Monday, May 27, 2024

ঈদগাঁওয়ের পাঁচ ইউপি নির্বাচন: পৃথিবীত্যাগ বাবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নির্বাচনী মাঠে তিন ছেলে

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ

আসন্ন ২৮ এপ্রিল ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচ ইউপি’র সাধারণ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন সাবেক তিন চেয়ারম্যান পুত্রের তিন ছেলে।তাদের মধ্যে রয়েছে ঈদগাঁও ইউনিয়ন থেকে সোহেল জাহান চৌধুরী,ইসলামাবাদ ইউনিয়ন থেকে এ্যাডভোকেট আনোয়ার পারভেজ রুবেল,পোকখালী ইউনিয়ন থেকে সাইফুদ্দিন। এদের মধ্যে সোহেল জাহান চৌধুরী একবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিল, তৃতীয় বারের মতো এবারও অংশ নিয়েছেন তিনি। তার বাবা মরহুম এ জেড এম শাহজাহান চৌধুরী (লুতুমিয়া) বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের ভাইস চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান পরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে উপজেলায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত করেছেন। ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করা লুতু মিয়ার ছেলে সোহেল জাহান চৌধুরী ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।নানা বির্তকে দ্বিতীয় বার ২০১৬ সালে পরাজিত হলে কিছু সময় আড়ালে থাকলেও পরে অংশ নেন জেলা পরিষদ নির্বাচনে। সেখানে জনপ্রতিনিধিদের ভোটে সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল জাহান চৌধুরী। দ্বিতীয় বারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি তিনি।

জানতে চাইলে সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, জমিদার পরিবারের মরহুম পিতার থেকে শিখেছি কিভাবে জনসেবা করতে হয়। বাবাকে অনুসরণ করে চলতে গিয়ে একবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আরেকবার জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। মানুষের বিপদ আপদে ছুটতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলেও জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যায়নি। জনগণের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এবারও বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে প্রথম বারের মতো অংশ নিচ্ছে ইসলামাবাদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনোয়ার পারভেজ রুবেল, তার বাবা মরহুম জাফর আলম দীর্ঘ ৮ বছর ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিচক্ষণ, সালিশে অনন্য মেধার স্বাক্ষর রাখা জাফর আলমের আমলে ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদ, ইউনিয়ন কমপ্লেক্স,স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রসহ নানা উন্নয়ন ঘটেছিলেন। ২০০২ সালের ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা জাফর আলমের ছেলে আনোয়ার পারভেজ রুবেলের শৈশব কৈশোর এলাকায় কাটলেও জনসম্পৃক্ততা ছিল কম। লেখাপড়ার সুবাদে এলাকায় বাইরে থাকায় তেমন পরিচিত নেই বলে জানান সাধারণ ভোটারেরা। তার ব্যবহৃত মোবাইলে কল দেয়া হয় মতামত জানতে কিন্তু তিনি কল রিসিভ না করায় মতামত পাওয়া যায়নি। তবে তার অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থকরা জানালেন জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে কয়েকবার অংশ নিলেও পরবর্তীতে সরে যায় সাইফুদ্দিন। কিন্তু এবার বৃহত্তর গোমাতলী থেকে ৭ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাকে সমর্থন দিয়েছে বলে জানা গেলেও কোনো প্রার্থী তা লিখিত বা মৌখিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। সাইফুদ্দিনের বাবা মরহুম ফিরোজ আহমদ ১৯৯১ সালে অবিভক্ত পোকখালী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরে ১৯৯৬ সালে জনগণের রায়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।২০১৯ সালে সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ মৃত্যুবরণ করলে আঞ্চলিকতার টানে বৃহত্তর গোমাতলীর ৭,৮,৯ ওয়ার্ডের জনগণ এবং অন্য ৭ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুদ্দিনকে সমর্থন দেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুদ্দিন বলেন, বাবার মতো পোকখালী বাসীর পাশে থাকতে এবারে প্রার্থী হয়েছি।পরিবেশ পরিস্থিতি অনূকূলে থাকলে তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী।

আরেকটি সূত্রে বলছে জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ফরিদুল আলমের ছেলে নজরুল ইসলাম রুবেল মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নির্বাচনী মাঠে নেই। পোকখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মৌলভী ফরিদুল আলমের মোঃ আবদুর রউব মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও ৮ এপ্রিল প্রত্যাহার করে নেন।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page