স্বৈরাচার কিংবা কোনো প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের গিবত বা সমালোচনা করে লাভ নেই, যদি যা বলি, তা করতে না পারি। তবে মাঝে মাঝে সমালোচনা করতে হবে যদি কেউ বেশি বাড়াবাড়ি করে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের পেটে ভাত দরকার, পকেটে হালাল পয়সা দরকার, চিকিৎসা দরকার, শিক্ষা দরকার। দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের দরকার।
“এগুলো হচ্ছে আমাদের পরিকল্পনা৷ আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা বলি আমাদের রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে জনগন; জনগনকে সব সময় আমরা পাশে রাখতে চাই।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা বলছি, ফ্যামিলি কার্ড দিব, কৃষক কার্ড দিব। অন্যান্য দল এসবের সমালোচনা করছে; আমি দেখেছি, আপনারাও শুনেছেন। তারা যাই বলুক, কিচ্ছু যায় আসে না।”
কাচপুরে রাত আড়াইটার পর মঞ্চে তারেক রহমান
সবশেষে নারায়ণগঞ্জের কাচপুরে বালুরমাঠে সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
রাত আড়াইটার পর তিনি ওই সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন। প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর তাদের জন্য ভোট চান।
এত রাতেও বালুরমাঠ ভর্তি বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে তাদের নেতার বক্তৃৃতা শোনার অপেক্ষায় ছিলেন।
এর আগে কুমিল্লার দাউদাকান্দিতে সমাবেশ শেষে তিনি কাচপুরে পৌঁছান।
পরে রাত ৩টার দিকে রাজধানাীর পথে রওনা দেয় তারেক রহমানের গাড়ি বহর।
এদিন বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনি জনসভা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এরপর তিনি ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ, সোয়াগাজীর ডিগবাজী মাঠ, দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং কাচপুরের জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
এসব সমাবেশে তারেক রহমান দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতায় গেলে দেশ গড়তে যেসব পরিকল্পনা করেছেন তা তুলে ধরেন।
সমাবেশগুলোতে শীতের মধ্যেও হাজার হাজার নেতাকর্মী বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক নারীদেরও দীর্ঘ সময় ধরে তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
সূত্র :বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
টিটিএন ডেস্ক: 





















