Thursday, February 29, 2024
spot_img

ঘূ‌র্ণিঝড় মিগজাউমের বাংলা‌দে‌শে আসার সম্ভাবনা কম

 

মান্দি ডি কস্টা :

ব‌ঙ্গোপসাগ‌রে তৈ‌রি হওয়া মিগজাউম না‌মে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলা‌দেশ উপকূ‌লে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (৩ ডি‌সেম্বর) টি‌টিএন‌কে এ তথ‌্য জানান, কক্সবাজার আবহাওয়া অ‌ফি‌সের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. ইমাম উদ্দীন। টি‌টিএন‌কে জানান, ব‌ঙ্গোপসাগ‌রে অবস্থানরত বর্তমান গভীর নিম্নচাপ‌টি ‌রোববারের ঘূর্ণিঝড়ে প‌রিনত হ‌য়ে‌ছে। এটি ৫ ডি‌সেম্ব‌রের দি‌কে ভার‌তের অন্ধ্র প্রদে‌শের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হান‌তেপা‌রে। বর্তমান গ‌তিপথ পরবর্তন না কর‌লে বাংলা‌দে‌শের উপকূ‌লে এটির আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। ত‌বে এর প্রভা‌বে ৫ ও ৬ ডি‌সেম্বর বাংলা‌দে‌শে বৃ‌ষ্টি হ‌তে পা‌রে।

এদি‌কে, সতর্কতা হি‌সে‌বে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ (দুই) নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে‌ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার (৩ ডি‌সেম্বর) আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিততে (ক্রমিক নম্বর-১১) এ সং‌কেত দেয় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্ৰ।

সতর্ক বার্তায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এর অবস্থান সম্প‌র্কে বলা হয়, দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ আরো উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১২.০° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮২.০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি আজ দুপুর ১২ টায় (০৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৭০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫২৫ কি.মি. দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৪৩৫ কি.মি. দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪৪০ কি.মি. দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুদ্ধ রয়েছে।

উল্লেখ‌্য, ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন‌্য ২০০৪ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলো মি‌লিতভা‌বে ঝড়ের নামকরণ শুরু করে। সে সময় আটটি দেশ স‌ম্মি‌লিতভা‌বে মোট ৬৪টি নাম প্রস্তাব করে। এই নামগুলো শেষ হলে আবারও নতুন করে নামের প্রস্তাব করা হয়। যা অনুমোদন দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা-ডব্লিউএমও। দেশগু‌লোর বৈঠকে এক বা একাধিক সি‌নিয়র আবহাওয়া কর্মকর্তা অংশ নিয়ে থাকেন। তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, কী নাম হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সেই তালিকা থেকে ঝড়ের নাম বাছাই করা হয়। বর্তমান মিগজাউমটি মিয়ানমারের দেয়া নাম। এর আগে সব‌শেষ গত ১৭ ন‌ভেম্বর মিধিলি না‌মের ঘু‌র্ণিঝড় বাংলা‌দে‌শের উপকূ‌লে আঘাত হা‌নে। এ বছর ৩‌টি ঘুর্ণিঝড় এরই ম‌ধ্যে ‌দে‌শের উপকূ‌লে আঘাত হে‌নে‌ছে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page