Thursday, June 13, 2024

হাসিনা বধ না ভারত বধ, কোন খেলায় যুক্তরাষ্ট্র

হাসিনা বধ না ভারত বধ, কোন খেলায় যুক্তরাষ্ট্র

যেখানে ভারত বধের কথা সেখানে বাংলাদেশ বধ না হয়ে হাসিনা বধ কেন? কারণ বাংলাদেশ নয় হাসিনায় পাহারা দিয়ে রেখেছে সেভেন সিস্টার নামক অঞ্চলটিকে। যে কারণে ভারত স্বস্তি বোধ করছে। যখন মূল ধারার রাজনীতিতে ক্ষয় শুরু হয় তখন মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান হয়, যেমনটি সন্ধ্যা হলেই শিয়াল বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে। হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেয়ে ভারতের সেভেন সিস্টারে শিয়ালের বিচরণ করানোই কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ইচ্ছা?

যখন ঘূর্নিঝড় আসে তখন আমরা বিভিন্ন ধরনের সংকেতের মাধ্যমে বুঝতে পারি ঘুর্নিঝড়ের পূর্বাভাস। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী কি হতে পারে সামনের সময়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু শব্দ চয়ন ঐ সংকেত দেয়। এখন প্রশ্ন হলো কি সেই সংকেত? প্রাথমিক সংকেত হচ্ছে “আমরা অমুক দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনে উদ্বেগ প্রকাশ করছি”। সেকেন্ডারি সংকেত হচ্ছে “অমুক দেশের বিভিন্ন মানুষের নাম উল্লেখ করে বলবে আমরা তাদের আদালতে পরিচালিত মামলা গুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখবো”। টারশিয়ারি সংকেত হচ্ছে “চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অমুক দেশের নিরাপত্তা সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হলো”। সর্বশেষ সংকেত হচ্ছে “আমরা দেশের মানুষের জন্য গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ঐ দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছি”। এখন ঘূর্ণিঝড় শুরু হলো আমরা প্রান্তিকরা সন্তান সন্ততি নিয়ে এক রুমে বসে তসবিহ নিয়ে আল্লাহ আল্লাহ করছি যেন এই ঘূর্নিঝড় থেমে যায়। সকাল হলো, ঘূর্নিঝড় থামলো, প্রান্তিকরা সন্তান সন্ততি নিয়ে বাড়ির বাইরে এসে মাথায় হাত দিয়ে বিধ্বস্ত সবকিছুর দিকে তাকিয়ে রইলো এবং ভবিষ্যত চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লো। ততক্ষণে সমাজের সচ্ছল মানুষ গুলো ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষতি দেখতে এদিকে ওদিকে ছুড়তে থাকলো এবং কিভাবে এই ঝড়কে পুঁজি করে লাভবান হওয়া যায় তার একটা চিত্র অঙ্কন করা শুরু করে দেয়। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিকরা, ঐ ঘূর্নিঝড়ের মত। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মনে করে দরিদ্র মানুষকে পুঁজি করে আলোচনায় থাকা খুব সহজ, যেমন রোহিঙ্গা সমস্যা। এখানে মূখ্য হচ্ছে আলোচনায় থাকা আর গৌণ হচ্ছে গরিবের ঠিকে থাকা।

জি ২০ সম্মেলন, সেপ্টেম্বর ৯-১০, ২০২৩, আমরা সাধারণরা যা দেখি; হাসিনার সেলফি আর যা আমরা ভাবিনা তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জি ২০ সম্মেলন পরবর্তী ভিয়েতনামে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বললো ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, ঐ যে সংকেত এক। কনাডার প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে বিলাস বহুল লালিত হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট এ না থেকে সাধারণ একটি কক্ষে রাত্রি যাপন করেন। তিনি কি এটা বুঝাতে চেয়েছেন যে ভারতে যেখানে কালিস্তানদের নিরাপত্তা নাই, সেখানে আমার নিরাপত্তা কেমনে থাকে? শেক্সপিয়ারের ভাষায় এইগুলো হচ্ছে “নাটকের ভিতরে নাটক”, যেমনটি আমরা দেখি “হ্যামলেট” নাটকে। তারপর তার বিমান দুই দিন ধরে টারমাকে অচল হয়ে পড়লো, চেষ্টা করেও ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাকে তার বিমান নষ্ট করে দেওয়ার প্রমান হয়তো বের করতে পারে নাই! সম্মেলনের আগে চীনের নতুন মানচিত্র প্রকাশ, শি জিনপিং এর সম্মেলনে আসাটা নিরুৎসাহিত করার প্রয়াস নয় কি? কারণ তার আগে আমরা দেখি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং কে গৃহবন্দী করা হয়েছে। আমরা সকলেই জানি ঐ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে আমেরিকাতে চীনের হাইকমিশনার ছিলেন। তবে তাকে দিয়েই কি ছড়ি ঘোরাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র? চীন ভারতের কাছাকাছি আসুক সেটা কি কোনোভাবেই মেনে নিতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র? ব্রিকসের সম্মেলনে যেখানে চীনের রাষ্ট্রপতি বলেছেন ভারত এবং চীনের সীমান্তের মধ্যে সংঘাত আর বিরাজ করবে না। সেখানে কিভাবে জি ২০ সম্মেলনের ঠিক দুই দিন আগে অনাকাঙ্ক্ষিত মানচিত্র প্রকাশ হয় এবং কেনই বা কিন গ্যাং কে গৃহবন্দী করে রেখেছে চীন?

নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র আর বিধি-বিধান পালন করার জন্য উৎসাহিত হয় কানাডা। অতি উৎসাহী হয়ে চীনের প্রতিষ্ঠান হুয়াওয় মালিকের কন্যা মেং ওয়ানঝো কে ০১ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ভ্যানকুভার আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে গ্ৰেফতার করা হয় আদালতের নির্দেশ এর কথা বলে। পাশাপাশি তার মেয়ের হাতে জিপিএস ডিভাইস লাগিয়ে দেওয়া হয় যেন তিনি কোথায় যাচ্ছেন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কানাডার নিরাপত্তা সংস্থা। এইটা অতীত ঘটনা কিন্তু বর্বর ইতিহাস গড়লো কানাডা। এখন দেখলাম হঠাৎ করে কালিস্তান পন্থী নেতাদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে কানাডা এবং তারা সেখানে আন্তর্জাতিক ভিয়েনা কনভেনশন অমান্য করে প্রতিনিয়তই ভারতের কানাডায়স্থ হাইকমিশনে হামলা করে যাচ্ছে। জুন ১৮, ২০২৩ তারিখে দুর্বৃত্তের আঘাতে কালিস্তানপন্থী এক নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার নিহত হয় সারে কানাডা নামক স্থানে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মিলে পুরনো বোতলে নতুন মদ ভরে বিক্রির পায়তারা করছে। যেমনি ভাবে তুরস্কে অক্টোবর ০২, ২০১৮ তারিখে জামাল খাসুদি হত্যাকান্ডাকে সৌদি আরবের যুবরাজের নির্দেশে হয়েছে বলে একটা সুর গুল তুলেছিল, ঠিক সেভাবে কালিস্তানপন্থী নির্বাসিত নেতার মৃত্যুবরণ কে ভারতের নির্দেশানায় হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ‘অভিযোগ’ তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র একধাপ এগিয়ে আরো বলে তাদের কাছে হরদীপ কে ‘হত্যায়’ ভারতের জড়িত থাকার গোয়েন্দা তথ্য আছে এবং ওই তথ্য তারা কানাডা সরকারকে হস্তান্তর করবে। এ থেকেই বোঝা যায় ভারতের প্রকৃত বন্ধু কখনোই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং পশ্চিমারা ছিল না। এখন ভারতের সময় এসেছে তার চারপাশের সমস্ত দেশগুলোর সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে রাজনৈতিক সকল সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে একজোট হয়ে অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যাওয়া।

জিন-পল সার্ত্র বলেন “আমরা যাদের ভালোবাসি তাদের বিচার করি না”। সুতরাং পশ্চিমা প্রেমিক হলেও তাদের ত্রুটির সমালোচনা করতে হবে এবং তাদের অবাধ্য হতে হবে। হেনরি ডেভিড থোরো বলেন “অবাধ্যতা স্বাধীনতার প্রকৃত ভিত্তি। বাধ্য হতে হবে দাস”।

লেখক
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
sheikh.jhm@gmail.com

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ