Thursday, June 13, 2024

প্রত্যাবাসন রুখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো আরসা!

বিশেষ প্রতিনিধি :

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে চলমান বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার কূটনৈতিক তৎপরতা থামাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) ।

প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য বিতর্কিত এই উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকেরা প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুক সাধারণ রোহিঙ্গাদের বিভ্রান্তি করার পাশাপাশি হত্যা,গুম, সহ বড় নাশকতার মাধ্যমে ভয়ভীতি ছড়াতে কাজ করছে।

সমর্থকরা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে ক্যাম্পগুলোর ব্লক কেন্দ্রিক ডিজিটাল সেল গড়ে তুলে সশস্ত্রদের নাশকতার পরিকল্পনাকে করছে সহায়তা।

অব্যাহত আছে বিরোধীদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে গোলাগুলি, মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাৎ করা রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখানো সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

যার অংশ হিসেবে গত বুধবার ( ০১ নভেম্বর) রাতে উখিয়ার মধুরছড়া এলাকার ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিরোধীদের সাথে আই ব্লকের ‘ডিজিটাল সেল’ এর সহায়তায় গোলাগুলিতে জড়ায় ১২/১৫ জন আরসা সদস্য।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযানে নামলে পরিস্থিতি রুপ নেয় ত্রিমুখী সংঘর্ষে।

টানা ৩ ঘন্টা পর গোলাগুলি থামলে ঘটনাস্থল থেকে অত্যাধুনিক ও দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকি টকি সহ ৬ আরসা সদস্যকে গ্রেফতার করে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন (এপিবিএন)।

এসময় আটক রোহিঙ্গারা হলো , পেটান আলী (৫০), মো. জোবায়ের (২৫), দিল মোহাম্মদ (২৬), শরীয়ত উল্লাহ (২৭), জিয়াবুর রহমান(২৬) ও মোহাম্মদ আয়াছ (১৯)। তারা সবাই আরসার সাথে জড়িত ও কুতুপালং  মেগা ক্যাম্প ৫ এর বিভিন্ন ব্লকের বাসিন্দা।

আর আগে মঙ্গলবার আরসার’ শীর্ষ কমান্ডার ও ১৩ মামলার আসামি মাত্তুল কামাল ওরফে নুর কামাল হাসিম উল্লাহকে গ্রেফতার করে এপিবিএন।  এছাড়াও একই দিন রাতে র‍্যাব-১৫ এর হাতে গ্রেফতার হয় আরেক শীর্ষ কমান্ডার আব্দুল মোতালেব প্রকাশ হেফজুর রহমান।

এদিকে, গত ৩১ অক্টোবর মিয়ানমারের ৩২ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে টেকনাফে আলোচনায় অংশ নেয়।

এসময় রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব করা ৩৬৮ জনের অধিকাংশই প্রতিনিধিদের কাছে মর্যাদার সাথে নিজ দেশে ফেরার প্রত্যয় জ্ঞাপন করেন। এসময় মায়ানমারের আগ্রহ প্রকাশ পেলেও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

আলোচনায় অংশ নেওয়া ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, ” আমরা আমাদের মাটিতে ফিরতে চাই কিন্তু কোনভাবেই আরসা চায় না প্রত্যাবাসন হোক। মায়ানমার সরকারের মনোভাবে অনেক পরিবর্তন এসেছে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। তবে ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আরসা বাধাগ্রস্ত করছে বলেই প্রত্যাবাসন আলোর মুখ দেখছেনা।”

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অধিকার কর্মী মোহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, ” সন্ত্রাসীরা চায় না আমরা দেশে ফিরি, কারণ তাদের মাদক কারবার চাদাবাজি সহ সাধারণ রোহিঙ্গাদের উপর দমন নিপীড়ন কমে যাবে।”

ক্যাম্প এলাকায় সীমিত সংখ্যক জনবল নিয়ে  অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা অব্যাহত রাখলেও ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ এবং ঘনবসতির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে। যদিও সম্মিলিত অভিযান ও তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ায় নস্যাৎ হচ্ছে আরসার পরিকল্পনা।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ” এপিবিএন সদস্যরা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সবসময় নিজেদের দায়িত্বে অবিচল। সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি আরসা সহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নাশকতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

নিজ দেশ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে নতুন করে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পায়।

বর্তমানে নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে কক্সবাজারের ৩৩ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা  ১২ লক্ষাধিক।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ