Thursday, February 29, 2024
spot_img

রাশিয়ার নৌবহরের আগমন, ছুটি কাটাতে শ্রীলংকায় পিটার হাস, সমীকরণ কি বলে?

পঞ্চাশ বছর আগে একবার এসেছিল চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইন মুক্ত করতে রাশিয়ার নৌবহর। এবারের টা কি সত্যিই শুভেচ্ছা সফর? আবহাওয়াবিদরা মেঘের চলাচল দেখে বলতে পারে কত মিলিমিটারের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কি ভাবছেন?

হাস কি ব্যর্থ?
যুক্তরাষ্ট্র কি মনে করছে বাংলাদেশে হাস এর বিচরন নিয়ে? আমরা দেখেছি বেশ কয়েকদিন আগে ভারতে টু প্লাস টু সংলাপ, যেখানে একাংশই ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। ঐ রকম একটা সংলাপে হাসের অনুপস্থিতি এটায় কি বুঝায় না, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করছে হাস হয়তো পারছে না। কূটনীতিকের ভাষা ও চয়ন সাধারণ মানুষের ভাষা বা চয়ন নয়। হাস কি সেই চয়নে ছিল? ওনি যেভাবে চষে বেড়াচ্ছেন, উল্লেখযোগ্য ঢাকার শাহীনবাগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাড়ি পরিদর্শন এবং বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন তাতে মনে হয় হিতেবিপরীত হয়েছে। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী প্রণয় ভার্মার সাথেও খানিকটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়।

হাস এর ব্যর্থতায় কি বিএনপির বিপর্যয় হতে পারে?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন/গণভোট ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৮১ তে আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন দ্বিতীয় (জিয়াউর রহমান), পঞ্চম (খালেদা জিয়া জোট সরকার) ষষ্ঠ, ও অষ্টম (খালেদা জিয়া) সরকার গঠন করে। এর থেকে বোঝা যায় বিএনপি জাতীয় রাজনৈতিক দল। এখন তারায় ক্ষমতা গ্রহনের জন্য জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতের চিন্তা না করে যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ভারতকে ভাগে আনতে না পারার দায় সম্পূর্ণ ভাবে হাসের উপর ভর্তাচ্ছে কিনা? সন্দেহ আরো দানা বাঁধতে শুরু হয় যখন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে, আর হাস ছুটি কাটাতে কলম্বো যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। অন্যদিকে রাশিয়ার নৌবহরের চট্টগ্রামে শুভেচ্ছা সফর। প্রচলিত মিথ আছে “রোম যখন পুড়ছিল নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল”। হাস কি ‘নিরো’ হয়ে গেল?

বিএনপির মধ্যে এখন রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে বলে মনে হচ্ছে। ১১ ডিসেম্বর ২০২২, বিএনপির পাঁচ সংসদ সদস্যের সংসদ থেকে পদত্যাগ কোনভাবেই রাজনৈতিক সফলতা বলে মনে হয় না। আজকে দাঁড়িয়ে যদি চিন্তা করে বিএনপি এই পদত্যাগের ফলাফল পাবে শুণ্য। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা তখন বিএনপির কন্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল, যাই বলতো সংসদে দাঁড়িয়ে, তা ই ভাইরাল হয়ে যেত পত্র পত্রিকা সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এখন টানেলের শেষ প্রান্তের আলো যতটুকু দেখা যায়, ফারহানের কথা বার্তাও ততটুকু পত্র পত্রিকায় আসছে।

বিএনপির মুখপাত্র ভূমিকায় কে এখন?
প্যাটেল ও মিলি দ্বৈত ভাবে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন বলে অনেকের অভিযোগ। এই অভিযোগর যৌক্তিকতা কি? বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক সহকারী প্রেস সেক্রেটারি মুশফিকুল ফজল আনসারির অত্যন্ত যত্ন নিয়ে প্যাটেল ও মিলি কে প্রশ্ন করে, উত্তর দেওয়ার জন্য হা বা না যে কোন একটা বলতে বলে। এভাবে রং মাখিয়ে প্রশ্ন করে মিডিয়া প্রচার নেওয়ার ফলে আজকে পর্যন্ত কি লাভ হলো বিএনপির।

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন? নিরপেক্ষ সরকার গঠন হয়েছে? তফসিল ঘোষণা বন্ধ হয়েছে? শুধু শুধু এই রকম প্রশ্ন করে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে উভয়কে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে কি ফায়দা হাসিল হচ্ছে আনসারির। আনসারি প্রশ্ন করতে করতে ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়ে, দ্বাদশ সরকার গঠন করবেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিক ভাষায় বলবে এই নির্বাচন অত্যন্ত দুঃখজনক আর অন্য দিকে বিএনপি ভোট বর্জন করে অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র আবার বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য সব চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি করবে। এভাবেই জাতীয়তাবাদী একটা দলের শরীর সমাধি হবে।

বিএনপির জন্য দুটি স্থায়ী সমাধান আছে। এক ভোট বর্জন করে সৌরজগত থেকে গ্ৰহ যেভাবে ছিটকে পড়ে ঠিক সেভাবেই রাজনীতি থেকে বিলীন হয়ে যাওয়া, দুই নির্বাচনে অংশ গ্ৰহন‌ করে দলকে রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখা।

লেখক
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
[email protected]

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page