ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি স্পষ্ট গণরায় তৈরি করেছে। এই রায় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিগত দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংযম এবং রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার একটি কঠিন পরীক্ষা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে পরিবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছে। তবে এই ম্যান্ডেটের মূল তাৎপর্য প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক পরিসর রক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা সরকারের নয়, সরাসরি গণরায়ের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নির্বাচনীভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই পরাজয় দেখায় যে সীমিত আদর্শিক ভোটব্যাংক আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সমর্থন তৈরি করতে পারছে না। দলটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্ভবত সরাসরি ক্ষমতার বাইরে, সাংগঠনিক প্রভাবের মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি কার্যত রাজনৈতিক অপ্রাসঙ্গিকতার মুখোমুখি। স্পষ্ট নীতি, শক্ত সংগঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি জনসম্পৃক্ততা ছাড়া নতুন রাজনীতির ধারণা টেকসই হয় না; এই নির্বাচন তা আবারও প্রমাণ করেছে। মৌলিক পুনর্গঠন ছাড়া দলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
নির্বাচনে পরাজিত হলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুরোপুরি রাজনীতির বাইরে নয়। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও অবশিষ্ট ভোটভিত্তি দলটিকে পুনরায় প্রাসঙ্গিক হওয়ার সুযোগ দেয়। তবে সেই সুযোগ নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন সরকারের সুশাসন ও আওয়ামী লীগের নিজস্ব আত্মসমালোচনা ও সংস্কারের সক্ষমতার ওপর।
এই নির্বাচন দেখিয়েছে; বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব। কিন্তু গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে নির্বাচনোত্তর শাসনের মানের ওপর। জনগণ সরকার বদলায়নি শুধু; তারা শাসনের চরিত্র বদলানোর প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে আজকের বিজয় দ্রুতই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় রূপ নিতে পারে।
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 

















