Thursday, June 13, 2024

বাজেট ও সাধারণ জনগন : অর্থনীতির দুষ্টুচক্র থেকে সত্যি কি আমরা বের হতে পেরেছি?

নজরুল বলেছেন ‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছে মহান’। আর এখন বাজেট আমাদের কে করেছে মহান! বাজেটের সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে, বাজেট পূর্বক গবেষণা না করা। কপি পেস্ট টাইপের বাজেট কখনো সাধারণ মানুষের উপকারে আসতে পারে বলে মনে হয় না।

বাজেট একটা উপঢৌকন হিসেবে কাজ করছে বলে মনে হয় যারা অবৈধ সম্পদ অর্জনে ব্যস্ত তাদের জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বঁরশি তে আধার দিয়ে মাছ ধরতে হয়। তাহলে আর জালের দরকার কি? অর্থমন্ত্রী বলেছেন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি কমে আসবে। তাহলে মাঝখানের এই ছয় মাসের রক্ষাকবচ কি?

সংবাদ পত্রে কিসের দাম কমবে, আবার কিসের দাম বাড়বে সেটা প্রকাশ করতেই ব্যস্ত। দাম বাড়া কমের মধ্যেই এখন বাজেট। আমরা যখন দেখি বা ভাবি বাজেট পরবর্তী একটা ভালো সময় আসবে নিজের পরিবারে, আসলেই কি কখনো এই রকম কেউ ভাবছে? সত্যিই না, বাংলাদেশের বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের কোন প্রতিক্রিয়া নেই কারণ সবাই জানে বাজেট মানে বিভিন্ন দ্রব্যাদির মূল্য বেড়ে যাবে জুলাই থেকে নয় বরং জুন থেকেই। ব্যবসায়ীরা শেয়ার বাজার নিয়ে হয়তো বাজিতে হেরে যেতে পারে কিন্তু বাজেট নিয়ে পণ্য মজুদ করে লাভবান হবে সেই বাজিতে জয় হয়। সুতরাং এবার বলুন কোথায় কখন কিভাবে দাম কমলো?

বাসায় যদি কুমির পালন করেন তাহলে কুমিরের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে অন্যথায় লালন পালনকারীই খাবার হয়ে যেতে পারে। দেশের কুমির হচ্ছে মেগা প্রজেক্ট গুলো, এখন এরা রক্ষক কেই খেয়ে ফেলছে। যখন কোন প্রজেক্ট থেকে সরকার ভ্যাট আদায় করে তখন আর সেইটা সেবার আওতায় থাকে না। সেবায় যদি দিতে না পারি তাহলে এতো বড় বড় মেগা প্রজেক্টের স্বপ্ন দেখিয়ে লাভ কি? উদাহরণস্বরূপ মেট্রোরেল।

দেশ প্রতি বছর বাজেট দেয় আর উন্নয়নের কথা বলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে জনগণের উন্নয়নের জন্য এই বাজেট। আচ্ছা আগামী অর্থবছরের বাজেট এর কথা বাদই দিলাম, গেল অর্থবছরের বাজেটে আপনার কি লাভ হয়েছে একটু চোখ বন্ধ করে বলুনতো? সেই বাজেটেও অনেক কিছুর দাম কমেছিল বটে!

ধরুন আপনি অসুস্থ, এখন বাঁচার জন্য ছটফট করে ছুটে চলছেন হাসপাতালে। এখন ডাক্তার মশাই আপ্রাণ চেষ্টা করবে আপনি যেন সুস্থ হয়ে উঠেন। বিভিন্ন ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হবে, অতঃপর আপনি ঔষধ সেবনের জন্য ঔষধ ক্রয় করবেন। আপনি যখনি পানি দিয়ে ঔষধ খেলেন (পানি এবং ঔষধ) উভয় পণ্যে‌ সরকারকে ভ্যাট দিয়ে আপনি বাঁচার চেষ্টা করলেন। এখন বলুন আপনি বাঁচার জন্যোও সরকারকে ভ্যাট দিতে হবে! হঠাৎ রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনায় আপনার পা ভেঙ্গে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়লো, আপনি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পায়ে রড দিয়ে ভাঙ্গা পা জোড়া লাগানোর প্রক্রিয়ায় গেলেন। এবার রড কিনলে, এই রড ক্রয়ের টাকা জাতীয়ভাবে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ে যাবে, ফলে দেশে আবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে। ভাবুন তো এবার! জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য আপনার ভাঙ্গা পাও অবদান রাখছে।

আসুন বাজেট বিশ্লেষণ বাদ দিয়ে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি। দার্শনিক এরিস্টটল‌ বলেছেন যে, ‘রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করার শাস্তি হচ্ছে নিকৃষ্টদের দ্বারা শাসিত হওয়া।’

লেখক
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
sheikh.jhm@gmail.com

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ