Saturday, April 13, 2024

আইএস’র কায়দায় হামলার কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

টিটিএন ডেস্ক:

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি এখন তালেবান কিংবা ইসলামী স্টেট-আইএস যেভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করে, ঠিক একই কায়দায় অনলাইন প্লাটফর্মে কর্মসূচি ঘোষণা শুরু করেছে। কার্যত অবরোধের নামে মানুষ ও গাড়ি-ঘোড়ার ওপর হামলা পরিচালনা করা, জ্বালিয়ে দেওয়াই তাদের কর্মসূচি, অন্য কোনও কিছু নয়।

রোববার (৫ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই যে কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। কিন্তু বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে না। এরা অবরোধের নামে মানুষ ও মানুষের সহায় সম্পত্তির ওপর হামলা পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের হাত থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। ইসরায়েলি বাহিনীর মতো বিএনপির হাত থেকেও অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল কোনোটাই রেহাই পাচ্ছে না।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার উদাহরণ টেনে হাছান বলেন, আপনারা জানেন, ২৮ অক্টোবর কীভাবে হাসপাতালের ওপর হামলা পরিচালনা করে অ্যাম্বুলেন্সসহ বহু গাড়ি-ঘোড়া জ্বালিয়ে দেওয়া, ভাঙচুর করা হয়েছিল। এরপরে আবারও বিভিন্ন জায়গা হামলা হয়েছে, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, শিক্ষার্থীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী যেমন গাজায় স্কুলে, শিক্ষার্থীবাহী গাড়ির ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে, এখানেও বিএনপি-জামাত একই কায়দায় এই কাজগুলো করছে।

‘গাজায় নির্মমতার বিরুদ্ধে সমস্ত পৃথিবীতে প্রতিবাদ হয়েছে অথচ আজ পর্যন্ত বিএনপি-জামাত সেটি নিয়ে একটি শব্দ বলেনি’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মানুষের প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে বিভিন্ন শহরে, লন্ডনে লাখ মানুষের সমাবেশ হচ্ছে, ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সেখানকার সরকারের আদেশ অমান্য করে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সমাবেশ হচ্ছে অর্থাৎ বর্বরতার বিপক্ষে সমাবেশ হচ্ছে। আর এখানে বিএনপি-জামাত এই নিয়ে একটি শব্দও বলে নাই। বরং ইসরায়েলি বাহিনীর অনুকরণে তারা এখানে মানুষের ওপর হামলা পরিচালনা করছে অর্থাৎ এরা আর রাজনৈতিক দল নেই। বিএনপি এখন একটি চূড়ান্ত সন্ত্রাসী দলে রূপান্তরিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এই সন্ত্রাসীদের দমন করতে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে বদ্ধ পরিকর। তারা ভেবেছে একের পর এক অবরোধ ডেকে দেশকে অস্থিতিশীল করবে! তারা খুব দ্রুতই দেখতে পাবে যে জনগণই তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং আমরা জনগণের সাথে থাকবো। তারা এখন দেশ-বিদেশ থেকে নানা ধরনের গুজব রটানোতেও সক্রিয় হয়েছে। যারা গুজব রটাচ্ছে তাদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে। কেউ কেউ ভেবেছে বিদেশ থেকে গুজব রটিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে, কিন্তু বিদেশে যেখান থেকে গুজব রটানো হচ্ছে আমরা সেই দেশের আইনে সেখানে ব্যবস্থা গ্রহণও জোরদার করেছি।

মির্জা ফখরুলের মুক্তি দাবি করা ব্যক্তিবর্গ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী হাছান বলেন, যে কেউ কারও মুক্তি চাইতেই পারে। আর যারা মুক্তি চেয়েছে তারা বিএনপি ঘরানা রাজনীতিবিদ কিংবা বিএনপির মিটিং-মিছিল, সভা সেমিনারে যায়। তবে যারা মুক্তি চেয়েছে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- পুলিশকে যে হত্যা করা হলো, হাসপাতালে, সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা পরিচালনা করা হলো, পেটানো হলো- সেগুলোর ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ কেন।

গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতাদের সাথে কোনও আলোচনা চলছে কি না- সে প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, যেসব নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা এই নৈরাজ্যের হুকুমদাতা, অর্থদাতা, নৈরাজ্যের হোতা হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের সাথে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেভাবে আইনগত ব্যবস্থা দেশে গ্রহণ করতে হয় আমরা সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। আর জনগণকে অনুরোধ জানাবো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জনগণ স্বাভাবিক যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। দেশে শিক্ষাসহ সবকিছু ব্যাহত করার বিএনপির অপচেষ্টা সফল হবে না। খুব দ্রুত সমস্ত দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরিপূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page