Saturday, April 13, 2024

ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন যাপনকে আরো কঠিন করছে কিনা সরকার?

দেশের অধিকাংশ মানুষ রিজার্ভ, জিডিপি, ও মুদ্রাস্ফীতি বুঝে না। তারা ব্যাগ নিয়ে বাজারে গিয়ে সুলভে পণ্য ক্রয় করে পরিবারের আহারের বন্দোবস্ত করা ও রাতে ভয় বিহীন নিদ্রা দিতে পারলেই বুঝতে পারেন দেশের অবস্থা ভালো।

কিন্তু কি হচ্ছে এখন? জিডিপির ভারে নুয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন। পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি, তেল, লবণ নতুন ভাবে যুক্ত হয়েছে আলু ও ডিম : এই কৃষি পণ্যে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা, ভেবে দেখার সময় এসেছে। এখানে ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন যাপনকে আরো কঠিন করছে কিনা সরকার? এই দেশ কখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে অনেকে বিশ্বাস করে না সেটা কৃষির ক্ষেত্রে হোক, সেটা গণতন্ত্রে হোক, সেটা আচার-আচরণে‌ হোক, এবং সর্বোপরি মানবিকতায় হোক।

কে ক্ষমতায় থাকবে, কতদিন থাকবে, সেখানে থেকে কি করবে, সাধারণ জনগণের এ ব্যাপারে আগেও কখনো মাথা ব্যথা ছিল না, আমার মনে হয় এখনো বিন্দু মাত্র মাথা ব্যথা নেই । শুধু তাদেরকে বাঁচতে দেন, তাদেরকে নির্ভয়ে ঘুমাতে দেন, এবং তাদের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে প্রায় এক কোটি ১২ লাখ টন আলু উৎপন্ন হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ডিমের চাহিদা ছিল এক হাজার ৮০৬ কোটি পিস। ওই অর্থবছরে ডিমের উৎপাদন দুই হাজার ৩৩৮ কোটি পিস। চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদন বেশি হওয়া সত্ত্বেও দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশে গত ৬২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। সে অনুযায়ী দেশে আলু, ডিম ও লবণের মজুদ উদ্বৃত্ত থাকার কথা। বাকিটা আমরা সবাই জানি। এই থেকে বুঝা যাচ্ছে উৎপাদনের তথ্যে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

কিছু কিছু খাদ্যদ্রব্যের মূল্য অনেকটাই স্থিতিশীল থাকে আমরা বাজার ব্যবস্থায় দেখতে পাই। যেমন গমের মূল্য । কারণ গম প্রায় পুরোটাই আমদানি নির্ভর এবং বাংলাদেশ কতটুকু আমদানি করবে? যাদের থেকে এটা নিয়ে আসে তারা বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা এবং চাহিদা অনুসারে তাদের দেশে গম উৎপাদন করে এবং পাশাপাশি বাংলাদেশে রপ্তানি করে আসছে। আমরা যদি সৌদি আরবের দিকে তাকায়, আমরা দেখতে পাই তারা তাদের কৃষি পণ্যের প্রায় শতভাগ আমদানি করে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদনশীল দেশ থেকে। যেমন ভারত থেকে তারা বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্য থেকে শুরু করে সব কিছুই আমদানি করে থাকে। তাতে ভারতের কৃষি পণ্য উৎপাদন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের চাহিদা মাথায় রেখে তাদের নিজেদের খামারে কৃষি পণ্য উৎপাদন করে থাকে। যার ফলে স্থিতিশীল মূল্যে ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে তাদের চাহিদা মোতাবেক কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে পারে। আমদানিকারি দেশেও স্বাভাবিক ভাবেই দাম স্থিতিশীল থাকে। অনেক সময় আমরা দেখি ভারতেও কৃষি পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকে না, কারণ প্রকৃতি সবসময় মানুষের অনুকূলে কাজ করে না। আমরা জানি কৃষি পণ্য উৎপাদনে স্থিতিশীল প্রকৃতির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

আমরা দেখি বাংলাদেশ সরকার যখনই দেশে কৃষি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি রোধ করতে পারে না, তখনই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বিভিন্ন কৃষি পণ্য আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এই ক্ষেত্রে আমাদেরকেও বুঝতে হবে যে ভারতের কৃষি পণ্য উৎপাদনশীল কোম্পানি গুলো কি বাংলাদেশের চাহিদা মাথায় রেখে তারা ওই সমস্ত পণ্য উৎপাদন করেছেন কিনা, সেটা ভেবে দেখতে হবে। অযথায় আমরা ভারতকে অনেক সময় বিভিন্ন ভাবে অপবাদ দিয়ে থাকি, যে তারা আমাদের প্রয়োজনে পণ্য সরবরাহ করে না।

আমরা মনে করি যে সমস্ত কৃষি পণ্যের হঠাৎ করেই বাংলাদেশে মূল্য বৃদ্ধি হয়ে যায়, সে সমস্ত পণ্য গুলোর উপর থেকে সুরক্ষা তুলে ফেলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশের সাধারণ প্রান্তিক মানুষকে দুমুঠো অন্ন গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এভাবে কখনোই দেশের কৃষিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা যাবে বলে আমরা দেখছি না।

লেখক
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page