Thursday, June 13, 2024

জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে- রামুর বড় ক্যাং পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চেরাংঘাটায় রাখাইন জনগোষ্ঠীর প্রায় দেড়শো বছরের প্রাচীন উসাইচেন বড় ক্যাং বৌদ্ধ বিহারে আগুন দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। তবে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা তাৎক্ষণিক এগিয়ে আসায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বিহারটির দোতলায় ওঠার সিঁড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারূ) দিনগত রাত দুইটার দিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান রামুর এই বড় ক্যাং পরিদর্শনে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক মুম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনকে আমরা আশ্বস্থ করেছি, এঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এসময় জেলা প্রশাসকের সাথে ছিলেন পুলিশ সুপার মাহাফুজুল ইসলাম। পুলিশ সুপার বলেন,আমরা ঘটনাস্থল জেলা প্রশাসকসহ আইন শৃংখলাবাহিনী সদস‌্যরা পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ চলছে,ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সার্বিক তদন্ত সাপেক্ষ বলা যাবে এটি নাশকতা কিনা। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে চেরাংঘাটাস্থ উসাইচেন বৌদ্ধ বিহারের ( বড় ক্যাং ) অধ্যক্ষসহ সবাই প্রতিদিনের মত ঘুমিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে রাত ২ টার দিকে আকস্মিক ভাবে আগুন দেখে তাদের ঘুম ভাঙ্গে।। এসময় বৌদ্ধ বিহারের অবস্থানকারিদের ভিক্ষুর শোর-চিৎকার এবং ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে এলাকাবাসি দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্ঠা চালায়। এরই মধ্যে একজন ৯৯ এ ফোন করলে খুব দ্রুত রামু ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থরে পৌঁছে। এলাকাবাসী এবং ফায়ার সার্ভিসের চেষ্ঠায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রনে আসে। তবে ততক্ষনে বিহারের দোতলায় ওঠার সিঁড়িটি পুড়ে যায়।

বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংকিউ রাখাইন বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে রাত দুইটা ৫ মিনিটের দিকে বিহারের পাশের মাঠ দিয়ে এক অজ্ঞাত লোককে বিহারের দিকে আসতে দেখা যায়। এবং মিনিট পাঁচেক পরেই ওই লোকটি দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে ওই লোকটিই বিহারে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান। তবে ওই দুর্বৃত্বের নাম পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিহার পরিচালনা কমিটির নেতা অংছে রাখাইন বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে ঘটনাটি পরিকল্পিত। এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ এ নাশকতার চেষ্ঠা চালাতে পারে।

কক্সবাজার সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সাংসদ অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন বলেন, এ ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত।

ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত। ২০১২ সালের সালে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর ঐতিহ্যবাহি এ বৌদ্ধ বিহারে যে হামলা হয়েছিলো একইভাবে ভাবে জাতীয় নির্বাচনের একদিন আগে আবারও অগ্নিসংযোগ করা হল। আমরা মনে করছি,এই বিহারটি ধ্বংস করতে কেউ টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারা সফল না হওয়া পর্যন্ত হামলা করবে। এ অবস্থায় আমি বিহারের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দাবি করছি।

প্রসঙ্গত ২০১২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর ১২টি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার ও ৩০টি বসতঘর। হামলা,ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় হামলা করা হয় আরো ৬টি বৌদ্ধ বিহার ও শতাধিক বসতঘরে। পরদিন উখিয়া ও টেকনাফে আরও সাতটি বিহার ও ১১টি বসতঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ