Friday, May 24, 2024

ইসলামপুরে ইউপি নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা, কেন্দ্রে নাশকতার পরিকল্পনা বহিরাগতদের, আটকের দাবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২৮ এপ্রিল ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য, সাধারণ সদস্যরা উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। গণসংযোগ, পথসভা, মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক, প্রচার প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়ে জয়ী হতে দিচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি।

জানা যায়, দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সাধারণ নির্বাচনকে সাদরে গ্রহণ করেছে সাধারণ মানুষ।দলীয় প্রতীক না থাকায়  ক্ষমতাসীন দল, বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরাও অংশ নিয়েছে এ নির্বাচনে।

নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নানান প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সাধারণ ভোটারেরা জানান, উৎসব মুখর পরিবেশে হতে যাওয়া  নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে বহিরাগত, নাশকতা মামলার শত শত আসামীরা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করছে।ফলে নির্বাচনের সুস্থ পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের (আনারস) প্রতীকের সমর্থনে জেলা শহরের একাধিক নাশকতা, হত্যা, অস্ত্রসহ বহু মামলার আসামীরা এলাকায় এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। ভোট না দিলে ক্ষতি করবে বলেও ভীতি প্রদর্শন করছে। তিনি আরও বলেন, বহিরাগতের মধ্যে জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছে। তারা যেকোনো সময়ে নির্বাচনী এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে নির্বাচনকে বানচাল করতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে এসব তথ্য।

সাধারণ ভোটারেরা জানান, এলাকায় যাদের কখনো দেখা যায়নি তারা মিনিটে মিনিটে দল বেঁধে এলাকায় প্রবেশ করে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিচ্ছে। তারা বলেন,একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এলাকার হিসেবে ভোট দেয়া না দেয়া তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু বহিরাগতরা প্রভাবিত করে ভোট প্রয়োগ করতে বললে কেন্দ্রে যাবে না। এসব দুষ্কৃতকারীদের আটক করে আইনের আওতায় এনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারেরা।

আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন একজন জামায়াতে ইসলামীর নেতা। ইসলামি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।ইতিপূর্বে তারা বেশ কয়েকবার গোপন বৈঠক করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে জঙ্গি স্টাইলে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলেও ধারণা করছেন সংস্থা গুলো। সংস্থা গুলোর প্রতিনিধিরা জানান, জেলা- শহর ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা থেকে ওই গোষ্ঠীর সমর্থকরা দৃর্বৃত্তায়নের উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  এলাকায় অবস্থান করছে। এমনকি ২৮ এপ্রিল ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে নাশকতার পরিকল্পনাও করছে এ বহিরাগত গোষ্ঠীর সদস্যরা। বিষয়টি তারা উচ্চ মহলে অবগত করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য তাদের আটক করে মোবাইল চেক করলে নাশকতার পরিকল্পনার কথোপকথন বের করতে পারবে।তারা অনলাইনে জঙ্গি গোষ্ঠীর মতো নানান আ্যপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

জানা গেছে,নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করলেও তা মানছে না জামায়াতে ইসলামী। মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে নির্বাচনী সভায় অংশ নিচ্ছে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী মাঠে কেউ ভয়ভীতি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, বিষয়টি তারা ইতিপূর্বে অবগত হয়েছে। বহিরাগতদের বিষয়ে প্রার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত গোষ্ঠী ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করতে চাইলে কাউকে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া হবে না।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page