Thursday, May 23, 2024

অন্তর্কোন্দলে ঈদগাঁও পূজা উদযাপন পরিষদ: পকেট কমিটি নয়, সম্মেলন চায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেন্দ্র ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের
নির্দেশনা অমান্য , নিজেদের ইচ্ছে মতো ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠন, বিনা কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করা,তৃণমূল কর্মীদের বাদ দিয়ে কর্মসূচি পালন করা, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের না ডেকে সভা সমাবেশ করা, সিনিয়রদের সঙ্গে সমন্বয় না থাকা, উপজেলা কমিটিতে পছন্দের মানুষদের স্থান দেয়াসহ হরেকরকম অভিযোগ নিয়ে অন্তর্কোন্দলে জড়িয়েছে ঈদগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও ৪ ইউনিয়নের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর, মৃণাল আচার্য্যকে সভাপতি, জিকো দাশ (সুব্রত) কে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ঈদগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় তৎকালীন সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা। এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিকাশ কান্তি দে জানান, উপজেলা কমিটি অনুমোদনের পর থেকে সাধারণ সম্পাদক জিকো দাশ সুব্রত এবং কয়েকজন নেতা নিজের ইচ্ছে মতো সংগঠন চালিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক জিকো দাশ সুব্রত, সভাপতি মৃণাল আচার্য্যকেও বাদ দিয়ে নিজে একক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংগঠনে অন্তর্কোন্দল বাড়িয়েছে। তাদের এসব অগণতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগে ৪ ইউনিয়নের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৬ জনের স্বাক্ষরে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।অভিযোগে নানান অনিয়মের কথা উল্লেখ করে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানানো হয়।

ঈদগাঁও ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সত্যজিত দাশ গুপ্ত বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর জেলার আওতাধীন সকল মেয়াদ উত্তীর্ণ উপজেলা, পৌরসভা কমিটির দ্বি বার্ষিক সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সম্মেলন সম্পন্ন করতে ঈদগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদকে নির্দেশনা দেয়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্তরা সম্মেলন না করে গড়িমসি করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। এরই মধ্যে জেলা থেকে বার বার সম্মেলন সম্পন্ন করার তাগিদ দিলে রাতারাতি ইউনিয়ন সম্মেলন সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয় উপজেলা কমিটি। সত্যজিত দাশ গুপ্ত আরো বলেন, ৪ ইউনিয়নের কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় গেল ফেব্রুয়ারি মাসের ১০/১১ তারিখ ৪ ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন করতে ৮ ফেব্রুয়ারি নোটিশ ইস্যু করে। দুইদিনের ব্যবধানে সম্মেলন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না জানালে এক যোগে ৪ ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে তাদের অনুসারীদের দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করে। এটি গঠনতন্ত্র বিরোধী সিদ্ধান্ত হওয়ায় তারা জেলা কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আগের ইউনিয়ন কমিটি বহাল রেখে কথিত আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে। এ নিয়ে শুরু হয় অন্তর্কোন্দল, বিরোধ, বাকবিতন্ডা। ইউনিয়ন কমিটির এ সভাপতি আরো বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে যেই নেতৃত্বে আসবে তাকেই তারা মেনে নিবে। কিন্তু অযোগ্য ও বিতর্কিত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে মেনে নেয়া হবে না। প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ করা হোক।

পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতাকর্মীরা বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। এ কমিটি সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার আদায়সহ বিপদ আপদে পাশে থাকার সংগঠন। কিন্তু ঈদগাঁও উপজেলা কমিটিতে যা হচ্ছে খুবই বিব্রতকর। যা কারো কাম্য নয়। ঈদগাঁও পূজা উদযাপন পরিষদ দুই গ্রুপে বিভক্ত হবে কল্পনাও করা যায়নি। বিবদমান দুই গ্রুপ নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করার তাগিদ দেন সনাতন সম্প্রদায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তারা আরো বলেন, এ বিরোধ চলতে থাকলে সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ঈদগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ জিকো দাশ সুব্রতের মুঠোফোনে কয়েকবার রিং করা হলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা হয় কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বেন্টু দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদগাঁওতে দু’টি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে এটা সত্য। উপজেলা কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করতে নির্দেশ প্রদান করলেও তারা করতে ব্যর্থ হন। এক পক্ষ চাচ্ছে সম্মেলন আরেক পক্ষ চাচ্ছে আহবায়ক কমিটি। এ নিয়ে জেলার নীতি নির্ধারণী ফোরামও চরম বেকায়দায়। জেলার এ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি সাংগঠনিক নিয়মে কমিটি গঠন করতে বদ্ধপরিকর। দুই গ্রুপের বিরোধপূর্ণ সমস্যা সমাধান করতে আবারো বসা হবে। সিদ্ধান্ত না মানলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি হবে। তিনি আরো বলেন, সনাতন সম্প্রদায়ের অধিকার, মানমর্যাদা, মঠ মন্দির, মানুষের বিপদ আপদে যারা ছুটে আসবে তাদের মূল্যায়ন করা হবে ঈদগাঁও উপজেলা কমিটিতে। তিনি যেকোনো সময় সম্মেলন করতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ

You cannot copy content of this page