Friday, April 19, 2024

পাচারকারীদের থেকে ৫৭ রোহিঙ্গাকে অপহরণ করেছিলো অন্য পাচারচক্র

আব্দুর রশিদ মানিক :

“আমি ৩৬ বছর হয়েছে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছি। উন্নত জীবনযাপনের জন্য আমার ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে রোহিঙ্গা বাবুলের প্ররোচনায় যাচ্ছিলাম ইন্দোনেশিয়ায়। মাছ ধরার ট্রলারে করে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানোর কথা ছিল আমাদের। পাচারকারীরা যখন আমাদের ট্রলারে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে তুলে দিচ্ছিলো তখন হঠাৎ গুলি এবং অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী আমাদেরকে ছিনিয়ে নেয়” নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোহিঙ্গা জানাচ্ছিলেন টিটিএনকে।

এই রোহিঙ্গা বলেন, ” আমাদের সেখান থেকে ছিনতাই করে সারারাত হাঁঠাতে থাকে। আমার ছোট ছোট বাচ্চাদের খুবই কষ্ট হচ্ছিলো। আমার স্ত্রী বাচ্চা কোলে নিয়ে আর হাঁটতে পারছিলেন না”।

তিনি এটিও জানান, “আমাদের মায়ানমারের চামিলায় পাচার করার কথা হচ্ছিলো। আমাদের সাধ্যমতো সকল সম্বল এবং তাদের যা প্রয়োজন তা দেবো বললেও কেউ কথা শুনেনি। আমাদের দু’দিনধরে একটি ঘরে আটকে রেখেছিলো। আমাকে পরিবার থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিলো। তখন খুবই ভয় পাচ্ছিলাম”।

গেলো শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ৫৭ রোহিঙ্গাকে টেকনাফের হাতিয়ারঘোনায় মেরিন ড্রাইভের পাশে সমুদ্র সৈকত এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাচারের হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় চারজন পাচারকারীকেও আটক করে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চামিলা কেন্দ্রীক ট্রান্সবর্ডার অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত অপরাধী চক্রের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ছামিলাতে পাঠানোর উদ্দেশ্যে কিডন্যাপ করেছিলো। তারা চামিলায় পাঠায় কারণ ভুক্তভোগী পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় করতে সময় লাগে। সেখানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে ভিডিও এবং ছবি পাঠানো হয়। তারপর মুক্তিপণ দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরেক রোহিঙ্গা জানান, “আমাদের টেকনাফের দক্ষিণ ল্যাম্বরীতে সমুদ্র সৈকত ও মেরিন ড্রাইভের কাছে কয়েকটি অস্থায়ী বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিলো। সেখানে আরও অনেককে বন্দী করে রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিকে ও রোহিঙ্গারাও রয়েছেন। আমাদের পাশের অন্য বাড়িতে তাদের বন্দি রাখা হয়েছে”।

“আমরা এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করি কিন্তু পারিনি। কারণ আশেপাশের এলাকার সবাই অপহরণকারীর চক্র। সেখান থেকে পালাতে চাইলে মৃত্যু হতে পারে। অনেক লোকজন এলাকা পাহারা দিচ্ছে”। একজন রোহিঙ্গা জানান।

চামিলা হল মায়ানমারের একটি গ্রাম। যেটিকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভাষায় বলা হয় মগের মুল্লুক। যার অর্থ “যেখানে কোন আইনের শাসন নেই “। চামিলায় মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করা হয় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের। তারপর নির্যাতন করে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করে পাঠানো হয় এবং টাকার দাবি পূরণ হলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে অপহরণের শিকার অনেক মানুষ মুক্তিপণ দিয়ে চামিলা ‘টর্চার সেল’ থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখনও আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের হাতে অনেক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি বন্দি চামিলায়।

বিষয়টি নিয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি টিটিএনকে জানান, ” এই ঘটনায় ২৬ নভেম্বর এসআই সঞ্জীব কুমার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এই ঘটনায় কারা কারা জড়িত, কাদের নাম আসছে সব আমরা অধিকতর তদন্ত করছি”।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page