ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অবশেষে জুলাই সনদে সই করছে এনসিপি ছায়া সংসদ কী, কীভাবে কাজ করে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম আলোচনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখার আহ্বান সৌদির আজ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ, বাংলাদেশে দেখা যাবে কি? নতুন সরকারের কাছে কি চায় কক্সবাজারের মানুষ? শীতের কাপড় আলমারিতে তুলে রাখার সময়টা কখন? কন্যাকে বাল্যবিবাহের দায়ে পিতাকে জরিমানা পেকুয়ায় অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে গেছে ১০ বসতবাড়ি, ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নাহিদের বাসায় তারেক রহমানের ৪৫ মিনিট কুতুবদিয়ায় ৪ বসতবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই টেকনাফে ধরা পড়লো ২০০ কেজি ওজনের মাইট্যা মাছ: বিক্রি ৪০ হাজার টাকায় জামায়াতসহ ১১ দল আগামীকাল বিক্ষোভ সমাবেশ করবে রামকুট তীর্থধামে মহারামনবমী মেলা ২৩ মার্চ

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলো মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা

আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠান সামনে নির্বাচন আয়োজনের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও তাতে সামরিক প্রভাব কমেনি। কেননা ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় এখনও থাকছেন সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। খবর রয়টার্স

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার যে আদেশ জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে এবং একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশে একটি নতুন বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন তদারকি করবে।

মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ্য মিন তুন বলেছেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে জারি থাকা জরুরি অবস্থার মেয়াদ সাত দফা বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার তা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এদিন জান্তা সরকার জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, আগামী ছয় মাস নির্বাচন আয়োজন ও প্রস্তুতি নেওয়ার সময়।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে মিয়ানমারে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলে আসছে। সামরিক বাহিনী বিদ্রোহী দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযান পরিচালনা করছে।

মিয়ানমার বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালে আউং সান সু চির নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে। এই অভ্যুত্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে সামরিক বাহিনী বিদ্রোহ দমনে লড়াই করছে এবং ব্যাপক নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে, যা তারা অস্বীকার করে।

এই নির্বাচন পশ্চিমা দেশগুলো প্রহসন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা জেনারেলদের ক্ষমতা সংহত করার একটি মাধ্যম বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি হিসাবে অংশ নেওয়া প্রার্থীরাই প্রাধান্য পাবে এবং বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নির্বাচনে হয় নিষিদ্ধ, নয়তো তারা অংশ নেবে না।

মিয়ানমার পরিস্থিতি বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেছেন, মিয়ানমারে ক্ষমতার এই পরিবর্তন কেবলই নামমাত্র এবং লোক-দেখানো। যারা আগে ক্ষমতায় ছিলেন, তারাই থাকবেন।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলো মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা

আপডেট সময় : ১০:১০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠান সামনে নির্বাচন আয়োজনের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও তাতে সামরিক প্রভাব কমেনি। কেননা ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় এখনও থাকছেন সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। খবর রয়টার্স

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার যে আদেশ জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে এবং একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশে একটি নতুন বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন তদারকি করবে।

মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ্য মিন তুন বলেছেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে জারি থাকা জরুরি অবস্থার মেয়াদ সাত দফা বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার তা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এদিন জান্তা সরকার জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, আগামী ছয় মাস নির্বাচন আয়োজন ও প্রস্তুতি নেওয়ার সময়।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে মিয়ানমারে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলে আসছে। সামরিক বাহিনী বিদ্রোহী দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযান পরিচালনা করছে।

মিয়ানমার বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালে আউং সান সু চির নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে। এই অভ্যুত্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে সামরিক বাহিনী বিদ্রোহ দমনে লড়াই করছে এবং ব্যাপক নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে, যা তারা অস্বীকার করে।

এই নির্বাচন পশ্চিমা দেশগুলো প্রহসন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা জেনারেলদের ক্ষমতা সংহত করার একটি মাধ্যম বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি হিসাবে অংশ নেওয়া প্রার্থীরাই প্রাধান্য পাবে এবং বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নির্বাচনে হয় নিষিদ্ধ, নয়তো তারা অংশ নেবে না।

মিয়ানমার পরিস্থিতি বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেছেন, মিয়ানমারে ক্ষমতার এই পরিবর্তন কেবলই নামমাত্র এবং লোক-দেখানো। যারা আগে ক্ষমতায় ছিলেন, তারাই থাকবেন।