Monday, May 27, 2024

সাংগ্রেং উৎসবের শেষদিনে রাখাইন পল্লীতে বিদেশীদের উচ্ছ্বাস

সিয়াম সোহেল

কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব শেষ হয়েছে।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইন সম্প্রদায়ের ৩ দিনের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ শেষ হয়েছে শুক্রবার(১৯ এপ্রিল)। এই তিনদিন নেচে গেয়ে মগীসন বা রাখাইন বর্ষ তথা নতুন বছরকে (১৩৮৬) বরণ করলো তারা। জলকেলিতে মেতেছেন নানা বয়সের মানুষ। স্থানীয়দের ভাষায় পরিচিত এই পানিখেলা দেখতে ভিড় জমিয়েছেন অন্যান্য ধর্মালম্বীরাও। পাশাপাশি কক্সবাজারে অবস্থানরত বিদেশীরাও অংশ নিয়েছে এই উৎসবে। এ যেন মধুর সম্প্রীতি।

শহরের টেকপাড়া, বৌদ্ধ মন্দির, পেশকারপাড়া,হাঙ্গর পাড়া এলাকাসহ রাখাইন পল্লীতে নানা রঙে সাজিয়েছে প্যান্ডেল। প্যান্ডেলের এক পাশে জল ভর্তি ড্রাম, কাঠের নৌকা রেখে অন্যপাশে রাখাইন তরুণ-তরুণীর দল, প্রত্যেকের হাতে রয়েছে পানি ছুড়ে মারার পাত্র। তারা একে অপরকে জল ছুড়ে করে পরিশুদ্ধির আহবান জানালেন।

কক্সবাজার সিটি কলেজে ডিগ্রীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ইনিন রাখাইন বলেন, ‘এই দিনে কি-যে আনন্দ লাগে তা বলে বুঝাতে পারবো না। এই নতুন বছরকে নানাভাবে বরণ করতে আমরা রাখাইনরা প্রস্তুত থাকি। গতবছরও আমরা অনেক মজা করেছি, নেচেছি, গান গেয়েছি। এবছরও তার চেয়ে বেশি মজা হয়েছে। সকলকে রাখাইন নববর্ষের শুভেচ্ছা।

টেকপাড়ার মিমি চাকমা নামের এক তরুণী বলেন, ‘গেল তিন বছর পর এই বছর সাংগ্রেং পোয়ে অংশগ্রহণ করলাম। এতে আমি খুব উৎফুল্ল। আমার অনেক বন্ধু-বান্ধবরাও এই উৎসবে নিজেদের মাতিয়ে তুলছে। আমরা সকলে মিলে প্রচুর মজা করছি। আমরা অন্যধর্মের বন্ধুরাও এখানে এসেছে, সবাই মিলে নেচে গেয়ে উৎযাপন করছি সাংগ্রেং পোঁয়ে উৎসব।

বিদেশী পর্যটক এলিজা পাটেল জানান, ‘আমি সংস্কৃতির কিছুই না জানলেও খুব ভালোই উপভোগ করছি। মনে জীবনের সেরা কিছু মুহুর্ত বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছি। ‘

এদিকে রাখাইন সম্প্রদায়ের নতুন বছরে বিশ্বে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি ছড়িয়ে পড়ার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মং ছেন লা বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিন দিনের উৎসব শেষ হয়েছে। এবার শহরের রাখাইন পল্লীতে ১২টি প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। শুধু রাখাইন নয়, অন্যান্য ধর্মালম্বীরাও উৎসবে এসে সম্প্রীতির মেলবন্ধনও তৈরি করেছেন। এই উৎসব কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদগাঁও, মহেশখালীর রাখাইন পল্লীতেও চলেছে। এসব অঞ্চলে ৫০টির বেশি প্যান্ডেলে জলকেলি উৎসবে মেতেছেন সবাই। আর সুষ্ঠু পরিবেশে বর্ষবরণ করতে পেরে তারা আনন্দিত।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর পরিদর্শনে এসে বলেন, রাখাইন পল্লীর প্রতিটি ঘরে ঘরে এই উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে। অন্য ধর্মের লোকজনও তাদের উৎসবে যোগ দেয় এবং সহযোগিতা করে। আমি নিজেও এই এলাকায় তাদের সাথে বড় হয়েছি, এই উৎসব আমার নিজেরও। এই সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য যা যা দরকার সবকিছু করবো। এই ঐতিহ্য ও সম্প্রীতি আমাদের ধরে রাখতে হবে।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, এই চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি তাপ্তি চাকমা, রাখাইন সমাজকর্মী ডা. মায়েনু, ক্য থিন চ্য ডলিহ সহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। এসময় জেলার ৫০ টি জল উৎসব আয়োজক কমিটির মাঝে অর্থ সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে রাখাইন সম্প্রদায়ের এই জল উৎসব পরিণত হয়েছে সকল সম্প্রদায়ের মিলন মেলায়।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page