Wednesday, May 22, 2024

ভোট কারচুপি, পূনরায় নির্বাচন চায় পোকখালীর মানুষ

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ

গেলো ২৮ এপ্রিল  অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সমাপ্ত হয়েছে ঈদগাঁও উপজেলার ৫ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ৪ ইউনিয়নে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হলেও পোকখালী ইউনিয়নে বাস্তবে ঘটেছে ব্যাপক কারচুপি। তবে অন্যান্য ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়।গণনার পর পোকখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যম পোকখালী ১৩ নম্বর ভোট কেন্দ্রে ফলাফল দেরিতে ঘোষণা করা, ফলাফল বিবরণী দুই প্রকারের প্রকাশ করায় চলে ব্যাপক সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা অবরুদ্ধ করে রাখাসহ নানান ঘটনা।

পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়া ঢোল প্রতীকের প্রার্থী রফিক আহমদের কর্মী সমর্থকরা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে জানান ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা। ওসি জানান, পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আহত, নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উপর গুলিবর্ষণ,অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ৭০/৮০ জন অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলা হয়েছে থানায় । ওই মামলায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এছাড়াও আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও ফৌজদারি অপরাধ করায় চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিক আহমদের প্রার্থিতা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলো ওসি। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে চেয়ারম্যান রফিকের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসন শাখা।কমিশনের উপ সচিব মোঃ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ১৭.০০.০০০০.০৩৫.৪৬.০৭৪.২৪.৫৭৭ স্মারক মুলে ৭ মে মামলার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। গতকাল ১৫ মে জেলা নির্বাচন অফিসার নাজিম উদ্দীন বাদী হয়ে আরো একট  মামলা দায়ের করেন ঈদগাঁও থানায়। অপরদিকে  এ কেন্দ্রে ভোট বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন  প্রতিদ্বন্দ্বী ২ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ৪ জন সাধারণ সদস্য (পুরুষ)। তার মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন। সাধারণ সদস্য (পুরুষ) দুদু মিয়া চৌধুরী, মোঃ রুবেল উদ্দিন, মোঃ আবরার আল নোমান এবং শাহজাহান।

পোকখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনারস প্রতীকের হেলাল উদ্দিন ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে আনারস প্রতীকে সুষ্ঠুভাবে ভোটারগণ ভোট প্রদান করেন।কিন্তু মধ্যম পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আনারস প্রতীকের কত ভোট গ্রহণ করা হয়েছে তা গণনা না করে শূন্য ভোট দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রিসাইডিং অফিসার মামুন উদ্দিন জুয়েল। পরে তার আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব ভোট দিয়েছে বলে আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে সঠিক প্রমাণাদি পাওয়া যায়। তাই ওই কেন্দ্রের ভোট কারচুপির কারণে পূনরায় নির্বাচন করার দাবি জানান হেলাল উদ্দিন। অপরদিকে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী গিটার প্রতীকের মোঃ সাইফ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার,সচিব, জেলা প্রশাসক,জেলা নির্বাচন অফিসারসহ আরো কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে মোঃ সাইফ উদ্দিন বলেন, গত ২৮ এপ্রিল তার নির্বাচনী এলাকায় ১০ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯ টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ করে অবশিষ্ট একটি কেন্দ্র ৩নং ওয়ার্ড “মধ্যম পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” কেন্দ্রটি ঢোল প্রতীকের প্রার্থীর বাড়ির পাশে হওয়ায় উক্ত কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় ঢোল প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার এজেন্ট, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতদের জিম্মি করে জোরপূর্বক ব্যালটে সীল মারে এবং জাল ভোট প্রদান করে।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ  সাইফ উদ্দিন আরও বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে তার ফলাফল ভালো ছিল,অপর প্রার্থী ঢোল প্রতীকের রফিক আহমদ পরাজয় নিশ্চিত বুঝে জোরপূর্বক সীল ও জাল ভোট প্রদান করে সমতা ফিরিয়ে আনে।

প্রিসাইডিং অফিসার কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের লেকচারার মামুন উদ্দিন জুয়েল স্বাক্ষরিত চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য, সাধারণ সদস্য (পুরুষ) প্রার্থীদের ফলাফল শীট ঘেটে দেখা যায়,  প্রার্থীদের ভোট গণনা  বিবরণীতে ২৫৫৬ জন ভোটার সংখ্যা রয়েছে। তৎমধ্যে  বৈধ -অবৈধ মিলিয়ে সাধারণ সদস্য ( পুরুষ) পদে ১৭৩৬ ভোট, অনুপস্থিত ভোটার সংখ্যা দেখানো হয় ৭৭৭ ভোট ভোট। অনুরূপভাবে সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর ফলাফল বিবরণীতে দেখানো হয় ১৭৩৬ ভোট,অনুপস্থিত ৭৭৭ ভোট। যোগ  মিলিয়ে দেখা যায় সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ২৫৫৬ ভোট। কিন্তু এই ফলাফল বিবরণী বদলে যায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের বেলায়। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের ফলাফল বিবরণীতে বৈধ -অবৈধ সহ মিলিয়ে  দেখানো হয়েছে ১৬৬২ ভোট । অনুপস্থিত ভোটার সংখ্যা দেখিয়েছে ৮৯৪ ভোট। সাধারণ ভোটারের প্রশ্ন সাধারণ সদস্য (পুরুষ)  এবং নারী সদস্য প্রার্থীদের ফলাফল বিবরণীতে এক রকম, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিবরণীতে আরেক রকম কেনো? পোকখালী ইউনিয়নের ভোটার আ ন ম আমজাদ হোসেন, মোহাম্মদ লেদু মিয়া,সাইমুম, হুমায়ুন কবির, আবদুল জলিলসহ শত শত ভোটার জানিয়েছেন ৩নং ওায়র্ড মধ্যম পোকখালী কেন্দ্রে ভোট কারচুপি, জাল, প্রভাব বিস্তার, প্রিজাইডিং অফিসারের সাথে মোটা অংকের লেনদেন করে রাতারাতি ফলাফল বদলে দিয়ে রফিক আহমদকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে তড়িঘড়ি করে কেন্দ্র ত্যাগ করে নির্বাচনী কাজে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা। মোহাম্মদ ইসমাইল নামের এক ভোটার জানান,১৮ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর মধ্যে ৩ জন হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল। তাদের মধ্যে হেলাল উদ্দিন, সাইফ উদ্দিন, রফিক আহমদ । ৯ কেন্দ্রের মধ্যে হেলাল উদ্দীন আনারস প্রতীকে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় একটি কেন্দ্র (৩নং মধ্যম পোকখালী)  কেন্দ্রে দেখানো হয়েছে শূন্য ভোট, যা রীতিমতো হাস্যকর ব্যাপার। তিনি বলেন, হেলাল উদ্দিনের এজেন্ট, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব ভোট দিয়েছে। কিন্তু গণনার সময় একটি ভোটও দেখায়নি প্রিজাইডিং অফিসার। এ নিয়ে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তারা এ কেন্দ্রের পুনঃভোট দাবি করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়, তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত একটি ট্রেনিং এ আছে জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্থানীয়রা প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া,ভোট পুনঃগণনা  দাবি করেন এই ওয়ার্ডের।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page