Monday, May 20, 2024

আওয়ামীলীগ সরকারের কৌশল ও সাধারণ জনগণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাধারণ দুই প্রতিভা। দেশ স্বাধীন করা থেকে দেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল করার দুই কান্ডারি যাদের গর্ব ভরে স্মরণ করবে দেশের সাধারণ জনগণ।

আওয়ামীলীগ কি সত্যিই জনগণ বান্ধব?

আওয়ামীলীগ একটা সর্বজনীন সংগঠন। এই সংগঠনের সবকিছুই কি জনগণ বান্ধব! একটা হচ্ছে দেশকে ভালোবেসে আওয়ামীলীগ করা আর একটা হচ্ছে আওয়ামীলীগকে ভালোবেসে আওয়ামীলীগ করা। উপরোক্ত দুই কান্ডারি বিহীন অন্য সবাই অনেকটা আওয়ামীলীগকে ভালোবেসে আওয়ামীলীগ করছে। তাতে দেখা যাচ্ছে অনেক সময় কালো কে কালো না বলে সাদা বলছেন। কারন তারা আওয়ামীলীগকে ভালোবাসেন।

একটা কথা প্রচলিত “একা থাকা মানুষ না হয় শয়তান অথবা না হয় দরবেশ”। সুতরাং দোষ বিহীন কোন মানুষও থাকতে পারে না। যেহেতু মানুষকে নিয়েই সংগঠন সেহেতু আওয়ামীলীগও ত্রুটি বিহীন নয়। মূল কথা হচ্ছে ত্রুটি কি ভালো কে খেয়ে ফেলছে? যেমন চাঁদ পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে সূর্যগ্ৰহণ হয়। তবে সূর্যের গ্ৰাস হওয়ার ফলে মানুষের ক্ষতি হয় না কিন্তু আওয়ামীলীগের ভালত্ব যদি খেয়ে ফেলে তাহলে সাধারণ জনগণের জন্য অত্যন্ত ক্ষতি। এ থেকে বোঝা যায় সাদা পায়রা উড়িয়ে শান্তি আনা যায় না। শান্তির মূলে রয়েছে ত্রুটির আকার কমিয়ে আনা।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সরকারের জন্য কতটুকু সুবিধা বয়ে আনে বলে মনে হয়?

দেশে দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধির জন্য ৯/৬ সুদের হার বেঁধে দেওয়ায় বড় কারন। এতে ভোক্তারা ব্যাংক থেকে অপ্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণ করে বাজারে প্রচুর টাকা ব্যয় করেছে। যা লাগামহীন হওয়ার ফলে দেশে মুদ্রাস্ফীতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে ঋণ খেলাপিও বৃদ্ধি পাবে। তাই সরকার তড়িঘড়ি করে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি দের জন্য নতুন আইন করছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যাংক সমূহকে দূর্বল ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ভালো ব্যাংক এর সাথে একত্রিত করতে যাচ্ছে। এই যে হুটহাট সমীক্ষা বিহীন সিদ্ধান্ত যা অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে কাজ করে।

দ্রব্য মূল্যে বৃদ্ধির ফলে জনগণ একটা কাজ বা চিন্তা একেবারেই কমিয়ে দেয়। তারা দেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা না করে নিজের পরিবার চালানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এইটা একটা সুবিধা দেয় যারা দীর্ঘ মেয়াদি সরকার পরিচালনায় থাকতে চাই সেই সমস্ত সংগঠন সমূহকে।

দেশে সার্বক্ষণিক ২১ বিলিয়ন বা তিন মাসের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখাটাই একটা কৌশল। এইটা বৈশ্বিক দেশের রেটিং পয়েন্ট ভালো রাখে। তাতে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের সুযোগ হয়। এই কাজ টা করতে গিয়ে তেল এবং গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে দেশে দেদারসে লোডশেডিং করছে। লোডশেডিং আবার ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয় বিভিন্নভাবে বিভক্ত যেমন রাজধানীতে ১০% ভাগ হচ্ছে কারন মিডিয়া যেন হৈচৈ না করে, অনান্য বড় বিভাগীয় শহরে ৩০% হচ্ছে, জেলা গুলোতে ৫০% ভাগ হচ্ছে, উপজেলা গুলোতে ৮০% ভাগ হচ্ছে তাহলে গড়ে ১০+৩০+৫০+৮০=১৭০/৪= ৪২.৫ ভাগ সমগ্র দেশে প্রায় লোডশেডিং হচ্ছে। এখান থেকে সিংহ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে যা ২১ বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থা।

মানুষকে বোকা বানানোর কি কোন চেষ্টা হচ্ছে?

ঢাকা শহরকে দেখলে মনে হয় জনগণকে বিভ্রান্ত ও বোকা বানানোর কাজ চলমান। মেট্রোরেল হচ্ছে তার সবথেকে বড় উদাহরণ। এইটা প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো। উদাহরণস্বরূপ করো গলায় কাঁটা আটকে গেলে সেইটা যেমনটি ধাপে ধাপে বাহির করা যাবে না ঠিক যানজট মুক্ত করার জন্যও ধাপে ধাপে কাজ করা যাবে না। এই গুলো হচ্ছে শহরের ফাইভ স্টার হোটেলের লবির মতো যা সকলের জন্য উন্মুক্ত কিন্তু সকলের আশ্রয়ের জন্য নয়।

সাময়িক স্বস্তি বোধ করা মানেই ক্যানসার মুক্ত নয়। আমাদের দেশের অর্থনীতি ও অনেকটা এই রকম। সাগরে গোসল করতে পারলেই যে মিঠা পানি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে তেমনটা নয়।

আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হচ্ছে তারা শুনে কম, বলে বেশি। ত্রুটি মুক্ত হতে না পারার চেয়ে অল্প ত্রুটিতেই সীমাবদ্ধ থাকা ভালো। ভূমিকম্প মানেই সুনামি নয়।

লেখক : শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
[email protected]

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page