Thursday, February 29, 2024
spot_img

সবজির দাম কমলেও, স্বস্তি নেই মাছের বাজারে!

রাহুল মহাজন, কক্সবাজার

বাজারে সব ধরনের সবজির দামই কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মূলত শীতের সবজি বাজারে আসার কারণেই দাম কমতির দিকে। এতে করে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে ক্রেতাদের মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, শীত বাড়লে সবজির সরবরাহ আরো বাড়বে, তখন দাম আরো কমবে।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) শহরের স্থায়ী বাহারছড়া বাজার ও বড় বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে বাজারের এ চিত্র।

শুধু সবজি নয়, কমতে শুরু করেছে মুরগির দামও। তবে সব সাইজের ভারতীয় পেঁয়াজের দাম এখনও ১০০ টাকার নিচে নামেনি। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন পেঁয়াজ উঠলে দাম কমবে, তবে পুরনো পেঁয়াজের দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। এদিকে, মাংসের দামে কিছুটা কমলেও, মাছের দাম আকাশচুম্বী।

আর বাজারে সবজির দাম কমতির দিকে থাকলেও, যেসব সবজি নতুন করে আসতে শুরু করেছে, সেগুলো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম ৬৫ টাকা, দেশী শিম ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬৫ -৮০ টাকা, কাঁচা টমেটো ১০০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৪০ টাকা, শসা ৩০-৪০টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, ঢেড়শ ৪০-৪৫ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, ধনেপাতা ৮০ টাকা কেজি, প্রতিটি লাউ ও মিষ্টি কুমড়া ৩০ -৪০ টাকা, ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা এবং নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।

সবজি বিক্রেতা মো.আজিজ বলেন, দেশি পাকা টমেটো আর নতুন আলুটা মাত্র আসতে শুরু করেছে। তাই এগুলোর দামটা বেশি। তবে কমে যাবে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই। এছাড়া অন্যান্য সব সবজির দামই কমেছে। দাম বাড়ে নাই কোনটারই।

হরতাল-অবরোধের প্রভাবে কোনও কিছুর দাম বেড়েছে কিনা বা প্রভাব পড়েছে কিনা জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা মো. সাদ্দাম বলেন, হরতাল-অবরোধের কোনও প্রভাব বাজারে পড়ে নাই। প্রথম দিকে (অবরোধের শুরুতে) সবজি আনতে ভাড়া বেশি লাগতো। কারণ কেউ আসতে চাইতো না। এখন আর সেরকম কিছু হয় না।

বাজার করতে আসা নেহাল হুসাইন বলেন, সবজির দাম অনেকটা কমে আসছে। এজন্য কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।

আরেক ক্রেতা শাহরিয়ার বলেন, সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। কিন্তু যখন সব সবজির দাম ৫০ টাকার নিচে নেমে আসবে তখন বলবো দাম কমেছে।

এদিকে, মাছে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি, বড় সাইজের ইলিশ মাছ ১১০০- ১৫০০ টাকা, কোরাল ৬০০ টাকা, রিটা ৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৪০ টাকা, বিগ্রেড ২৫০ টাকা, কার্ফু ২২০ টাকা, রুই ২৫০-৩০০ টাকা, কাতল ৪০০-৬৫০ টাকা, কালি বাউশ ৩৫০- ৭০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০-৯০০ টাকা, রুপচাঁদা ৮০০-১০০০ টাকা, কালো চাঁদা ৩৫০-৫০০টাকা, কৈ ৩২০-৩৫০ টাকা, পোপা ১৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, সুরমা ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন মাছের চাহিদার তুলনায় যোগান কম হওয়ায় বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, মাছের দামের লাগাম টানতে প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার। মাছের দাম বেশি হওয়ায় অনেককেই মাছ না কিনে হাতাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাংসের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০টাকা, কক মুরগি ২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৫০-৫০০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক দিনের বাজার দর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সব ধরনের মুরগি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মুরগি বিক্রেতা মো. হারুন বলেন, মুরগির দাম আসলে প্রতিদিনই উঠা-নামা করে। তবে এখন দাম কমের দিকেই আছে বলা যায়।

সবজির দাম কমলেও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম এখনও ১০০ টাকার নিচে নামেনি। মানভেদে ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০-১১০ টাকায় ব্রিক্রি হলেও চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এছাড়া আলুর দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। গত সপ্তাহের মতো আজও লাল ও সাদা আলু ৪২-৪৫ টাকা দরেই বিক্রি করতে দেখা গেছে।

আলু-পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. ছাদেক বলেন, পেঁয়াজের দাম কমার আর কোনও সম্ভাবনা দেখছি না। বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠলে সেগুলোর দাম কমবে, কিন্তু এই পেঁয়াজের দাম আর কমবে না।

এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে আদা, রসুনের দাম। ভারতীয় আদা ২০০-২২০ টাকা, চায়না রসুন ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি রসুন বাজারে নেই বললেই চলে।

এছাড়া গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুদি দোকানের বিভিন্ন পণ্য। ছোট সাইজের মুসরের ডাল প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, মোটা মুসরের ডাল ১০৫ টাকা, মুগ ডাল ১২৫ টাকা, বুটের ডাল ৬০ টাকা, ছোলা ৯০ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ টাকা, ৫ লিটার ৮১০ টাকা, সরিষার তেল প্রতি লিটার কোম্পানি ভেদে ৩২০-৪১০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩৫ টাকা, প্যাকেটজাত ময়দা ৬৫ টাকা, প্যাকেটজাত আটা ৫৫ টাকা, শুকনা মরিচ ৪–৪০ টাকা দরে ব্রিক্রি হচ্ছে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page