Thursday, February 29, 2024
spot_img

ঈদগাঁওয়ে ভাড়াটিয়া বনে গেছেন মালিক: পথে বসেছে আসল মালিকের ওয়ারিশরা !

টিটিএন ডেস্ক :

কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাজা‌রের প্রবীণ স্বর্ন ব‌্যবসায়ী মৃদুল কা‌ন্তি দে গং এর পৈ‌ত্রিক সম্প‌ত্তি দখল ক‌রে রে‌খে উল্টো জমিদারি ভাব দেখিয়ে দোকানের জমির প্রকৃত ওয়ারিশদের আইনী হয়রানিসহ নানারকম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মৃণাল আচার্য‌্য নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মৃণাল আচার্য্য ঈদগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এবং ইসলামাবাদ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মৃত অর্ধেন্দু আচার্যের ছেলে। বাজারের পুরাতন ব্যবসায়ী তেজেন্দ্র দে, অনিল কান্তি দে, দিলিপ কান্তি দে, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সহ সভাপতি টিটু কান্তি দে, অতীন্দ্র মোহন দে, নুরুল কবির প্রকাশ কালো, গাছ ব্যবসায়ী বশির আহমেদসহ শত শত ব্যসায়ীরা জানায়, মৃণাল আচার্য‌্য এক সময় যতীন্দ্র মোহন দে’র ওয়ারিশদের ভাড়াটিয়া ছি‌লো। ভাড়া‌ চু‌ক্তিনামাও সংর‌ক্ষিত আ‌ছে মৃদুল কা‌ন্তি দে গং এর কা‌ছে। ভাড়া‌ চু‌ক্তি নামায় বাজারের ব‌্যবসায়ী প‌রিমল দে এবং সা‌বেক মেম্বার বাবু্ল কা‌ন্তি দে সাক্ষী র‌য়ে‌ছেন। ২০২১ সাল পর্যন্ত মৃণাল আচার্য‌্য ভাড়া‌টিয়া দোকান ভাড়া দি‌য়ে আস‌ছি‌লো। ভুক্ত‌ভোগী মৃদুল কা‌ন্তি দে গংরা দ‌রিদ্র ও অসহায় দূর্বল প্রকৃ‌তির। ভাড়া চু‌ক্তিনামা শেষ হওয়ার পরপরই হঠাৎ ক‌রে উক্ত ১ শতক জ‌মি‌টির একসনা লীজ মূ‌লে মা‌লিক দা‌বি ক‌রে ব‌সে মৃণাল আচার্য‌্য। যা দাঁড়ায় ভাড়া‌টিয়া হ‌য়ে দোকান ভাড়া নি‌য়ে কৌশলে মা‌লিক ব‌নে যায় তি‌নি। ভুক্ত‌ভোগীরা তা‌কে ভুমিদস‌্যু হি‌সে‌বে আখ‌্যা‌য়িত ক‌রে‌ছেন।এর আগেও সরকারী, অসহায় পরিবারের ব্যক্তি মালিকানা জমি দখল করে জমিদারি করে আসছে। বর্তমানে বাজারের যে ভবনে বসবাস করে আসছে সেটিও সরকারি খাস জমি বলে জানান ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। এদিকে মুক্ত স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিকানা ও স্বত্ব দাবি নিয়ে দুই পক্ষের বিবদমান দ্বন্দ্ব চলমান থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গেল বুধবার ভাড়া চাই‌তে গে‌লে মৃদুল গং‌রা হামলার শিকার হয়। ঘটনার দিন ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কা‌লি ম‌ন্দি‌রের সভাপ‌তি উত্তম রায় পুলক‌ দু’পক্ষ‌কে থা‌মি‌য়ে দি‌তে এ‌গি‌য়ে এ‌লে হেনস্তার শিকার হন বলে জানান মন্দির কমিটি নেতা উত্তম রায় পুলক। ভুক্ত‌ভোগী প‌রিবার মৃদুল কা‌ন্তি দে গং এর কা‌ছে থাকা দলিলপত্র পর্যা‌লোচনা ক‌রে জানা যায়, জমির রায়তী মালিক ত্রিপুরা চরন রায়ের ছেলে সুরেন্দ্র চন্দ্র রা‌য়ের কাছ‌ থে‌কে দলিল মূলে ১৯৪৪-৪৫ স‌নে ক্রয় করেন নজির আহমেদের ছেলে আলীম উদ্দিন, পরে ১৯৫২ সালে আলীম উদ্দিন থেকে ক্রয় করেন হাজী আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে সোলেমান।আবার ৬/৬/১৯৬২ সা‌লে ২৫৫৮ ও ২৫৫৯ কবলা দলীল মূ‌লে এক শতক জ‌মিটি ক্রয় করেন ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়া এলাকার নন্দ কুমার দে’র ছেলে তৎসমের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী যতীন্দ্র মোহন দে। ঈদগাঁও মৌজার আরএস ১৩৬, এমআরআর ১৫৬, বিএস দাগ ৭৭৬৯। জ‌মি‌টি পা‌কিস্তান আ‌ম‌লের চা‌ন্দিনা স্ব‌ত্বের রেকর্ডীয় মা‌লিক য‌তীন্দ্র মোহন দে। পরবর্তী‌তে জ‌মিটি বিএস জ‌রি‌পে খাস হি‌সে‌বে রেকর্ড হয়। ২০১২ সা‌লে জেলা প্রশাস‌নের বিরু‌দ্ধে বিএস সং‌শোধনী মামলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত কক্সবাজারে চলমান র‌য়ে‌ছে।যার নং অপর ২২৭/২০১২,০৮/০৫/১২
পার্শ্ববর্তী নিউ লক্ষী জু‌য়েলা‌র্সের মা‌লিক টুন্টু আচার্য‌্য ব‌লেন দোকা‌নের আরএস, এমআরআর সূ‌ত্রে মা‌লিক মৃদুল কা‌ন্তি দে গং। ভাড়া‌টিয়া হি‌সে‌বে মৃণাল আচার্য‌্য দীর্ঘদিন থাকার পর হঠাৎ ক‌রে লিজ সূ‌ত্রে মা‌লিক দা‌বি ক‌রছে।বাংলাদেশ জুয়েলারি মালিক সমিতি (বাজুস) ঈদগাঁও শাখার সাধারন সম্পাদক সুকুমার রায় এবং বি‌রোধীয় দোকা‌নের পার্শ্ববর্তী
একতা গা‌র্মে‌ন্টস্ এর মা‌লিক স্বপন কা‌ন্তি দেসহ বেশ ক‌য়েকজন প্রবীন ব‌্যবসায়ীও একই মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন। লক্ষী জু‌য়েলা‌র্সের মা‌লিক কম‌লেন্দু আচার্য‌্য ব‌লেন, তি‌নি ১৯৯২ সাল থে‌কে ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই দোকা‌নের এক‌টি অং‌শের ভাড়া‌টিয়া ছি‌লেন। ভাড়াটিয়া হি‌সে‌বে মৃদুল কা‌ন্তি দে গং‌দের কা‌ছে নিয়‌মিত ভাড়া দি‌তেন।
ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কা‌লি ম‌ন্দি‌রের সভাপ‌তি উত্তম রায় পুলক ব‌লেন, মৃণাল আচার্য‌্য পূজা উদযাপন প‌রিষ‌দের নেতা হ‌য়ে অ‌ন্যের জ‌মি দখল ক‌রে, বিচা‌রের না‌মে জামানত নি‌য়ে ব‌্যবসা করাসহ নানান অ‌নিয়‌ম ক‌রে আস‌ছে। অপক‌র্মের কার‌নে মৃণাল আচার্য‌্যকে সনাতনী সমা‌জচ‌্যুতও করা হ‌য়ে‌ছে।বাজার প‌রিচালনা ক‌মি‌টির সাধারন সম্পাদক রাজিবুল হক রিকো বলেন, মৃণাল আচার্য‌্য একজন মৃদুল কা‌ন্তি দে গং‌দের ভাড়াটিয়া। ভাড়া‌ চু‌ক্তিনামার একটি ক‌পি বাজার ক‌মি‌টির অ‌ফি‌সে জমা আ‌ছে।এ সব বিষয়ে মৃণাল আচার্য‌্য প্রতি‌বেদক‌কে ব‌লেন- মৃদুল কা‌ন্তি দে গং‌দের কোন স্বত্ত নাই। ভাড়া চু‌ক্তি নামা অস্বীকার ক‌রে খাস জ‌মি লিজ মূ‌লে তি‌নি মা‌লিক। মৃদুল গং‌দের প‌ক্ষে যারা কথা ব‌লছে তারা সবাই দালালি ক‌রে‌ছে। মৃণাল আচার্য্য আরো বলেন, পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হতে না পেরে অনেকেই তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে, তাদেরকে কিছু জনপ্রতিনিধি পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসছে। তিনি এসব বিষয়ে পৃথক দুইটি অভিযোগ দায়ের করেছে থানায়। একটিতে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, অপররিতে সামাজিক ভাবে হেনস্তার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page