Wednesday, May 22, 2024

রোজায় উচ্চমূল্যে সীমিত আয়ের লোক পকেট সামাল দিবেন কিভাবে

রাহুল মহাজন :

সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় দেখা গেছে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ। মাসটি পুণ্যের হলেও বেশি মুনাফার আশায় থাকেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। লাভ করতেও মরিয়া তারা। রমজানে দাম বাড়ানো একটি রীতিতে পরিণত করেছে এসব ব্যবসায়ীরা। ব্যতিক্রম ঘটছে না এবারও। এবার মাসখানেক আগে থেকে নানা অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন তারা। সরকার এবার রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তাদের নানা আশ্বাস দিলেও সম্ভব হচ্ছে না। ছোলা, বেগুন, লেবু, মাছ-মাংস প্রায় সবই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।

রোজাকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের খরচ আরও বাড়তে শুরু করেছে। মূল্যস্ফীতির চাপে এমনিতেই চিড়েচ্যাপ্টা সীমিত ও নিম্নআয়ের মানুষ। তার ওপর রোজাকে ঘিরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী গতি এ চাপকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রমজান মাসের বাড়তি খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার(১২ মার্চ)শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এক বছরের ব্যবধানে তুলনা করলে দেখা যায়, নিত্যপণ্যে খরচ অনেকখানি বেড়েছে। ছোলার দাম বেড়ে প্রতি কেজি এখন ১১০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে। গত বছর বাজারে এ সময় ছোলার কেজি ছিল ৯০ টাকা।

গত বছর রোজার আগে মসুর ডালের দাম সেভাবে না বাড়লেও এবার ছোলার সঙ্গে মসুর ও মুগ ডালের দামও বেড়েছে। গত বছর এ সময় ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া বড় দানার মসুর ডাল এবার ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খেসারির কেজি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। আগেরবার ছিল ৮০ টাকা কেজি। আর মুগ ডালের কেজি পড়ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

দেশি পেঁয়াজের দর গত বছর যেখানে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে ছিল; সেই দাম এখন প্রায় তিন গুণ।এবার তা ৮০ -১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ দাম ১৩০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদা ২০০, চায়না রসুন ২০০ ও দেশি রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যদিও রোজায় পণ্যের দামের লাগাম টানতে সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি খেজুর, চিনি, সয়াবিন তেল ও চাল আমদানিতে শুল্কছাড় দিয়েছিল। তবে সয়াবিন তেল ছাড়া অন্য তিন পণ্যে দাম সামান্যও কমেনি বরং বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা।

সাধারণ মানের খেজুর গত বছর ছিল ২০০ থেকে ২৫০-২৮০ টাকা কেজি। এবার ভাল মানে খেজুর প্রকারভেদ ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রোজায় মুখরোচক নানা খাবারে চিনি ব্যবহার হয়। এর দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় এসব খাবারের দামও বাড়তে পারে। বাজারে চিনির কেজি এখন ১৪০- ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর যা ১১০ ছিল।

সাহাব উদ্দিন বলেন, মাসের সীমিত বেতনে মাসের বাজার খরচ সামলাতেই ঘাম ছুটে যায়। সেখানে রোজাকে সামনে রেখে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়েছে। রমজানে কীভাবে বাজার খরচ সামাল দেবো এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

অটোরিকশাচালক রতন বলেন, রোজাকে ঘিরে যে হারে দাম বেড়েছে তা আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের পকেটে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। হতাশার সঙ্গে তিনি বলেন, রোজায় কী হবে জানি না!

বিক্রেতারা বলেন, বাজার সকল পন্যের সরবারহ পর্যাপ্ত রয়েছে, রোজার কোনও পণ্যে সুখবর নেই। আমাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা দরে। সেই সঙ্গে খাসির মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়। গরুর মাংসের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, সোনালি মুরগি ও কক মুরগিরও দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।৫০০ টাকা উপরে কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে দেশী মুরগি, হাঁস।

কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায় লেবু,শসা,বেগুন সব সবজির দাম আকাশচুম্বী। হালি প্রতি লেবু ৬০টাকা,প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০, শিম ৫০, মুলা ৩০, ঝিঙে ৬০, বেগুন ৪০, পেঁপে ৩০, লাউ প্রতি পিস ৪০, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০, টমেটো প্রতি কেজি ৫০, ফুলকপি ৩০,দেশি আলু ৬০-৭০, কাঁচা মরিচ ৪০-৫০, গাজর ৪০ ও শিমের বিচি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সব ধরনের মাছের দাম বাড়তি যাচ্ছে। পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০, চাষের শিং মাছ ৪০০ থেকে ৫০০, রুই ৩২০ থেকে ৩৫০, চাষের কই ৩০০, দেশি ছোট কই ৬০০ টাকা, পাবদা মানভেদে ৩৫০ থেকে ৪০০, কাতলা মাছ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা,চিংড়ি ৮০০-১২০০টাকা,কালো চাঁদা ৩৫০-৬০০ টাকা, ইলিশ ১৮০০-২২০০ টাকা।

ভোক্তাদের দাম বাড়তির অভিযোগ থাকলেও রোজাকে কেন্দ্র করে বাজার তদারকিতে নিয়মিত মাঠে নাই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page