Wednesday, May 22, 2024

কুতুবদিয়ায় একমাস ধরে মন্দিরের চলাচলের পথ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বিগত এক মাস ধরে মন্দিরের চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে কুতুবদিয়া ইউএনও অফিসের সাবেক কর্মচারী চিন্তাহরণ নাথ।

প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে এলাকার হিন্দুদের প্রার্থনা থেকে বিরত রেখেছেন বলে অভিযোগ মন্দির কমিটির।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত কিছুদিন পূর্বে চিন্তাহরণ নাথ আদালতের রায়ে তার বাড়ির সামনের প্রতিবেশীর ঘরটি উচ্ছেদ করেন। তারপর থেকে কৈয়ারবিল মহাজন পাড়া হরি মন্দিরের রাস্তাটি মন্দিরের গেইটে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে দখল করে রাখেন। এতে বিপাকে পড়েন এলাকার কয়েক শতাধিক হিন্দু। তারা প্রার্থনা ও পূজা অর্চনা করতে পারছেন না।

মন্দিরের সভাপতি শ্যামল কান্তি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে এই মন্দিরে এলাকার হিন্দু পরিবারগুলো পূজা অর্চনা করে আসছে। চিন্তাহরন নিজেও পরিবার বর্গ নিয়ে এই মন্দিরে প্রার্থনা করেন। কিন্তু হঠাৎ দুর্লোভের বশীভুত হয়ে মন্দিরে যাতায়াতের পথটি তিনি বন্ধ করে দেন।

মন্দিরের নিয়মিত পূজারী রাখাল নাথ বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে আমি প্রতি বৃহস্পতিবারে প্রার্থনায় উপস্থিত হয়েছি। গত সরস্বতী পূজার পর থেকে মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে চিন্তা হরণ। আমরা এলাকার সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ প্রতি বৃহস্পতিবারে একসাথে এই মন্দিরে প্রার্থনা করি। এখন সেই প্রার্থনার পথটি বন্ধ।

স্থানীয় সুজিত চন্দ্র নাথ বলেন, কৈয়ারবিল মহাজন পাড়া মন্দিরে যাওয়ার পথটি চিন্তাহরণ অন্যায়ভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার আমাদের একটি বড় পূজা রয়েছে। আমরা চাই তার আগেই মন্দিরের পথটি খুলে দেওয়া হোক।

এলাকার এমইউপি বদিউল আলম বলেন, আমি বিষয়টি মন্দির কমিটির সাথে বসে সমাধান করার জন্য বলেছি।

কুতুবদিয়া পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব সেন জানিয়েছেন, মন্দিরের চলাচল পথ বন্ধ করে দেওয়া বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিন্তা হরণের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবর বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ের রাস্তা বন্ধ করে রাখার কোন সুযোগ নেই। এটা অবশ্যই খোলে দিতে হবে। অতিদ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দেন তিনি।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page