Thursday, April 11, 2024

পল্লী চিকিৎসক থেকে আরসার শীর্ষ কমান্ডার ডাক্তার হামিদ

আব্দুর রশিদ মানিক:

মৌলভী হামিদ হোসেন প্রকাশ ডাঃ হামিদ। ২০১৭ সালে পরিবারসহ মায়ানমারের বুচিডং-কচুবুনিয়া হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার ঠাঁই হয় বালুখালী ক্যাম্প-৮ই, ব্লক-বি-৮০৬ এ। হামিদের বাবা ছিলেন একজন গ্রাম্য চিকিৎসক। বাবার হাত ধরে হামিদও গ্রাম্য চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। যার ফলে স্থানীয় রোহিঙ্গাদের মাঝে তার পরিবারের ব্যাপক প্রভাব ছিল।

বাংলাদেশে আসার আগে মৌলভী হামিদ হোসেন ২০১৭ সালের প্রথমদিকে মায়ানমারে আরসা’র ওলামা কাউন্সিল এর কমান্ডার মৌলভী তোহা এর মাধ্যমে আরসা’য় যোগদান করে। রোহিঙ্গাদের মাঝে তার পরিবারের ব্যাপক প্রভাব থাকার সুবাদে সে দ্রুত আরসা’র নেতৃত্ব পর্যায়ে পৌঁছে যায়। প্রথমে সে ক্যাম্প-৮ই, ব্লক-বি এর জিম্মাদার নির্বাচিত হন। পরে ক্যাম্প-৮ই এর প্রধান জিম্মাদারের দায়িত্ব পালন করে। শিক্ষিত এবং স্থানীয় রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রভাব থাকায় সে দ্রুত ওলামা বডির প্রধান সালমান মুরব্বীর (গ্রেফতারকৃত) অন্যতম সহযোগী হয়ে উঠেন এবং ওলামা বডির কার্যকরী সদস্য হন। এই সময় সে আরসা’র নতুন সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথেও জড়িত ছিলেন। সালমান মুরব্বী গ্রেফতার হওয়ার পর হামিদ তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ওলামা বডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

ওলামা বড়ির প্রধান হওয়ার পর হামিদ নিজের নেতৃত্বে গঠন করেন ‘স্লীপার সেল’। স্লীপার সেলের মাধ্যমে চোরাগোপ্তা হামলার করা-ই ‘স্লীপার সেল’র প্রধান কাজ।

রোববার (১৯ নভেম্বর) মধ্যরাতে র্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগীতায় কক্সবাজারের উখিয়ার ১৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে আরসা’র স্লীপার সেল ও ওলামা বডির অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার মৌলভী হামিদ হোসেন প্রকাশ ডাক্তার হামিদকে গ্রেফতারের পর সোমবার (২০ নভেম্বর) এসব তথ্য জানায় র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

র‍্যাবের অধিনায়ক জানায়, হামিদ ক্যাম্পে অবস্থানরত যুবক বয়সী ও শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে আরসা’য় যোগদানের জন্য কর্মী সংগ্রহ, নির্বাচিত কর্মীদের বিভিন্ন তথ্যাদি যাচাই বাছাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদেরকে আরসা’য় অন্তর্ভুক্ত করে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রেরণ করতো। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে প্রশিক্ষণরত আরসা’র সদস্যদের পরিবারের ভরণপোষনের জন্য আরসার অর্থ সমন্বয়ক থেকে টাকা উত্তোলন করে হামিদ হোসেন ৪-৫ হাজার টাকা করে ক্যাম্প-১৬, ব্লক-সি/২ তে থাকা মৌলভী ওয়ারিছ, ক্যাম্প-২০ই তে অবস্থানকারী সাদ্দাম হোসেন ও আরব আলী’র মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণে গমনকারী আরসা’র নতুন সদস্যদের পরিবারের ভরণপোষনের জন্য সরবরাহ করতো।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, “হামিদ এর ভাষ্যমতে এ পর্যন্ত সে ৬০ জন নতুন সদস্যকে প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করেছে”।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page