Thursday, June 13, 2024

জব্দ বালু বনে মিশিয়ে দিতে বনবিভাগের অভিযান, আদালতের স্থগিতাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনভূমিতে জব্দ করা চার লাখ ঘনফুট বালু বনে মিশিয়ে দিতে শুরু করা বনবিভাগের অভিযান স্থগিত করে দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার সকালে আদেশের অনুলিপি পেয়ে অভিযান স্থগিত করে বনবিভাগ। চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম জাহিদ হোসাইন এক আবেদনের প্রেক্ষিতে এ স্থগিতাদেশ দেন।

এর আগে বুধবার ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বালু বনে মিশিয়ে দিতে অভিযান চালায় বনবিভাগ। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযানে বনবিভাগের ৬৫ জন বনরক্ষী ও শতাধিক সুফল শ্রমিক অংশ নেয়।

আদালতের স্থগিতাদেশে জব্দকৃত বালু উত্তোলনের স্থানের দাগের খতিয়ান ও মৌজার সাথে মিল আছে কিনা, সংশ্লিষ্ট মৌজার সীট, খতিয়ান পর্যালোচনা করে আদেশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) পেকুয়াকে নির্দেশ দেন। একইসাথে পরবর্তী কার্যক্রমের সুবিধার্থে রেঞ্জ অফিসার, বারবাকিয়াকে বিগত ০২/০৫/২৪ ইং তারিখের আদেশের সকল কাজ পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বলেন।

টৈটং বনবিট কর্মকর্তা জমির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিটের মধুখালি এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমিতে বনদস্যুরা গোপনে বালু মজুত করেছিলো। বিষয়টি নজরে এলে এসব বালু জব্দ করে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। গত ২৭ মার্চ পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম সংরক্ষিত বনভূমিতে অনুপ্রবেশ করে বনবিভাগের জব্দ করা বালু ফের জব্দ দেখিয়ে নিলামে বিক্রির অপচেষ্টা চালান। যা বন বিরুদ্ধ কাজ। এনিয়ে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হলে, আদালত জব্দ করা বালু বনের নিচু স্থানে মিশিয়ে দিয়ে এর উপর বৃক্ষরোপণের নির্দেশ দেন। গত ২ মে এই আদেশের পরে বিভাগীয় অনুমতি নিয়ে ৮ মে বনবিভাগ অভিযান শুরু করে। কিন্তু আদালতের আরেকটি আদেশে এ অভিযান এখন স্থগিত আছে।

বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক বলেন, যে আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দাখিলের পরে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া যাবে। বালু জব্দ করার স্থানটি সংরক্ষিত বনভূমি। রিজার্ভ হারবাং মৌজার ৫১ নং খতিয়ানের এ জমি বনবিভাগের মালিকানাধীন। এর অন্তত দুই কিলোমিটারের ভেতরে ব্যক্তি মালিকানাধীন বা খাস খতিয়ানের জমি নেই। আমাদের এই অভিযানে বিঘ্ন ঘটাতে আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের আদেশ পেয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে বালু মিশিয়ে দেওয়ার এ অভিযান শুরু করা হয়। দু’টি হুইল লোডার ও একশো জন শ্রমিক বুধবার রাত-দিন কাজ চালিয়ে অর্ধেক বালু মিশিয়ে দিতে পেরেছে। বৃক্ষ রোপণসহ পুরো কাজ শেষ হতে আরো দুই-তিন দিন সময় লাগবে। আমরা আদালতের নির্দেশনা পেলে বাকি কাজ শেষ করবো।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মধুখালীর সংরক্ষিত বনভূমিতে সর্ব সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাশ ঘেঁষা এ বনভূমি বন্যপ্রাণীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনি জটিলতা মোকাবেলা করে আমরা বন রক্ষায় এগিয়ে যাবো। বনের বিরুদ্ধে যেকোন অপতৎপরতা বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার রয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ