Monday, February 26, 2024

৭ মাসে ৩ ঘূর্নিঝড়: জেলায় ১২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গেলো ৭ মাসে কক্সবাজারের উপর দিয়ে বয়ে গেলো ৩টি ঘূর্নিঝড়। প্রতিটি ঘূর্নিঝড়ে সাগর উপকূলের বিভিন্ন জনপদে ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে। বিশ্লেষনে দেখা গেছে ঘূর্নিঝড় তিনটিই জেলার তিন দিকে আঘাত হেনেছে। অর্থাৎ একেকটি ঘূর্নিঝড় একেকদিকে আঘাত হেনেছে। এ বছরের ১৪ মে ঘূর্নিঝড় মোখা আঘাত হানে উখিয়া টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন উপকূলে। মোখায় প্রান গেলো ৩ জনের। উখিয়া ও টেকনাফের ১২ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেন্টমার্টিনে ১২শ বাড়িঘর বিধস্ত হয়েছে। মোখার ৪ মাস পর ২৪ অক্টোবর শক্তিশালি ঘূর্নিঝড় হামুন আাঘাত হানে কক্সবাজার শহর,সদর,মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায়। এসময় ২০ হাজারের বেশী ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ১০ হাজারেরও বেশী গাছ উপড়ে যায়, পাঁচশোর বেশী বৈদ্যতিক খুঁটি ভেঙ্গে যায়। ভয়াবহ এ ঘূর্নিঝড়ে প্রান হারায় ৩ জন। হামুনের ২৩ দিন পর ১৭ নভেম্বর কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানলো ঘূর্নিঝড় মিধিলি। দূর্বল এ ঘূর্নিঝড়টি বেশীক্ষণ স্থায়ী না হলেও এর প্রভাবে শুরু হওয়া ভারী বর্ষনে টেকনাফের হ্নীলায় দেয়াল চাপায় একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, মিধিলির প্রভাবে উত্তাল সাগর পথে যাত্রায় জেলায় আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দূর্বল হলেও ঘূর্নিঝড় মিধিলির প্রভাবে মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ৭ মাসে ৩ ঘূর্নিঝড়ে কক্সবাজার জেলায় প্রান গেলো ১২ জনের। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে ৩৫ হাজারের কাছাকাছি। প্রতিবছর যদি এভাবে দূর্যোগ আসে তবে এখন থেকেই দরকার মোকাবেলার প্রস্ততি এমনই মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তারা বলছেন,উপকূলের ঝুঁকিপুর্ন বসবাসকারীদের পুনর্বাসন পূর্বক অন্যত্র সরানো,উপকূলের বাড়িঘর গুলোকে দূর্যোগ সহনীয় করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রনয়ণ এবং বাস্তবায়ন করা। দূর্যোগে মাঠের ফসল রক্ষার কৌশল বের করার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। অন্যথায় ভবিষ্যতে দূর্যোগে প্রান ও সম্পদ হানির সংখ্যা বাড়বে বলে অভিমত তাদের। এদিকে ৭ মাসে ৩ ঘূর্নিঝড় ভবিষ্যতে আরো বড়ো দূর্যোগের অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন অনেকেই। যা ভাবিয়ে তোলেছে জেলাবাসীকে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page