ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার নির্দেশ, প্রতিবেদন তলব মগনামায় সরকারি খালে ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণ নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা : পাহাড়ধসের আশংকা সেন্টমার্টিনে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক মহেশখালী চ্যানেলে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই বালু উত্তোলন, ৫০ লাখ টাকা জরিমানা সমিতিপাড়ায় কিশোর সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি বেলাল গ্রেপ্তার কক্সবাজারে বাধ্যতামূলক মামলা পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু নভেম্বরে : আয়োজক বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৯ বছর আগেই নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়কে ঘিরে নতুন অপপ্রচার: অধ্যক্ষের প্রতিবাদ উখিয়ায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর ৩ সদস্য আটক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন মোজাফফর অতিরিক্ত প্রোটিন কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? সেই ‘কালো দুপুরের’ এক বছর আজ
বিজয় দিবস হাফ ম্যারাথন'২৪

‘চাইর নম্বর পাইয়ি আঁরা ফোঁয়াতি জামাই-বউয়ে’

ভোরের আলো ফুটতেই পাহাড়ের সবুজ মেখে মেরিন ড্রাইভের পিচঢালা রাস্তা ধরে দৌঁড়াচ্ছেন তরুণরা। এর এক পাশে দিগন্ত ছোঁয়া নীল জলের বিশাল সমুদ্রের হাওয়া মেখে যাচ্ছে শরীরে। এমন দৃশ্যই ছিলো শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে।

উপলক্ষ ছিলো বিজয় দিবস হাফ ম্যারাথন। যার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

শনিবার ভোরে সমুদ্রের কূল ঘেঁষে যাওয়া কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের দরিয়া নগর থেকে শুরু হয়ে ইনানী পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার দূরত্বের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ৩শতাধিক দেশী বিদেশী প্রতিযোগী।

ভিন্ন আঙ্গিকের এই প্রতিযোগিতা ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিলো অংশগ্রহণকারীদের। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সেনাবাহিনীর কর্মীরা জানান, সমুদ্র দেখে ২১ কিলোমিটার দৌড়ে তারা খুবই আনন্দিত।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা অংশগ্রহণকারীরা জানালেন এক পাশে পাহাড় অন্যপাশে সমুদ্র এমন মনোরম দৃশ্য দেখে দৌড়ানোর অনুভূতি। প্রকৃতির সাথে নান্দনিক পরিবেশে এমন আয়োজন অসাধারণ।

কক্সবাজারে কাজের সুবাদে বাস করা আমেরিকান এক দম্পতি অংশ নেন প্রতিযোগিতায়। তারা কক্সবাজারের আঞ্চলিক ভাষাও আয়ত্তে আনেন অনেকটা। তাদের মধ্যে স্ত্রী বলেন, “আঁরা জামাই বউয়ে এন সুন্দর রাস্তাত হারা হারা দুইজ্জি। চাইর নম্বর পাইয়ি ফোয়াতি। আততু বেশি গম লাইজ্ঞে এডে দুরিয়ারে।” ( আমরা স্বামী স্ত্রী এমন সুন্দর রাস্তায় তাড়াতাড়ি দোড়াইছি। চার নম্বর হয়েছি একসাথে। আমার ভালো লেগেছে এখানে দৌড়ে।)

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম ফিনিস লাইন অতিক্রম করে মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। তিনি ঢাকা থেকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন আশরাফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম।এসময় তিনি বলেন, শুধু বিজয় দিবস মেরাথনই নয়,আগামীতে এমন মনোরম পরিবেশে একটি সাইক্লিং রেস ও আরও একটি মেরাথন আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে আয়োজকরা। ২৫০০ বছর পুরোনো এই মেরাথনের সাথে সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা থেকেই আজকের এই আয়োজন।

জেলা প্রশাসক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৩৯৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ২৪৮ জন রেসটি সম্পন্ন করেছে। সকলের সমন্বয়ে আয়োজন সফল করতে পেরে খুশি আমরা।

মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি সম্মান ও পরিবেশের প্রতি সচেতনতা তৈরি করতেই এমন আয়োজন। যার উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

ম্যারাথনের সবচেয়ে উপভোগ্য ছিলো সাগরের গর্জনের সাথে হিমেল হাওয়া মেখে শরীর মিলিয়ে দেয়া প্রকৃতির মাঝে, এমনটাই অভিমত অংশগ্রহণকারীদের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার নির্দেশ, প্রতিবেদন তলব

বিজয় দিবস হাফ ম্যারাথন'২৪

‘চাইর নম্বর পাইয়ি আঁরা ফোঁয়াতি জামাই-বউয়ে’

আপডেট সময় : ১১:০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

ভোরের আলো ফুটতেই পাহাড়ের সবুজ মেখে মেরিন ড্রাইভের পিচঢালা রাস্তা ধরে দৌঁড়াচ্ছেন তরুণরা। এর এক পাশে দিগন্ত ছোঁয়া নীল জলের বিশাল সমুদ্রের হাওয়া মেখে যাচ্ছে শরীরে। এমন দৃশ্যই ছিলো শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে।

উপলক্ষ ছিলো বিজয় দিবস হাফ ম্যারাথন। যার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

শনিবার ভোরে সমুদ্রের কূল ঘেঁষে যাওয়া কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের দরিয়া নগর থেকে শুরু হয়ে ইনানী পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার দূরত্বের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ৩শতাধিক দেশী বিদেশী প্রতিযোগী।

ভিন্ন আঙ্গিকের এই প্রতিযোগিতা ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিলো অংশগ্রহণকারীদের। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সেনাবাহিনীর কর্মীরা জানান, সমুদ্র দেখে ২১ কিলোমিটার দৌড়ে তারা খুবই আনন্দিত।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা অংশগ্রহণকারীরা জানালেন এক পাশে পাহাড় অন্যপাশে সমুদ্র এমন মনোরম দৃশ্য দেখে দৌড়ানোর অনুভূতি। প্রকৃতির সাথে নান্দনিক পরিবেশে এমন আয়োজন অসাধারণ।

কক্সবাজারে কাজের সুবাদে বাস করা আমেরিকান এক দম্পতি অংশ নেন প্রতিযোগিতায়। তারা কক্সবাজারের আঞ্চলিক ভাষাও আয়ত্তে আনেন অনেকটা। তাদের মধ্যে স্ত্রী বলেন, “আঁরা জামাই বউয়ে এন সুন্দর রাস্তাত হারা হারা দুইজ্জি। চাইর নম্বর পাইয়ি ফোয়াতি। আততু বেশি গম লাইজ্ঞে এডে দুরিয়ারে।” ( আমরা স্বামী স্ত্রী এমন সুন্দর রাস্তায় তাড়াতাড়ি দোড়াইছি। চার নম্বর হয়েছি একসাথে। আমার ভালো লেগেছে এখানে দৌড়ে।)

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম ফিনিস লাইন অতিক্রম করে মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। তিনি ঢাকা থেকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন আশরাফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম।এসময় তিনি বলেন, শুধু বিজয় দিবস মেরাথনই নয়,আগামীতে এমন মনোরম পরিবেশে একটি সাইক্লিং রেস ও আরও একটি মেরাথন আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে আয়োজকরা। ২৫০০ বছর পুরোনো এই মেরাথনের সাথে সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা থেকেই আজকের এই আয়োজন।

জেলা প্রশাসক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৩৯৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ২৪৮ জন রেসটি সম্পন্ন করেছে। সকলের সমন্বয়ে আয়োজন সফল করতে পেরে খুশি আমরা।

মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি সম্মান ও পরিবেশের প্রতি সচেতনতা তৈরি করতেই এমন আয়োজন। যার উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

ম্যারাথনের সবচেয়ে উপভোগ্য ছিলো সাগরের গর্জনের সাথে হিমেল হাওয়া মেখে শরীর মিলিয়ে দেয়া প্রকৃতির মাঝে, এমনটাই অভিমত অংশগ্রহণকারীদের।