Wednesday, April 10, 2024

দশ মাসে দশ আইনজীবীর প্রয়ান

::::

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির দশ জন সদস্য বিগত দশ মাসে( ৬ জানুয়ারী থেকে ৩১অক্টোবর) মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনপেশায় সিনিয়রিটি অনুযায়ী তাঁদের নাম হল এডভোকেট পীযুষ কান্তি চৌধুরী গত ১১/০৫/২০২৩,এডভোকেট একেএম মোহসিনুল হক গত ১৩/১০/২০২৩,এডভোকেট সুলতান আহমেদ গত ৩১/১০/২০২৩,এডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমদ গত ১৫/০৪/২০২৩,এডভোকেট সুভাষ চন্দ্র দে গত ২১/১০/২০২৩, এডভোকেট শামশুল আলম গত ০৮/০১/২০২৩, এডভোকেট মোহাম্মদ জাকারিয়া ০৫/০৯/২০২৩, এডভোকেট জসিম উদ্দীন গত ১১/০৬/২০২৩, এডভোকেট রাবেয়া বেগম গত ২৫/০৩/২০২৩ এবং এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা গত ০৬/০১/২০২৩খ্রিঃ তারিখ প্রয়াত হয়েছেন।আমরা তাঁদের রুহের মাগফেরাত ও আত্মার সদগতি কামনা করছি।

প্রয়াত আইনজীবীদের মধ্যে পীযূষ কান্তি চৌধুরী পেশায় আমার সিনিয়র ছিলেন,বাকী নয়জন আইনজীবী আমার জুনিয়র। আল্লাহর হুকুমে,সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় তাঁরা না ফেরার দেশে চলে গেছেন। পীযূষ দা,মোহসিনুল হক বদ্দা ও রাবেয়া বেগম আমার নিকট প্রতিবেশী। রাবেয়া আমার কন্যাতুল্য ছিলেন। পীযূষ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে আমি দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় অতিথি কলাম লিখেছিলাম। আইন পেশায় জুনিয়র হলেও মোহসিন বদ্দা আমার বন্ধু মমতাজুল হকের বড় ভাই হিসেবে আমি উনাকে বড় ভাই ও খুব ভালো লেখাপড়া জানা মেধাবী ছাত্র হিসেবে অত্যন্ত সম্মান করতাম। আমি ১৯৬৯ সালে এসএসসি পাশ করে যখন চট্টগ্রাম সরকারী কর্মাস কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্রাবাসে থাকা শুরু করি তখন তিনিও বি,কম প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে একই ছাত্রাবাসে থাকতেন। এডভোকেট সুলতান আহমেদ পেশায় জুনিয়র হলেও বয়সে প্রায় কাছাকাছি। তিনি একজন সত্যবাদী লেখক,কবি ও সাহিত্যিক। তিনি আমার বিশ্বাসের আপনজন ছিলেন। আমরা উভয়ে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর জীবন সদস্য। তিনি সাহিত্য একাডেমীর স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন। মৃত্যুর কয়েক দিন পর তাঁর সম্মানে আমরা সাহিত্য একাডেমীর কার্যালয়ে সদস্যরা শোকসভা করেছি। এডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমদ কুতুবদিয়া উপজেলা আদালতে উকালতি করতেন। এডভোকেট সুভাষ চন্দ্র দে আমার একই গ্রামের খুরুস্কুলের ছেলে হিসেবে বয়সে ৭ বছর ছোট হলেও তাঁর সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে। এডভোকেট শামশুল আলমের শ্বশুর আলী আহমদ চেয়ারম্যান আমার মক্কেল ছিলেন বিধায় তিনি প্রথম থেকেই আমার খুব ঘনিষ্ট ছিলেন। এডভোকেট মোহাম্মদ জাকারিয়া আমি কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি থাকা কালে ১৯৯১ সালে আইন পেশায় যোগদান করেন। তখন থেকেই এই প্রতিবাদী আইনজীবীর সাথে পরিচয়। এডভোকেট জসিম উদ্দীন একজন ন¤্র,ভদ্র,সৎ দেওয়ানী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আমাকে মামা ডাকতেন। এডভোকেট রাবেয়া বেগম এর জন্ম হয় আমি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার বছর ১৯৭৯ সালে আমার বাসার দুই বাসা পশ্চিমের আলহাজ্ব নুরুল আমিনের ঘরে। তিনি আমার মেয়ের মতই ছিলেন। তাঁর সাথে বিয়ে হয় এডভোকেট গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর ১৯৯৮ সালে। এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ২০১৮ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আমার সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় হবার আগেই আল্লাহ ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন। প্রয়াত সকল আইনজীবী সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে লিখতে গেলে যেমন অনেক পরিসর লাগবে বক্তব্য দিতে গেলেও অনেক সময় প্রয়োজন হবে।

করোনার সময় গণসমাবেশ নিষিদ্ধ করার ফলে অনেকগুলো মৃত আইনজীবীর ফুলকোর্ট রেভারেন্স ও শোকসভা একসাথে করার পদক্ষেপ নেন মহামান্য হাইকোর্ট। সেই নিয়ম এখনও প্রচলিত আছে। এখন ইনশাল্লাহ দেশ করোনামুক্ত, গণসমাবেশও নিষিদ্ধ নয়। এখন থেকে প্রতি আইনজীবীর মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে শোকসভা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হউক, যাতে করে সিনিয়র-জুনিয়ার সকল প্রয়াত আইনজীবী যথাযথভাবে সম্মান ও গুরুত্ব পান। আমি শোকসভায় সে দাবী করেছি,প্রস্তাব দিয়েছি। ফুলকোর্ট রেভারেন্সের ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

গত ০৯/১১/২০২৩খ্রিঃ তারিখ সকাল ১০.৩০ঘটিকার সময় কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিনের সভাপতিত্বে জেলার সকল বিচারক ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত কক্ষে ভাবগম্ভীর পরিবেশে ফুলকোর্ট রেভারেন্স অনুষ্ঠিত হয় এবং বেলা ১১.৩০ ঘটিকার সময় কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ তারেকের সঞ্চালনায় ১০জন প্রয়াত আইনজীবীর জন্য একসাথে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের ইতিহাসে এক সাথে ১০জন প্রয়াত আইনজীবীর ফুলকোর্ট রেভারেন্স ও শোকসভা এটাই প্রথম। কিন্তু জেলার দশজন মৃত আইনজীবীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট রেভারেন্স ও শোকসভার সংবাদ কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত প্রায় ২০টি সংবাদপত্রের পাতায় স্থান পেয়েছে বলে দৃষ্টিাগোচর হয় নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১১/১১/২০২৩খ্রিঃ তারিখ কক্সবাজারবাসীর স্বপ্নের রেললাইন,আইকনিক রেলস্টেশন,মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর উদ্বোধন,কস্তুরাঘাটে কক্সবাজার-খুরুস্কুল দৃষ্টিনন্দন ব্রিজসহ ৮৮ হাজার কোটি টাকার ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার জন্য কক্সবাজার সফর নিয়ে সরকারবিরোধী রাজনীতিআসক্ত কিছু মানুষ ব্যতীত সমগ্র কক্সবাজারবাসী আনন্দে-উচ্ছ¡সে আত্মহারা। তাই স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোতে দশজন প্রয়াত আইনজীবীর ফুলকোর্ট রেভারেন্স ও শোকসভার সংবাদ স্থান পায়নি মনে হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত সংবাদগুলোই স্বাভাবিকভাবে গুরুত্ব বেশী পাওয়ার কারণে।

তবে বিগত ২২/০৫/২০২৩খ্রিঃ তারিখ দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় ’এডভোকেট পীযূষ কান্তি চৌধুরী সর্বজন শ্রদ্ধেয় পরোপকারী মানুষ’ শিরোনামে প্রকাশিত অতিথি কলামের শেষে আমি নিবেদন করেছিলাম, ”আইনী পদাধিকার বলে সততা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ কোন ব্যক্তি যাতে পিযুষ চৌধুরীর শোকসভায় সভাপতিত্ব না করেন সেই ব্যবস্থা করার জন্য কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ তথা কক্সবাজারের সকল আইনজীবীদের প্রতি বিনীতভাবে নিবেদন করছি।” আল্লাহ আমার নিবেদন মজ্ঞুর করেছেন। ফুলকোর্ট রেভারেন্সের সভাপতিত্বকারী সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন ও কক্সবাজারে বর্তমানে কর্মরত রেভারেন্সে উপস্থিত তিনটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনেলের ৩জন বিচারক, ৫টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৫জন বিচারক, ২টি যুগ্ন জেলা জজ আদালতের ২জন বিচারক, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক, সকল জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটবৃন্দ ও সহকারী জেলা জজবৃন্দ সৎ বলে কক্সবাজার জেলার আইনজীবীগণ ও বিচারপ্রার্থী জনগণ বিশ্বাস করেন। এখন কক্সবাজারের বিচারকদের সততা নিয়ে কোন প্রশ্ন নাই, কোন বিতর্ক নাই। আলহামদুলিল্লাহ।

লেখক : এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর,  একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা, সাবেক পিপি ও সাবেক সভাপতি, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page