ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের সাথে আলমগীর ফরিদের শুভেচ্ছা বিনিময় উখিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধে এনসিপির আহবান কক্সবাজারের চারটি আসনে ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত চকরিয়ার ফুলের রাজ্যে ২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি ঢাকায় সালাহউদ্দিনের সাথে আলমগীর ফরিদ, ‘জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি’ মুক্তিযুদ্ধ ও নারী অধিকার: রাষ্ট্রের প্রশ্নে আপসহীনতা মহেশখালীর সাতদিনব্যাপী আদিনাথ মেলা শুরু আগামীকাল থেকে কক্সবাজার ৪ সহ ৩০টি আসনে জয়ীদের শপথ স্থগিতে আইনী পদক্ষেপ নেবে জামায়াত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান চাঁদাবাজদের পুলিশে দিন,সাহসিকতার জন্যে দেয়া হবে পুরস্কার- লুৎফুর রহমান কাজল তারেকের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি: ডব্লিউআইওএন কক্সবাজারে বিএনপির দাপট: সালাহউদ্দিন ৪, ফরিদ ৩, কাজল ২ ও শাহজাহান ৫ বার এমপি জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার: ড. আলী রিয়াজ টেকনাফে উদ্ধার কিশোর,১ রোহিঙ্গাসহ চক্রের ৪ জন আটক প্রধান উপদেষ্টার বার্তা: নির্বাচনী আচরণে প্রশংসিত জামায়াত আমির
টেকনাফে বিজিবি ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ

বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় ৭ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে রাত ১০ টার দিকে।

সোমবার (৯জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা মৌলভীবাজার এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামক এক ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আটকের পর জাহাঙ্গীরকে ছাড়িয়ে নিতে বিক্ষোভ করলে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে বিজিবি’র। এতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল ছুঁড়ে স্থানীয়রা। এর বিপরীতে গুলি ছুঁড়ে বিজিবি।

এতে ১০-১৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য দিয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসা আহত ৭ জনের স্বজনরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা আহতরা হলেন, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের ০২ নং ওয়ার্ডের সিরাজ মিয়ার পুত্র রফিক আলম(২৪), ০১ নং ওয়ার্ডের নুরুল আলমের পুত্র মফিজ আলম(২৭), একই ওয়ার্ডের মৃত সৈয়দ আহমদের পুত্র আজিজুর রহমান(৫১), নূর মোহাম্মদের পুত্র নূর মোস্তাফা(১৮), আব্দুল্লাহর পুত্র রায়হান(১৮) এবং মোঃ আলমের পুত্র ফয়সাল(১৪)।

তবে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “গত ২৮ মে টেকনাফের হ্নীলা বিওপি’র টহলদল একটি বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়। সে সময় মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম এর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ব্যক্তি বিজিবির অভিযানে বাধা প্রদান করে এবং অবৈধ জনতা জমায়েত করে দেশীয় অস্ত্রসহ বিজিবি’র ওপর হামলা চালায়।

এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করার কথাও বলা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। ওই মামলা নম্বর- ৬৮/৩৬১।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এরই প্রেক্ষিতে সোমবার  বিকাল ৪টার পর বিজিবির একটি টহলদল জাহাঙ্গীর আলমকে তার নিজ এলাকা হ্নীলা ইউনিয়নের নাইক্যংখালী থেকে আটক করে। জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা জড়ো হয়ে রাস্তা ব্লক করে। পরে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।”

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয়দের সাথে বা জাহাঙ্গীরের ‘কথিত অনুসারীদের সাথে’ সংঘর্ষ বাঁধার কথা উল্লেখ নেই।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ধরার সময় জাহাঙ্গীর ও কয়েকজন জেলের সাথে বিজিবির বাড়াবাড়ি ও হাতাহাতি হয়।

স্থানীয়দের দাবি জাহাঙ্গীর একজন জেলে। তিনি কোন ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত নয়।

টেকনাফ মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মোসা বলেন, জাহাঙ্গীরকে ফাঁসানো হয়েছে। সে নিরীহ একজন জেলে। তাকে আটক করাই আমরা প্রতিবাদ করি। এতে আমাদের ওপর গুলি চলানো হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা কফিল উদ্দিন বলেন, বিজিবি আমাদের ওপর অন্যায় ভাবেই গুলি চালিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি নিয়ে বসে সমাধান করতে পারতো, কিন্তু উল্টো আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, এক জেলেকে আটক নিয়ে স্থানীয় ও বিজিবির সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ৭জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের সাথে আলমগীর ফরিদের শুভেচ্ছা বিনিময়

This will close in 6 seconds

টেকনাফে বিজিবি ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ

বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ

আপডেট সময় : ১২:১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় ৭ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে রাত ১০ টার দিকে।

সোমবার (৯জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা মৌলভীবাজার এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামক এক ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আটকের পর জাহাঙ্গীরকে ছাড়িয়ে নিতে বিক্ষোভ করলে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে বিজিবি’র। এতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল ছুঁড়ে স্থানীয়রা। এর বিপরীতে গুলি ছুঁড়ে বিজিবি।

এতে ১০-১৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য দিয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসা আহত ৭ জনের স্বজনরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা আহতরা হলেন, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের ০২ নং ওয়ার্ডের সিরাজ মিয়ার পুত্র রফিক আলম(২৪), ০১ নং ওয়ার্ডের নুরুল আলমের পুত্র মফিজ আলম(২৭), একই ওয়ার্ডের মৃত সৈয়দ আহমদের পুত্র আজিজুর রহমান(৫১), নূর মোহাম্মদের পুত্র নূর মোস্তাফা(১৮), আব্দুল্লাহর পুত্র রায়হান(১৮) এবং মোঃ আলমের পুত্র ফয়সাল(১৪)।

তবে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “গত ২৮ মে টেকনাফের হ্নীলা বিওপি’র টহলদল একটি বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়। সে সময় মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম এর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ব্যক্তি বিজিবির অভিযানে বাধা প্রদান করে এবং অবৈধ জনতা জমায়েত করে দেশীয় অস্ত্রসহ বিজিবি’র ওপর হামলা চালায়।

এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করার কথাও বলা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। ওই মামলা নম্বর- ৬৮/৩৬১।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এরই প্রেক্ষিতে সোমবার  বিকাল ৪টার পর বিজিবির একটি টহলদল জাহাঙ্গীর আলমকে তার নিজ এলাকা হ্নীলা ইউনিয়নের নাইক্যংখালী থেকে আটক করে। জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা জড়ো হয়ে রাস্তা ব্লক করে। পরে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।”

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয়দের সাথে বা জাহাঙ্গীরের ‘কথিত অনুসারীদের সাথে’ সংঘর্ষ বাঁধার কথা উল্লেখ নেই।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ধরার সময় জাহাঙ্গীর ও কয়েকজন জেলের সাথে বিজিবির বাড়াবাড়ি ও হাতাহাতি হয়।

স্থানীয়দের দাবি জাহাঙ্গীর একজন জেলে। তিনি কোন ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত নয়।

টেকনাফ মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মোসা বলেন, জাহাঙ্গীরকে ফাঁসানো হয়েছে। সে নিরীহ একজন জেলে। তাকে আটক করাই আমরা প্রতিবাদ করি। এতে আমাদের ওপর গুলি চলানো হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা কফিল উদ্দিন বলেন, বিজিবি আমাদের ওপর অন্যায় ভাবেই গুলি চালিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি নিয়ে বসে সমাধান করতে পারতো, কিন্তু উল্টো আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, এক জেলেকে আটক নিয়ে স্থানীয় ও বিজিবির সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ৭জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।