ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতামুহুরী হচ্ছে কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা ১৮ মাস পর ইউনূস সেন্টারে ফিরলেন মুহাম্মদ ইউনূস ১২ মার্চ সংসদ বসছে, নির্বাচন করা হবে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আসবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ভিসি নিয়াজ আহমদ খান চকরিয়ার কাকারায় ডাকাতের হামলায় মুজিবের মৃত্যু দাবী স্থানীয়দের: আঘাতের চিহ্ন নেই বলছে পুলিশ বিশ্বের সব দেশের ওপর শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করলেন ট্রাম্প বাংলাদেশ-সৌদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে: প্রধানমন্ত্রী জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ: যাত্রী কল্যাণ সমিতি ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী, করবেন বইমেলার উদ্বোধন রমজানের অর্থনৈতিক দর্শন ‘চুল-দাঁড়ি পেকে সাদা হয়ে গেছে, আর কত!’  – জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রিপন ভাষার ভালোবাসায় জীবন: ইতিহাস কী বলে? রামুতে হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন দুই আওয়ামী লীগ নেতা! আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেলা জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

আজ আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস

আজ ৮ জুন, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস। পরিবেশ রক্ষার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনে দিবসটি পালনের ধারণা উঠে আসে। ঐ বছরই প্রথমবারের মতো এই দিবসটি পালন শুরু হয়। এরপর ২০০৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে এটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। ফলস্বরূপ, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনে সাগরকেন্দ্রিক নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিচারে সমুদ্র এ দেশের জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য নয়, এক বিশাল সম্ভাবনার উৎস। বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি ঘিরে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির ভিত্তি। এই সমুদ্রসীমা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের আর্থসামাজিক কাঠামোতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বড় কিছু চ্যালেঞ্জও। দেশের সমুদ্রবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, একটি পৃথক ‘সমুদ্র মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, সমুদ্রদূষণ ঠেকাতে এবং সাগরসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুসংগঠিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ থাকা আবশ্যক। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করলেও, তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই বললেই চলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে ‘মেরিন কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান’ বা সামুদ্রিক সংরক্ষণ নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। এখনো আলাদা মন্ত্রণালয় না থাকায় সমুদ্রসম্পদের দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অভিভাবক নেই। ফলে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ট্যুরিস্ট পুলিশের মতো বিভিন্ন সংস্থা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো সমন্বিত উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

এই বাস্তবতায়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবসে বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন জাগে—আমাদের সমুদ্র কি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে? শুধু প্রতীকী উদযাপন নয়, চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যৌথ প্রয়াস।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতামুহুরী হচ্ছে কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা

This will close in 6 seconds

আজ আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস

আপডেট সময় : ০১:০২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

আজ ৮ জুন, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস। পরিবেশ রক্ষার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনে দিবসটি পালনের ধারণা উঠে আসে। ঐ বছরই প্রথমবারের মতো এই দিবসটি পালন শুরু হয়। এরপর ২০০৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে এটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। ফলস্বরূপ, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনে সাগরকেন্দ্রিক নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিচারে সমুদ্র এ দেশের জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য নয়, এক বিশাল সম্ভাবনার উৎস। বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি ঘিরে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির ভিত্তি। এই সমুদ্রসীমা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের আর্থসামাজিক কাঠামোতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বড় কিছু চ্যালেঞ্জও। দেশের সমুদ্রবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, একটি পৃথক ‘সমুদ্র মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, সমুদ্রদূষণ ঠেকাতে এবং সাগরসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুসংগঠিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ থাকা আবশ্যক। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করলেও, তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই বললেই চলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে ‘মেরিন কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান’ বা সামুদ্রিক সংরক্ষণ নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। এখনো আলাদা মন্ত্রণালয় না থাকায় সমুদ্রসম্পদের দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অভিভাবক নেই। ফলে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ট্যুরিস্ট পুলিশের মতো বিভিন্ন সংস্থা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো সমন্বিত উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

এই বাস্তবতায়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবসে বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন জাগে—আমাদের সমুদ্র কি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে? শুধু প্রতীকী উদযাপন নয়, চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যৌথ প্রয়াস।